• বৃহস্পতিবার   ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ২৭ ১৪২৯

  • || ১৯ রজব ১৪৪৪

আজকের টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলে শারীরিক, বুদ্ধি ও বাকপ্রতিবন্ধীর এসএসসি জয়

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর ২০২২  

অদম্য ইচ্ছা শক্তির কাছে প্রতিবন্ধকতার পরাজয়। প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা হয়ে থাকতে চায় না। দাঁড়াতে চায় নিজের পায়ে।

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার শারীরিক প্রতিবন্ধী বদরুল আলম চৌধুরী, কালিহাতী উপজেলার বাক প্রতিবন্ধী সাজ্জাদ হোসেন এবং বুদ্ধি প্রতিবন্ধী জুনায়েদ তালুকদার নাফি এবারের এসএসসি পরীক্ষার কৃতকার্য হয়েছেন। তাদের সাফল্যে আনন্দিত স্কুলের শিক্ষক, সহপাঠী এবং অভিভাবকরা। তবে তাদের এ বিজয় স্বাভাবিকদের মতো সহজ নয়।


বাসাইল উপজেলার কাউলজানী নওশেরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের ছাত্র বদরুল আলম চৌধুরী ডান হাত দিয়ে লিখতে পারে না। সে বাম হাত দিয়ে একেবারে ধীরগতিতে লিখতে পারে। এবার এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে ৩.১১ পেয়ে পাশ করেছে। অনেক কষ্ট করে সে লেখাপড়া করে। শিক্ষকরা ওর প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছে। আমরা খুশি।


বদরুলের বাবা আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী পেশায় একজন ইলেক্ট্রিশিয়ান। তিনি বলেন, আমার ছেলের ছোট বেলা থেকেই ডান হাত ডান পা অস্বাভাবিক। সে সরকারি তালিকাভুক্ত একজন প্রতিবন্ধী। তবুও এসএসসি পাস করেছে-এতেই আমি সন্তুষ্ট।


বদরুল আলম চৌধুরী বলে আমি ডান হাত দিয়ে লিখতে পারি না, খেতে পারি না, কাজ করতে পারি না। ডান পা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারি না। মোট কথা ডানপাশ আমার অবশ বলা চলে। অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করে পাস করেছি। এখন খুব আনন্দ লাগছে। আমার স্যার, সহপাঠী এবং পরিবারের সদস্যরা সবাই আমাকে খুব আদর এবং সহযোগিতা করেন। আমি বড় হয়ে চাকরি করব। কারো ওপর যেন বোঝা হয়ে না থাকতে হয় আমাকে।


এদিকে কালিহাতী উপজেলার মসিন্দা চেচুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রতন কুমার দত্ত বলেন আমাদের বাক প্রতিবন্ধী ছাত্র সাজ্জাদ হোসেন ৩.৫৬ পেয়ে মানবিক বিভাগ থেকে পাস করেছে। সে উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। সাজ্জাদ এলেঙ্গা কেন্দ্রে পরীক্ষা দেয়।

একই উপজেলার করিমুন্নেসা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম বলেন জুনায়েদ তালুকদার নাফি একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ছেলে। ওর কথাবার্তা অসংলগ্ন এবং মনে রাখার শক্তি কম। তবুও এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৪.৩৯ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। সে রাজাফৈর গ্রামের সজিব তালুকদারের ছেলে। প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে পরীক্ষায় সে অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় পেয়েছে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের সরকারি মওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের অধ্যক্ষ শহীদুজ্জামান মিয়া বলেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের দৃঢ় মনোবল এবং অদম্য ইচ্ছা শক্তির কাছে প্রতিবন্ধকতা পরাজিত হয়ে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় তাদের এসএসসি পরীক্ষায় পাস করা সত্যি প্রশংসনীয় ও সম্মানের।

তারা সমাজের বোঝা নয়। তাদের পাশে থেকে আমাদের সকলের উৎসাহ দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে। সমাজের মূল স্রোতের সঙ্গে তাদেরকে অংশগ্রহণ করাতে হবে। তবেই দেশ ও জাতির কল্যাণ বয়ে আনবে।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল