• রোববার   ২৪ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ৮ ১৪২৮

  • || ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

আজকের টাঙ্গাইল

জিয়াউর রহমান কি আইএসআই-এর এজেন্ট নয়?

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর ২০২১  

চিঠিটি ১৯৭১ এর ২৯ মে লেখা। চিঠিতে তৎকালীন কর্ণেল বেগ, লিখেছেন, মেজর জিয়াউর রহমানকে। প্রথমেই চিঠির ভাষ্য পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করছি:-

Major Ziaur Rahman, Pak Army, Dacca
We all happy with your job. We must say, good job. you will get new job soon.
Don’t worry about your family. Your wife and kids are fine you have to be more careful about major Jalil.
Col. Baig Pak Army
May 29. 1971

মেজর জিয়াউর রহমান, পাক আর্মি, ঢাকা

তোমার কাজে আমরা সবাই খুশি। আমাদের অবশ্যই বলতে হবে তুমি ভালো কাজ করছো। খুব শীঘ্রই তুমি নতুন কাজ পাবে।

তোমার পরিবার নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ো না। তোমার স্ত্রী ও বাচ্চারা ভালো আছে। তোমাকে মেজর জলিল সম্পর্কে আরও সতর্ক থাকতে হবে।

কর্নেল বেগ, পাক আর্মি

মে ২৯, ১৯৭১।

এক্ষেত্রে ১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপটের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যাবে, চিঠি লেখার সময়কাল বলছে, সে সময় হানাদার পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে প্রাণপণ যুদ্ধে লিপ্ত বাঙালিরা। স্বাধীনতার জন্য বাঙালি জাতি মরণপণ সংগ্রাম করছে, চারদিকে অস্ত্রের ঝনঝনানি আর মৃত্যু। যেখানে মেজর জিয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সেক্টরের কমান্ডার, একজন মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছেন। আর কর্নেল বেগ, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অন্যতম কর্তা। সকাল-সন্ধ্যা বাঙালি নিধনের নির্দেশ দিচ্ছেন, ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করছেন। দুইজন সমর ক্ষেত্রে চরম প্রতিপক্ষ। অথচ কর্নেল বেগ বলছেন ‘তোমার কাজে আমরা খুশি।’ মুক্তিযোদ্ধা মেজর জিয়াকে শত্রু সেনাদের অন্যতম কর্তা কী এমন কাজ দিয়েছেন যে এতো রক্তক্ষরণ আর সম্ভাব্য পরাজায়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েও খুশি ছিলেন কর্নেল?

এ অংশ থেকে মুক্তিযুদ্ধকালীন অকথিত অধ্যায়ের একটি বিশাল অংশ আলোতে আসে। এর মানে কি এই যে, দৃশ্যত জিয়া মুক্তিযুদ্ধ করলেও আসলে তিনি ছিলেন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন? আর তাতে তিনি সফল হচ্ছিলেন? আর সেটা যে অনেকাংশেই বাস্তব তা বোঝাতে বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সময়ই তিলে তিলে খন্দকার মোশতাকদের ষড়যন্ত্রের জাল বোনা শুরু হওয়ার কথা আজ জাতি কিন্তু জানে। সে সময় পাকিস্তান সম্পূর্ণভাবেই মার্কিন কিসিঞ্জারের জাদুর কাঠির ইশারায় চলতো। আর শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ জয়ে গুপ্তচর ও আততায়ী ব্যবহারের ঘৃণ্য ও কাপুরুষোচিত রণকৌশলের জন্যে মার্কিনিরা সারা দুনিয়াতেই বেশ পরিচিত। যা থেকে বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক চাপের কারণে, বিশেষ করে ভারত ও রাশিয়ার প্রত্যক্ষ সমর্থনের ফলে উৎকণ্ঠিত ও দোসরদের যুদ্ধজয়ে মরিয়া কিসিঞ্জারের আত্মমর্যাদা যখন বিবস্ত্র প্রায়, তখনই এমন গুপ্তচর প্রেরণের মাধ্যমে নোংরা ষড়যন্ত্রের চাল শুরু হয়। যার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিশনে ছিলেন সম্ভবত জিয়া।

১৯৭৫ এর ১৫ই আগস্ট ষড়যন্ত্রে মোশতাক চক্রের সঙ্গে জিয়ার যোগাযোগের কথাও জাতি জানে। কিন্তু যেটি এই চিঠি স্পষ্ট করে দিয়েছে তা হলো ‘মুক্তিযোদ্ধা’ জিয়া আসলে ছিলেন স্বাধীনতাবিরোধী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর এজেন্ট। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি ষড়যন্ত্রের অন্যতম অংশ ছিলেন মেজর জিয়া। মুক্তিযুদ্ধের সময়ই তাকে পাকিস্তানিরা ‘বিশেষ দায়িত্ব’ দিয়েছিল, যে দায়িত্ব তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করেছিলেন। ৭৫ এ জিয়ার ভূমিকায় যারা হিসাব মেলাতে পারেন না, তাদের জন্য এই চিঠি একটি বড় উন্মোচন।

এই চিঠি প্রমাণ করে, জিয়া কখনও বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ছিলেন না, তিনি ছিলেন পাকিস্তানের ‘গুপ্তচর’। আর এ কারণেই ৭৫ এর ১৫ আগস্ট জিয়া মোশতাক চক্রকে সঙ্গে নিয়ে ইতিহাসের বর্বরোচিত এই ঘটনা ঘটান। এ কারণেই, ৭৫ এর পর জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করেছিলেন। যুদ্ধাপরাধে আটকদের মুক্তি দিয়েছিলেন। এ কারণেই, জিয়া গোলাম আযমকে দেশে ফিরিয়ে এনেছিলেন। এ কারণেই জিয়া আবার জামাতকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিলেন। এ কারণেই জিয়া, চিহ্নিত স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছিলেন। যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতা বিরোধীদের মন্ত্রী বানিয়েছিলেন, দলে নিয়েছিলেন। এ কারণেই জিয়া রক্তে ভেজা আমাদের সংবিধান কাঁটাছেড়া করে রক্তাক্ত করেছিলেন। এ কারণেই জিয়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধুলিসাৎ করেছিলেন।

একই কারণে জিয়ার মৃত্যুর পরও ১৯৯১ এ ক্ষমতায় এসে বিএনপি ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করেনি। এ কারণেই বেগম জিয়া স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি জামায়াতকে নিয়ে জোট করেছেন। এ কারণেই, ক্ষমতায় এসে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। এ কারণেই বেগম জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। প্রকাশ্যেই যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এ কারণেই তিনি জঙ্গি, মৌলবাদী সন্ত্রাসীদের মদদ ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন। 

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল