• সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৩১ ১৪৩১

  • || ০৭ মুহররম ১৪৪৬

রৌমারীতে উন্নয়নের দোহাই দিয়ে ফসলি জমি কেটে চলছে বালুর ব্যবসা

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ২৩ মে ২০২৩  

হাইকোর্ট ও মন্ত্রী পরিষদ থেকে সরকারীভাবে প্রশাসনকে দেয়া কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্বেও কোনো ভাবেই বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না কুড়িগ্রামের রৌমারীতে। 

এ উপজেলায় এক শ্রেণির প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ী ব্রহ্মপুত্র, সোনাভরি, জিঞ্জিরাম, ধর্ণী, হলিহলিয়া কালাপানি নদের তীর ঘেঁষে সারিসারি ড্রেজার ও ইস্কুভেটর (ভেকু) মেশিন বসিয়ে দিনরাত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। বালু উত্তোলনের ফলে বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে বসতবাড়ী, আবাদী জমি, সরকারী-বেসরকারী স্থাপনা ভেঙ্গে রৌমারীর মানচিত্র কমে যাচ্ছে। বাকিটুকু ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। অন্যদিকে নদের বামতীরে ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) চলমান প্রকল্প গুলোর লক্ষ ও উদ্দেশ্য ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গনের মুখেপড়া এলাকার সাধারণ মানুষ দ্রæত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ মোতাবেক একতিল পরিমাণ কৃষি জমি যাতে পতিত না থাকে ঠিক সেই সময়ে ড্রেজার, কাকড়া ও ভেকু দিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে রমরমা ব্যবসা করছে একটিচক্র। হুমকির মুখে পড়ছে  কোটি কোটি টাকা ব্যয় পাখিউড়া সোনাভরি নদীর ব্রীজ, তোরা রোডের নতুনবন্দর ব্রীজ, ইজলামারী ব্রীজ, রাবারড্রাম, ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বপাড় বেরিবাধ, চরশৌলমারী, বন্দবেড়, রৌমারী ও যাদুরচর ইউনিয়নের খেরুয়ারচর, ঘুঘুমারী, খেদাইমারী, বলদমারা, বাগুয়ারচর, পশ্চিম খনজনমারা, ফলুয়ারচর, পালেরচর, কুটিরচর, বাঘমারা, মিয়ারচর মুখতোলা, দিগলাপাড়া, ধনারচর, বকবান্দা, খেওয়ারচর, শ্মসানঘাট, চরনতুনবন্দর, ঝাউবাড়ি. চরফুলবাড়ি, দিগলেপাড়া, ধনারচর পশ্চিমপাড়া, আলগারচর ও বাগেরহাটসহ ২৮টি গ্রামের প্রায় ৭০ হাজার মানুষ বসতবাড়ি ও ফসলি জমি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। এবিষয়ে ক্ষতিগ্রস্থ জমি ও বাড়ির মালিকগণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ দিলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
একটি মহলের ছত্রছায়ায় বিভিন্ন নদীর চরের জমির মালিকের কাছ থেকে প্রতি সেপ্টি ১৬ টাকা হিসেবে বালু ও মাটি ক্রয় করেন বালু ব্যবসায়ী। পরে বালু ব্যবসায়ীরা ড্রেজার, কাকড়া ও ভেকুর মালিকদের সাথে চুক্তি করে ড্রেজারের মাধমে বালু উত্তোলন, কাকড়া ও ভেকু দিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। ড্রেজার মেশিন যে স্থানে বাসনো হয় সেখানে বিশাল এলাকা জুড়ে ৫০ থেকে ৭০ ফুট পর্যন্ত গভীরতার সৃষ্টি করে। কিছুদিন পর বন্যার পানির ¯্রােতে ওই স্থানের আশপাশের ফসলি জমি ও বাড়িভিটা পানির নিচে ডেবে যায়। এতে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়ে শতশত কৃষক নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করেন। ওই পরিবারগুলোর পূণর্বাসনের জন্য সরকারি ভাবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতি বছরেই ঢেউটিন, নগদ অর্থ ও ত্রাণ দেওয়া হয়। জমি ও বসতবাড়ির মালিকরা অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন, কাকড়া ও ভেকু দিয়ে মাটি কাটতে বাধা দিলে বালু ব্যবসায়ীচক্রটি তাদের উপর হামলাসহ নানা ভয়ভীতিও দেখানো হয় এবং থানা পর্যন্ত গড়ায়। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো ভয়ে কিছু বলতে সাহসপায় না। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাঝে মধ্যে তদন্ত করতে গিয়ে মেশিনের ২/৪টি পাইপ বা কয়েক হাজার টাকা ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা করলেও পরের দিন থেকে আবারো সক্রিয় হয়ে উঠে ড্রেজার মালিকপক্ষ।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান জানান, ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করায় ভাঙ্গনের কবলে  পড়ছে নদীর কিনারার মানুষ। অপর দিকে ভেকু ও কাকড়া দিয়ে মাটি কাটায় ফসলি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। আবাদি জমি কমে গেলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত সৃষ্টি হবে। এজন্য অবৈধ ড্রেজার, ভেকু ও কাকড়া বন্ধের জন্য সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসনের সুদৃষ্টি কমানা করছি। 
 

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল