• শনিবার ২২ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৮ ১৪৩১

  • || ১৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

সর্বশেষ:

ননদের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন?

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩  

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্কের একটা নিজস্ব সমীকরণ থাকে। কোনো কোনো সম্পর্ক বড়ই মধুর আবার কোনো সম্পর্ক টক-ঝাল-মিষ্টি। তবে কোনো কোনো সম্পর্ক আমাদের জীবনে শুধুই তিক্ততার কারণ হয়ে ওঠে। পুরুষ এবং নারী নির্বিশেষে, প্রত্যেকের জীবনেই এই ধরনের অভিজ্ঞতা থাকে। তিক্ত সম্পর্ক আমাদের মনখারাপের কারণ হয়ে ওঠে।
একজন মেয়ে যখন বিয়ের পর নতুন সংসারে যান, তখন তার আশা থাকে যে, এই সময়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্য তাকে আপন করে নেবেন। অনেকের সেই আশা পূরণ হলেও অনেকেরই তা হয় না। কারো কারো ননদের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে। বারবার তারা ননদের বিরুদ্ধে খারাপ ব্যবহারের অভিযোগ করেন। যদিও তারপরেও সমস্যা সমাধান হয় না। আপনিও যদি এরকম পরিস্থিতিতে থাকেন, তবে কী করবেন আপনি? জেনে নিন ঝটপট। 

ননদের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন
ননদের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক ঠিক কেমন, আপনি কী তার থেকে বয়সে বড় নাকি ছোট? বয়সে ছোট হলে ননদের কাছে ডমিনেট হয়ে থাকেন অনেকেই। জোর করে পরিবারের এই নতুন সদস্যের উপর অনেক কিছু চাপিয়ে দিতে চান তারা। সেই থেকে সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে। আর আপনি যদি বয়সে বড় হন, তাহলে আপনার উপরে নতুন করে অনেক দায়িত্ব এসে পড়ে। অনেক সময়ে বয়সে ছোট ননদ যদি কিছু অন্যায়ও করেন, তাহলে ছোট বলে তাকে মাফ করে দিতে হয়। আপনি কোন পরিস্থিতিতে আছেন?

আপনার সঙ্গে নিত্য অশান্তি
পরিবারে নতুন কোনো সদস্য এলে তার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলার পরিবর্তে অনেকেই তাকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেন। আর ঠিক এই কারণেই অশান্তির সূত্রপাত হয় বলে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞই। ননদ আপনার পরিবারেরই সদস্য। তাই সেই সংসারে আপনি যাওয়ার পরেই আপনাকে নিয়ে হয়তো কোনোভাবে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আর সেই থেকেই দানা বাঁধে অশান্তি। ছোট ছোট বিষয়ও ভাগ করে নিতে নারাজ হন তারা। এমনকি অনেকেই অভিযোগ করেন, ননদরা তাঁদের সঙ্গে উঠতে বসতে অশান্তি করেন। নিরাপত্তাহীনতার জন্যে এমনটা হতে পারে।

স্বামীর সঙ্গে তৈরি হচ্ছে দূরত্ব
অনেক মহিলা এমন অভিযোগও করে থাকেন যে, তার ননদরা তাকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেন না। সেই কারণে শুধু তার সঙ্গে ঝগড়া করেন এমন নয়, নিজের দাদা বা ভাইয়ের কানো ভাঙান। রাতদিন স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ব্যক্তিগত বিষয়ে তারা হস্তক্ষেপ করেন। নাহলে বউদির নামে মিথ্যে কথাও বলে তার স্বামীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন অনেকেই। আপনার পরিস্থিতিও যদি এরকমই হয়, তবে বুদ্ধি করেই এই পরিস্থিতি এড়িয়ে যেতে হবে আপনাকে।

কীভাবে পরিস্থিতি আসবে হাতের মুঠোয়
আপনি ননদের সঙ্গে প্রথমেই একটি সীমারেখা তৈরি করুন। আপনি যেমন তার ব্যক্তিগত জীবনে কোনও হস্তক্ষেপ করেন না। একইভাবে তিনিও আপনার ব্যক্তিগত জীবনে কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারেন না, এটা তাকে ভালো করে বুঝিয়ে দিন। এই সীমারেখা আপনারা কেউ অতিক্রম করবেন না। আপনিও যেমন এটা মেনে চলবেন, তাকেও যে মেনে চলতে হবে এটা তার কাছে স্পষ্ট করে দিন।তিনি যদি ছোট ছোট বিষয় নিয়ে অশান্তি শুরুও করেন, আপনি তাকে কোনোভাবে প্রশ্রয় দেবেন না। তাকে বলে দিন যে, এরকম আপনি পছন্দ করছেন না। এর ফলে আপনাদের সম্পর্ক খারাপ হচ্ছে। একে অপরকে সম্মান করার প্রস্তাব দিন।

রইল শেষ পরামর্শ
কোনো অন্যায় আবদার যেমন মেনে নেবেন না। দিনের পর দিন তার অন্য়ায় মেনে নেয়া মানে অন্যায়কেই প্রশ্রয় দেওয়া হয়। সেটা খেয়াল রাখুন। নিজের অধিকার বুঝিয়ে দেওয়ার দায়িত্বও আপনার।

শেষে কোনোভাবেই যদি পরিস্থিতি ঠিক না হয় তবে, একবার ননদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারেন। কীভাবে এই সম্পর্ক আগের মতো ঠিক করা যায়, সেই আলোচনা করতে পারেন।

একদম শেষে আপনি আপনার স্বামীর সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলতে পারেন। তবে আপনার বলা কথায় যেন কোনো অভিযোগের সুর না থাকে। আপনি তার বোনের বিষয়ে কথা বলছেন, তা খেয়াল রাখুন। এমন করে কথাগুলো বলুন যেন, আপনি শুধু নিজের সম্মান নিয়ে চিন্তিত। কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল