• শনিবার   ০২ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১৮ ১৪২৯

  • || ০৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

আজকের টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলে প্রতারনা মামলায় অটবির ৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২২  

টাঙ্গাইলে প্রতারণা, চেক জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় অটবি লিমিটেডের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। টাঙ্গাইলের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বাসাইল আমলি আদালতের বিচারক মুছা. রুমা খাতুন এ পরোয়ানা জারি করেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) বিকালে মামলার বাদী অটবি লিমিটেডের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও কোম্পানির সচিব মোহাম্মদ শামীম মিয়া এ তথ্য জানান।

এই ছয় আসামি হলেন- অটবির চেয়ারম্যান ফাল্গুনী কুন্ডু, তার ছেলে ও প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিমেষ কুন্ডু, মেয়ে ও পরিচালক অমিতি কুন্ডু, প্রধান হিসাব কর্মকর্তা শেখ আসাফুজ্জামান, প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা শাহেদ আলম ও ডেপুটি ম্যানেজার আবুল বাশার। মামলার বাদী মোহাম্মদ শামীম মিয়া টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাশিল দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, অটবি লিমিটেডের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও কোম্পানির সচিব মোহাম্মদ শামীম মিয়াকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ওই সময় প্রতিষ্ঠানটি তার বেতনভাতাদি, গ্র্যাচুইটি, প্রভিডেন্টফানসহ বিভিন্ন পাওনা পরিশোধ করেনি। প্রতিষ্ঠানটির কাছে তিনি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার টাকা পাবেন। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে কয়েকটি চেক দেওয়া হয়। তবে অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকায় তাকে দেওয়া চেকগুলো ডিজঅনার হয়। এতে ওই ভুক্তভোগী পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাকে উল্টো হুমকি দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় গুলশান থানায় তিনটি সাধারণ ডায়েরি করেন শামীম মিয়া। এরপর চলতি বছরের ৫ মে টাঙ্গাইল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিষ্ঠানটির মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। গত ১৪ মে তাদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ থাকলেও তারা হাজির হয়নি। এ জন্য মঙ্গলবার (১৪ জুন) তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন টাঙ্গাইলের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বাসাইল আমলি আদালতের বিচারক।

মামলার বাদী শামীম মিয়া দাবি করেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি বেতন-ভাতাসহ পাওনা পরিশোধ না করেই আমাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়। বিভিন্ন সময় পাওনা ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার টাকা চাইতে গেলে হুমকি দেয়। একপর্যায়ে পাঁচটি চেক দেওয়া হয়। সেখান থেকে একটি চেকের টাকা উত্তোলন করতে পারলেও বাকি চারটি চেক ডিজঅনার হয়। পরে অটবির মালিক, এমডি, পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করলে আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা দিয়েছেন।

গ্রেফতারি পরোয়ানার খবর শুনে অটবির প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা শাহেদ আলম ফোনে মামলা তুলে নিতে বলেন। মামলা না তুললে প্রাণনাশের হুমকি দেন। হুমকির বিষয়েও ঢাকার বাড্ডা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি।’

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী আজহার জহুর খান বলেন, ‘অটবির মালিকসহ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এর আগে আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন হয়। কিন্তু তারা ওই তারিখে আদালতে হাজির হননি। দ্বিতীয় তারিখেও তারা আদালতে হাজির না হওয়ার কারণে আদালতের বিচারক তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।’

অটবির প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা শাহেদ আলম দাবি করেন, ‘সমন জারির বিষয়টি শামীম সাহেব (বাদী) গোপন রেখেছিলেন। সমনের বিষয়টি জানলে আদালতে উপস্থিত হতাম। মামলার বিষয়টিও জানা ছিল না। এখন শুনতেছি, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।’

তিনি আরও দাবি করেন, ‘মোহাম্মদ শামীম মিয়া টাকা পাবেন কোম্পানির কাছে। তিনি নিজেও এমডির সঙ্গে একটা জালিয়াতি করে টাকা আদায় করে নিয়েছেন। তিনি টাকা পেলে কোম্পানির কাছে পাবেন। এখন তো আমি চাকরি ছেড়ে দিয়েছি। কোম্পানি তাকে টাকা না দিলে আমি কী করবো।’

তিনি মোহাম্মদ শামীম মিয়াকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল