• শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ২৯ ১৪৩১

  • || ০৫ মুহররম ১৪৪৬

রক্তদানই নেশা শিক্ষক হুমায়ুন কবীরের!

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ২১ জুন ২০২৪  

ভোলার লালমোহন উপজেলার একজন স্কুলশিক্ষক মো. হুমায়ুন কবীর স্বরবর্ণ। তিনি উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব চরউমেদ এলাকার আব্দুল ওয়াদুদ মাস্টারের ছেলে। 
তিনি লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের হাজী রশীদ আহমেদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। হুমায়ূন কবীর স্বরবর্ণের এখন বয়স ৪১। এ পর্যন্ত তিনি ৫১ বার স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে বিভিন্ন ধরনের রোগীকে রক্তদান করেছেন। এছাড়াও তিনি সোস্যাল সার্ভিস অ্যান্ড ব্লাড ডুনেশন (এসএসবিডি) নামে একটি সামাজিক এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পরিচালনা করছেন। যার মাধ্যমে শত শত মানুষের রক্তের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন হুমায়ুন কবীর (স্বরবর্ণ)।

তিনি বলেন, আমার রক্তের গ্রুপ ‘এ পজেটিভ’। আমার রক্তদানের শুরু ২০০২ সাল থেকে। তখন ভোলা সরকারি কলেজে বাংলা বিষয় নিয়ে অর্নাসে অধ্যয়নরত। কলেজের রোভার স্কাউটে যোগ দেওয়ার পর থেকে রক্তদানে আরো উৎসাহী হই। এরপর ভোলা জেলার সিনিয়র রোভারমেট হিসেবে দীর্ঘক্ষণ দায়িত্ব পালন করার সুবাদে ভোলা জেলাসহ বিভিন্ন জায়গায় নিজেও রক্ত দেই এবং রক্ত সংগ্রহ করার ব্যবস্থা করি। যা এখনও চলমান রয়েছে। এ পর্যন্ত ৫১ জনকে রক্ত দিয়েছি। যাদের রক্ত দিয়েছি তাদের মধ্যে আছেন- ডেলিভারি, থ্যালাসেমিয়া, ক্যান্সার, রক্তশূন্যতা ও দুর্ঘটনায় আহত রোগী।

রক্তদাতা হুমায়ুন কবীর (স্বরবর্ণ) আরো জানান, আমার দেওয়া রক্তে একটি পরিবারের মুখে হাসি ফুটছে, বেঁচে যাচ্ছে একটি জীবন। এর চাইতে বড়প্রাপ্তি আর কিছুই হতে পারে না। তাই যতদিন রক্তদানের সুযোগ থাকে এবং ততদিন স্বেচ্ছায় অসহায় রোগীদের রক্ত দিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ। অন্যদিকে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে নিজ এলাকার স্থানীয় কিছু যুবকদের নিয়ে সোস্যাল সার্ভিস অ্যান্ড ব্লাড ডুনেশন (এসএসবিডি) নামে একটি সামাজিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছি। যার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে রক্ত। যতদিন বেঁচে আছি ততদিন আমাদের এই সংগঠনেরও মানবিক কার্যক্রমগুলো চলমান থাকবে।

লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. অতনু মজুমদার বলেন, যেহেতু আমাদের শরীরের লোহিত রক্ত কনিকা ১২০ দিন পরপর পরিবর্তন হয়ে যায়। তাই যেকোনো প্রাপ্ত বয়স্ক এবং সুস্থ মানুষ প্রতি ৩ থেকে ৪ মাস পরপর রক্ত দিতে পারবেন। এই রক্তদানের মাধ্যমে অনেক সময় একজন রোগীর জীবনও বেঁচে যায়। তাই যারা রক্তদান করেন, তাদের এটি একটি নিঃসন্দেহে মহৎ কাজ। 

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল