• শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ২৯ ১৪৩১

  • || ০৫ মুহররম ১৪৪৬

সিলেট-সুনামগঞ্জে প্লাবিত হচ্ছে আরো নতুন নতুন এলাকা

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ১৮ জুন ২০২৪  

সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে হু হু করে বাড়ছে পানি। এরই মধ্যে প্লাবিত হয়েছে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চল। ডুবে গেছে সড়কও। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। জানা যায়, টানা পাঁচদিনে উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট, কোম্পানি গঞ্জসহ বেশ কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে জেলায় প্রায় দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি। বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঈদের দিন কোরবানির পশুর মাংস, শুকনো খাবার, স্যালাইন ও ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি পানিবন্দি মানুষদের উদ্ধারে কাজ করছে। খোলা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, গোয়াইনঘাট থেকে সিলেটের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে সারিঘাট, রাধানগর, ফতেহপুরের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন রয়েছে সিলেটের সড়ক যোগাযোগ। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, সিলেটে সুরমা, কুশিয়ারা, সারি নদীর পানি ছয়টি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে, সোমবার দিবাগত রাতে সুনামগঞ্জে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে ফের সুরমা নদীর পানি বেড়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করেছে। সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫২ সেন্টিমিটার ও ছাতক পয়েন্টে ১৩৮ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবার ভোররাত থেকে সুনামগঞ্জে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের ফলে শহরে ফের পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। সুনামগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবেশ করতে শুরু করায় অনেকেই আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে। ডুবে থাকা সড়কে চলছে নৌকা-স্পিডবোট। সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ আশ্রয়কেন্দ্রে ৫০টি পরিবার এরইমধ্যে আশ্রয় নিয়েছে। বসতভিটায় পানি ওঠায় বাধ্য হয়ে সোমবার রাত থেকে পরিবার পরিজন ও গৃহপালিত পশু নিয়ে এখানে আশ্রয় নিয়েছে শ্রমজীবী মানুষগুলো। গ্রামীণ সড়ক একের পর এক ডুবছে। জেলার ছাতক থেকে গোবিন্দগঞ্জ সড়কের প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশ বানের পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব সড়কের ওপর দিয়ে তীব্র স্রোত যাচ্ছে। এছাড়া, সোমবার থেকেই প্লাবিত আছে জেলার ১০ উপজেলার শতাধিক গ্রাম। ভোগান্তিতে আছে দুই লাখের বেশি মানুষ। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জেলার সুনামগঞ্জ সদর, শান্তিগঞ্জ, ধর্মপাশা, দিরাই, জগন্নাথপুর, ছাতক, দিরাই, দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলার অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক পনিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এসব উপজেলার বাসিন্দারা। এই ১০ উপজেলার শতাধিক গ্রামের বসতভিটায় পানি আসায় মানুষ দুর্বিসহ জীবনযাপন করছেন। নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে চারদিকে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এজন্য সবাইকে সচেতন থাকার আহবান জানান জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার। আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টা রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়; ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। এর আগে গতকাল সোমবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দেওয়া পূর্বাভাসে এসব এলাকার নদ–নদীর পানি পানি দ্রুত বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল