• শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ২৯ ১৪৩১

  • || ০৫ মুহররম ১৪৪৬

বৈঠার ছলাৎ-ছলাৎ শব্দে মুখর দুই পাড়

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩  

শহরের যান্ত্রিক কোলাহল আর বিদেশি সংস্কৃতির আড়ালে দিনদিন হারাতে বসেছে বাঙালির প্রাণের উৎসব আর সংস্কৃতি। সেই তালিকায় রয়েছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে মানিকগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা।
সোমবার বিকেলে জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস উপলক্ষে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে ধলেশ্বরী নদীর দশানী খেয়াঘাট এলাকায় এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

জানা যায়, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে খেল্লা, ঘাসি, কোসা, চৈলা মিলে- এমন নামে মোট আটটি বাইচের নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এ প্রতিযোগিতা দেখতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে দুপুর থেকেই জড়ো হতে থাকে হাজারো মানুষ। নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধের হইহুল্লোড়ে মেতে ওঠে নদীর দুই তীর। মাঝি-মাল্লাদের বৈঠার ছলাৎ-ছলাৎ শব্দের তালে ঢেউ ওঠে নদী তীর এলাকায়। এ প্রতিযোগিতা দেখে নির্মল আনন্দ উপভোগ করেন দুই পাড়ে অবস্থান করা অন্তত ২০ হাজারের বেশি দর্শক।

দৌলতপুর উপজেলা থেকে নৌকা বাইচ দেখতে আসা অ্যাডভোকেট আখিনুর ইসলাম জানান, তারা কয়েকজন বন্ধু মিলে এসেছেন নৌকা বাইচ দেখতে। তাদের ভাষায় এবার তেমন বর্ষা হয়নি, তাই বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসতে পারেনি বড় বড় নৌকা। তারপরও গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে সংশ্লিষ্টদের পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন।

সাদিয়া খান নামে এক গৃহবধূ জানান, তার বিয়ে হয়েছে অন্য উপজেলায়। নৌকা বাইচ উপলক্ষে প্রতি বছরই তারা সব বোন মিলে বাবার বাড়ি আসেন। তিনিও স্বামী-সন্তান নিয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন। এ উৎসব তাদের অনেক আনন্দ বাড়িয়ে দেয়।

কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিপ্লব হোসেন সেলিম বলেন, দশানী খেয়া ঘাটের নৌকা বাইচ মানিকগঞ্জে অন্যান্য নৌকা বাইচের মধ্যে অন্যতম। তবে এবার নদীতে পানি না থাকায় দূরের নৌকা সেভাবে আসেনি। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে দিনদিন নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে গ্রামীণ এ ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা প্রয়োজন।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যোতিশ্বর পাল বলেন, স্থানীয় সরকার দিবস উপলক্ষে মানিকগঞ্জের ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতিকে তুলে ধরার জন্য এ নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়েছে। উৎসব মুখোর পরিবেশে আমরা আয়োজন করতে পেরেছি। ভবিষ্যতে এই সংস্কৃতি ধরে রাখাতে উপজেলা প্রশাসন সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

চার ধাপের প্রতিযোগিতায় আটটি অংশগ্রহণকারী দলকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন হয় গাজীবাড়ির নৌকা। আর জনতা এক্সপ্রেস দ্বিতীয় ও সোনার তরী নৌকা হয় তৃতীয়। প্রথম বিজয়ী গাজীবাড়ি নৌকাকে একটি ফ্রিজ, দ্বিতীয় জনতা এক্সপ্রেস এবং তৃতীয় বিজয়ী সোনার তরীকে একটি করে রঙিন টেলিভিশন দেওয়া হয়েছে।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল