• শুক্রবার ৩১ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৬ ১৪৩১

  • || ২২ জ্বিলকদ ১৪৪৫

আজকের টাঙ্গাইল

আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র ব্যাহত হতে দেবে না

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৩  

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আজকের শান্তি সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে করা হবে জানিয়ে বলেছেন, আওয়ামী লীগ শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করে দেখিয়ে দেবে অশান্তির বিরুদ্ধে এই দলের অবস্থান। আমরা শান্তির পক্ষে। তবে বিএনপির দুরভিসন্ধি আছে। সাম্প্রদায়িক আরও দুই-একটি শক্তি নিয়ে তারা অপকর্ম করতে চাইবে। তাই নেতাকর্মীদের সতর্ক এবং কড়া পাহারায় থাকতে হবে। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র ব্যাহত হতে দেবে না, এটা আমাদের প্রতিজ্ঞা। শুক্রবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, তারা (বিএনপি-জামায়াত) নির্বাচনকে সামনে রেখে অগ্নিসন্ত্রাস-নাশকতা করে কি না, মানুষ ভয় পাচ্ছে। তবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বেঁচে থাকতে গণতন্ত্র ব্যাহত হতে দেবে না। বারবার অপশক্তিকে মাথা তুলে দাঁড়ানোর সুযোগ দেওয়া উচিত না। এই অপশক্তির চিরতরে অবসান ঘটাতে হবে।

আগামী নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যসংক্রান্ত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন নিয়ে কোনো সংশয় নেই। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশনের কোনো বিচ্ছিন্ন, বিক্ষিপ্ত বক্তব্যকে পুঁজি করে গোটা নির্বাচন নিয়ে চিন্তার সুযোগ নেই। একটি বিষয়ে একেকজন একেক ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করতে পারেন। নির্বাচন হবে না বা নির্বাচন নিয়ে তাদের ভিন্ন চিন্তা আছে, এমন তো বলেনি। অতএব, এই বিচ্ছিন্ন, বিক্ষিপ্ত বক্তব্য নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করা ঠিক হবে না।

আজ রাজধানীতে আওয়ামী লীগের শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশের সার্বিক প্রস্তুতিসহ উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে দলীয় বক্তব্য তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সভাপতিম-লীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব) মুহাম্মদ ফারুক খান, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা বাংলাদেশের আরও একটি মুক্তিযুদ্ধ। এটাতে জিততে পারব যদি ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারি। সতর্ক থাকতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে মাঠে থাকার কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখারও কোনো বিকল্প নেই।

দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছেন জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা মরতে হলেও মরব, তবুও মাঠ ছাড়ব না। আমরা ক্ষমতায় আছি। আমরা কেন অশান্তি সৃষ্টি করতে চাইব? আওয়ামী লীগ অশান্তি চায় না, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায়। যারা নির্বাচন করতে আগ্রহী নয়, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বানচাল করতে চায়- তারাই অশান্তির পক্ষে। তারাই বিশৃঙ্খলা করে শান্তির পরিবেশটা ধ্বংস করতে চায়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করেছে আদালত। এ ব্যবস্থা নিয়ে আমরা ফাইট করেছিলাম। কিন্তু এই ব্যবস্থাকে বিতর্কিত করেছে তারা। বিচারপতি খায়রুল হক সংবিধানকে কচুকাটা করেননি, বরং সঠিক জায়গায় পুনস্থাপন করেছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রয়োজন নেই, তিনি রায় দিয়েছেন। এটা কি অন্যায় করেছেন? পৃথিবীর অনেক দেশ থেকেও বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও পরিশীলিত। এটা আমরা বিদেশী কূটনীতিকদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি বলেন, বিএনপি বুঝতে পেরেছে, জনগণের ভোটে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে পরাজিত করা সম্ভব নয়। তাই তারা ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে, সন্ত্রাসের পথে এগোচ্ছে। এদের মতলব সম্পর্কে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। আর বিএনপি দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে। যার কারণে নিজেদের ক্ষুধার আগুন নেভাতে মরণ কামড় দেবে। বিএনপির ইতিহাস হলো অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল ও স্বৈরশাসনের ইতিহাস। ভোট কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতা দখল ও হত্যা-ধর্ষণের এবং দুর্নীতির ইতিহাস। বারবার বিশে^ বাংলাদেশকে কালিমা লেপন করেছে। দুর্নীতি করে নিজের আখের গোছায়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশের শান্তি-উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে একটি চিহ্নিত মহল সন্ত্রাস করার চেষ্টা করছে। গণতান্ত্রিক ধারা ব্যাহত করার অপচেষ্টা করছে। বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে দেশী-বিদেশী মহল আবারও দেশে নৈরাজ্য করতে চায়। এরাই ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে অগ্নিসন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ ও মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি করেছে। এই স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রধান অন্তরায়। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বেঁচে থাকতে দেশের গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, উন্নয়নের অগ্রযাত্রা কোনো কিছুই ব্যাহত হতে দেবে না।

রাজনৈতিকভাবে বিএনপির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নেতাকর্মীদের প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, সার্বিক পরিস্থিতির আলোকে এ সমস্যাগুলোর সমাধান করতে চাই। বিএনপি নামের অপশক্তিকে বারবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া উচিত নয়। এই অপশক্তির সঙ্গে আপোস করতে পারি না, এদের চিরতরে অবসান ঘটাতে হবে। সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই অপশক্তিকে মোকাবিলা করতে হবে। এ দেশ মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে চলবে নাকি অন্য কিছুর আদলে চলবে- সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, আইআরআইয়ের সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশের ৭০ ভাগ মানুষ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আস্থা রাখে। তাই নির্বাচন নিয়ে আমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তিনি বলেন, সভা-সমাবেশে পুলিশের অনুমতি নিয়ে মির্জা ফখরুল মিথ্যাচার করেছেন। আওয়ামী লীগও শান্তি সমাবেশের জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েছে। পুলিশ যখনই অনুমতি দেবে, তখনই আমরা আমাদের কার্যক্রম শুরু করব। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে অনুমতি ছাড়া কোনো প্রকার সভা-সমাবেশ করতে পারেনি আওয়ামী লীগ।

বিএনপির মহাসমাবেশের বিষয়ে তিনি বলেন, মির্জা ফখরুলকে কথায় নয়, কাজে প্রমাণ করতে হবেÑ বিএনপির সমাবেশ শান্তিপূর্ণ হয়েছে। আওয়ামী লীগের কথায় ও কাজে মিল রয়েছে কি নাÑ সেটাই বিষয়, মির্জা ফখরুল কি বলছেন না বলছেন- সেটা বিষয় নয়। আওয়ামী লীগ সবকিছুতেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ খোঁজে, নির্বাচনের আগে এবং পরেও।

বিএনপিকর্মী হত্যা মামলায় বিএনপি নেতা খায়রুল কবির খোকন গ্রেপ্তার হয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, অথচ অভিযোগ করছে, রাজনৈতিক কারণে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাহলে কি বিএনপিকর্মী হত্যার বিচার হবে না? এ ক্ষেত্রে সরকার তো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরও ছাড় দেয়নি।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল