• রোববার ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ||

  • অগ্রহায়ণ ১৮ ১৪৩০

  • || ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৫

আজকের টাঙ্গাইল

ঢাকায় ১ লাখ ইমামের সমাবেশ আগামী ৩০ অক্টোবর

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০২৩  

এবার ঢাকায় এক লাখ ইমামের সমাবেশ হচ্ছে। সারাদেশে সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গিবাদবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করার বার্তা দেওয়া হবে এ সম্মেলনে। নির্বাচন সামনে রেখে ধর্মান্ধ মৌলবাদী গোষ্ঠী যাতে ধর্মপ্রাণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে না পারে সেজন্য ইসলামের প্রকৃত চেতনায় সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হবে এ সম্মেলনে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন। আগামী ৩০ অক্টোবর এ সম্মেলনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ সমাবেশের উদ্যোক্তা। রাজধানীর উপকণ্ঠ পূর্বাচলের বাণিজ্যমেলার ভেন্যুতে ডাকা হচ্ছে দেশের ইতিহাসে এই বৃহৎ ‘ইমাম কনফারেন্স ২০২৩’। এতে সারাদেশের এক লাখ মসজিদের ইমাম অংশ নেবেন। কনফারেন্সকে আরও আকর্ষণীয় ও সফল করতে সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা শরীফের একজন ইমামকে কনফারেন্সে আনা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ আব্দুর রহমান সুদাইসীকে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
জানা গেছে, কনফারেন্সে ইমামদের জন্য সরকারি অনুদান সংক্রান্ত বেশ কিছু দাবিও মেনে নেওয়ার ঘোষণা আসতে পারে। এ ছাড়া উদ্বোধন করা হতে পারে আরও ৫০টি মডেল মসজিদ। উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার এ পর্যন্ত সারাদেশে ২৫০টি মডেল মসজিদ চালু করেছে। আরও অন্তত ৫৭৫টি মডেল মসজিদ তৈরির পরিকল্পনা হাতে  নেওয়া হয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, প্রথমবারের মতো এ ধরনের বড় কনফারেন্সে অন্তত এক হাজার ইমামকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হবে। কুরআন তেলাওয়াত, জুমার বয়ান ও সামাজিক কর্মকা-ে শ্রেষ্ঠত্বের অবদানস্বরূপ এসব অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হবে। 
ইসলামিক ফাউন্ডেশান সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে সারাদেশের মসজিদগুলোকে বাছাই করে ইমামদের তালিকা করা হয়েছে। বিগত ১৫ বছরে বর্তমান সরকারের নেওয়া ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক উন্নয়ন ও ইসলামের মূল্যবোধের আলোকে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের সুফল তুলে ধরার দায়িত্বে ইমামরাই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন- এমন বাস্তবতা থেকেই এ কনফারেন্সের আয়োজন করা হচ্ছে। বর্তমান সরকারই যে ইসলামের প্রকৃত সেবক হিসেবে যথাযথ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে ইমামদের সে বার্তাই দেওয়া হবে। 
এ বিষয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান জনকণ্ঠকে বলেন, বর্তমান সরকার ইসলামের সেবক হিসেবে যে অবদান রেখেছে, যে উন্নয়ন  করা হয়েছে, সেটা ব্যাপকভাবে জনগণের দোড়গোড়ায় পৌঁছাতে হলে ইমামরাই কার্যকর ভুমিকা রাখতে পারে। আমরা চেষ্টা করছি, এই কনফারেন্সটা শতভাগ সফল করতে।
এ বিষয়ে হজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) সভাপতি শাহাদত হোসাইন তসলিম জনকণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম সমস্যা জঙ্গিবাদ ও উগ্র ধর্মান্ধদের আগ্রাসন থেকে ধর্মপ্রাণ মানুষকে রক্ষা করতে হলে ইমামদেরই দায়িত্ব নিতে হবে। তারাই ঘরে ঘরে বার্তা পৌঁছে দিতে পারেন, যাতে মানুষকে ধর্মের নামের কেউ বিপথগামী করতে না পারে। পাশাপাশি আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি সৌহার্দ প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রেও ইমামরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। সেজন্যই এমন একটি সম্মেলনের প্রস্তুতি চলছে।
এ বিষয়ে ঢাকার একটি মসজিদের ইমাম বলেন, এবারের কনফারেন্স উভয়পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে। নির্বাচনের আগে সরকার তার ভবিষ্যত বার্তা ইমামদের মাধ্যমে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবে। অন্যদিকে ইমামরাও এ সুযোগে তাদের বেশকিছু পুরনো দাবি দাওয়া আদায় করে নেবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকার হজ ক্যাম্প মসজিদের ইমাম ক্বারি মাওলানা জাহাঙ্গীর বলেছেন, ইমামদের দাবি দাওয়ার ক্যাটাগরি রয়েছে। কারণ ইমামরা দু-তিন ক্যাটাগরিতে রয়েছেন। আমরা যারা সরকারি মসজিদের ইমাম তারা একটা ন্যূনতম মানদ-ে বেতন পাচ্ছি। যারা বিভিন্ন সেক্টর, করপোরেশনে রয়েছেন তারা অন্য ধরনের বেতন ভাতাদি পান। আর সারাদেশের বেসরকারি মসজিদের ইমামরা তো কিছুই পাননি। তাদের যদি  অন্তত একটা থোক বরাদ্দ হিসেবে মাসিক ন্যূনতম একটা বেতন দেওয়া যায় সে দাবি দীর্ঘদিনের। তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রি আলেম-ওলামা ও ইমাম মাশায়েখদের প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতিশীল। তার কাছে যদি দাবি সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারি, তিনি এসব দাবি অনায়াসেই মেনে নেবেন। সেজন্যই এ কনফারেন্সের দিকে  দেশের ইমামদের একটা বিশেষ নজর রয়েছে।
জানা গেছে, বিগত বছরগুলোতে সারাদেশের যেসব ইমামকে ঢাকায় ইমাম ট্রেনিং একাডেমিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, শুধু তাদেরই আমন্ত্রণ জানানো হবে এ কনফারেন্সে। এক লাখ ১৫ হাজার ইমাম এ ধরনের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৭৬ হাজার গ্রামে ফিরে গিয়ে শিক্ষক হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন। ইমাম ছাড়াও সরকার সমর্থক মেধাবী, আলেম ওলামা, ও মাশায়েখদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল