• শুক্রবার ৩১ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৬ ১৪৩১

  • || ২২ জ্বিলকদ ১৪৪৫

আজকের টাঙ্গাইল

রাজধানীতে দুই দলের বড় শোডাউন আজ

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৩  

অবশেষে নিজ নিজ পছন্দের ভেন্যুতেই আজ শনিবার রাজধানীতে দেশের বড় দুই দলের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ। দুই দলই সারাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক জড়ো করে ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছে। এর মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ঢাকায় শক্তি প্রদর্শনের মহড়া দিচ্ছে। এক দফা দাবিতে বিকেলে বিএনপি নয়াপল্টনে মহাসমাবেশ করে লাগাতার কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে। আর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উন্নয়ন ও শান্তি সমাবেশ করে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত মাঠ দখলে রাখা বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার ঘোষণা দেবে আওয়ামী লীগ। মাত্র এক কিলোমিটার দূরত্বে সরকারি ও বিরোধী দলের এ কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে চারদিকে টানটান উত্তেজনা। জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টি করেছে র‌্যাব-পুলিশ।

মহাসমাবেশ সফল করতে শুক্রবার দিনভর বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করে। এসব বৈঠকে কার কি দায়িত্ব হবে তা বণ্টন করে দেওয়া হয়।

 বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলন করে মহাসমাবেশের প্রস্তুতিসহ সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন। লন্ডন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারাও দলের সমাবেশ সফল করতে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন এবং রাজধানীর সকল থানা ও ওয়ার্ড এবং আশপাশের জেলা থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সমাবেশে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সমাবেশের প্রস্তুতিসহ সার্বিক বিষয় তুলে ধরেছেন। এ ছাড়া শুক্রবার রাজধানীর প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিছিল করেছেন।

আগের দিন পুলিশের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে নয়াপল্টন ও বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে না করে বিকল্প ভেন্যুতে সমাবেশ করার কথা বলা হলে দেখা দেয় উত্তেজনা। দুই দলই পছন্দের ভেন্যুতে সমাবেশ করার বিষয়ে অনড় অবস্থানে থাকে। দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থান, লাখ লাখ মানুষ এনে পাল্টাপাল্টি শোডাউনের প্রস্তুতি আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জানমালের নিরাপত্তায় রণপ্রস্তুতিতে আতঙ্ক-উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। এ পরিস্থিতিতে দুই দলকেই শর্তসাপেক্ষে নিজ নিজ পছন্দের ভেন্যুতে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবেই মহাসমাবেশ করবে। এই মহাসমাবেশ থেকে সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিসহ এক দফা দাবিতে পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে তারা নিজে থেকে কোনো ধরনের সংঘাতে জড়াবে না, তবে আক্রমণের শিকার হলে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

এদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশের অনুমতি চাইলেও দলের নিবন্ধন না থাকায় পুলিশ তাদের অনুমতি দেয়নি। এ পরিস্থিতিতে জামায়াত নীরবে বিএনপির মহাসমাবেশে যোগ দিতে পারে। যদিও বিএনপি নেতারা বলেছেন সমমনা দলগুলো পৃথক পৃথক অবস্থানে থেকে এক দফা দাবিতে সমাবেশ করবে। আবার জামায়াত নেতারা বলেছেন, তারাও শাপলা চত্বরে সমাবেশ করবে। তবে বাস্তবে তারা সমাবেশ করতে পারবে না জেনে প্রকাশ্যে সমাবেশের জন্য কোনো প্রস্তুতি নিচ্ছে না বলে জানা যায়।

আওয়ামী লীগ বিগত দিনের মতো আজও হার্ডলাইনে থেকেই রাজপথে অবস্থান নেবে। বিএনপিসহ তাদের মিত্রদের কোণঠাসা করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আজকের সমাবেশ সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটের সামনেই শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ করবে এবং তাদের শান্তি সমাবেশে দুই লাখ মানুষের উপস্থিতি থাকবে বলে আগাম ঘোষণা দিয়েছে। রাজপথ দখলে নিতে বৃহস্পতিবার থেকেই রাজধানীর প্রতিটি থানা-পাড়া-মহল্লায় সমাবেশ-মিছিলের মাধ্যমে মাঠে নেমেছে দলটির নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে- অস্থিতিশীল পরিস্থিতির চেষ্টা করলে এবার বিএনপিকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না তারা। জনগণের জানমাল রক্ষায় বিরোধীদের সকল ষড়যন্ত্র রাজপথে থেকেই মোকাবিলা করা হবে।

এদিকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরত্বে দেশের বড় দুই দলের কর্মসূচিকে ঘিরে জনমনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদও তুঙ্গে। বড় দুই দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে যে কোনো ধরনের সংঘাত-সহিংসতা কিংবা অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা কঠোরভাবে দমনে রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় ‘অ্যাকশন’ মুডে থাকবে বলে জানা যায়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, আওয়ামী লীগ কাউকে গণতন্ত্র ব্যাহত করতে দেবে না। বারবার অপশক্তিকে মাথা তুলে দাঁড়ানোর সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। তাই অপশক্তির চির অবসান ঘটাতে হবে। মহাসমাবেশের নামে অশান্তি সৃষ্টি করতে চাইলে বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করা হবে। তবে আওয়ামী লীগ শান্তি চায়। কিন্তু সন্ত্রাস-নৈরাজ্য করার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হলে আমাদের নেতাকর্মীরা বসে থাকবে না। জনগণের জানমাল রক্ষায় আওয়ামী লীগ বদ্ধপরিকর।

একইদিন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে করে অভিযোগ করেন, মহাসমাবেশ যাতে সফল না করা যায় সেজন্য পদে পদে বাধা দিচ্ছে সরকার। তিনি বলেন, মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই বহু নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অবিলম্বে তাদের মুক্তি দাবি করছি। শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশে গ্রেপ্তার চালানো হচ্ছে। সরকারের সত্যিকার অর্থে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোনো ইচ্ছে নেই। তাই আবারও একতরফা নির্বাচনের জন্য সরকার সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তবে এবার আর সেটা সম্ভব হবে না। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন,  মহাসমাবেশের উদ্দেশ্য সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা, নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। কারণ, নির্বাচন কমিশন বলছে, নির্বাচনের পরিবেশ নেই।

শোডাউনের ব্যাপক প্রস্তুতি বিএনপির ॥ আজকের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে শোডাউনের ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। ইতোমধ্যেই ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক রাজধানীতে এসে পৌঁছেছে। পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করে বিভিন্ন কৌশলে তারা ঢাকায় এসে আত্মীয়স্বজন, দলীয় নেতাদের বাসা, বিভিন্ন হোটেল ও কমিউনিটি সেন্টারে অবস্থান নিয়েছে। এসব জায়গায় দলের নেতাদের তত্ত্বাবধানে তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা যায়। ঢাকার বাইরে থেকে মহাসমাবেশে অংশ নিতে আসা নেতাকর্মীরা শুক্রবার দিনভর বিএনপি কার্যালয়ের সামনে গিয়ে ভিড় করেছে। তবে কখনো কখনো পুলিশের বাধার মুখে তারা বিএনপি কার্যালয়ের আশপাশের গলিতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে।

শুক্রবারই বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহাসমাবেশের জন্য মঞ্চ তৈরি করা হয়। এজন্য সন্ধ্যার পর থেকে সেখানে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি ঘটে। আজকের মহাসমাবেশে কয়েক লাখ লোক জড়ো হবে বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়। মহাসমাবেশটি পশ্চিমে কাকরাইল মোড় ও পূর্বে নটর ডেম কলেজ মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানান। তবে মাইক লাগানো হবে বিজয়নগর মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত কিছুদূর পর পর।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শেষ দফা ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে এক দফা দাবি আদায়ে নয়াপল্টনে আজকের মহাসমাবেশ থেকে পরবর্তী আন্দোলনের কি কর্মসূচি আসছে এ নিয়ে দলটির নেতাকর্মীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। তবে বিভিন্ন সূত্র জানায়, এক দফা দাবি আদায়ে রাজপথ, রেলপথ ও নৌপথ অবরোধ ও ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস ভবন ঘেরাওসহ আন্দোলনের কঠোর কর্মসূচি আসতে পারে।

এর আগে গত বছর ১০ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দেয় বিএনপি। প্রথমে পুলিশের অনুমতি না চাইলেও পরে লিখিতভাবে আবেদন করে পুলিশের কাছে। কিন্তু বিএনপিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ করতে বলা হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তারা করবে না। শেষ পর্যন্ত পুলিশের অনুমতি নিয়ে বেশ ক’টি শর্তসাপেক্ষে রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে মহাসমাবেশ করে বিএনপি। ওই সমাবেশ থেকেই সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবি পেশ করে দলটি। এরপর ধারাবাহিক আন্দোলনের একপর্যায়ে এ বছর ১২ জুলাই এক দফা আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ও খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ এক দফা দাবিতে ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত পল্টনের সমাবেশ থেকে বিএনপি ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দেয়।

শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ সফল করতে আ’লীগের ব্যাপক প্রস্তুতি ॥ পূর্বঘোষিত শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে আওয়ামী লীগ। দুই লক্ষাধিক লোকের উপস্থিতি ঘটানো হবে বলে দলের পক্ষ থেকে আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে ব্যাপক শোডাউনের মাধ্যমে বিএনপিসহ তাদের মিত্রদের রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করাই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে দুদিন আগেই রাজপথ নিয়ন্ত্রণে নিতে মাঠে নেমেছে দলটির নেতাকর্মীরা। শুক্রবারও রাজধানীর প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় মিছিল করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ভ-ুল করতে বিএনপি-জামায়াতসহ তাদের মিত্ররা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে একবিন্দু ছাড় না দিয়ে রাজপথ দখলে রাখতে যা যা করণীয় তাই করা হবে।

আওয়ামী লীগ সূত্র জানিয়েছে, বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর মহাসমাবেশের দিন আজ শনিবার ঢাকায় হার্ডলাইনে থাকবে আওয়ামী লীগ। তাদের কর্মসূচি রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার পাশাপাশি নগরজুড়ে সতর্ক পাহারা বসানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে রাজধানীর সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের। এ ছাড়া শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে কয়েক লাখ মানুষের সমাগমের মাধ্যমে জনসমুদ্রে পরিণত করে রাজধানীতে বড় ধরনের শো-ডাউনেরও প্রস্তুতি নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল। আজ ঢাকা মহানগরের প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড, পাড়া-মহল্লাসহ ঢাকার প্রতিটি প্রবেশপথেও সতর্ক অবস্থানে থাকবে তারা। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ করাসহ সাতটি বিষয়ে বৃহস্পতিবার পুলিশকে জানিয়েছে, সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত তাদের সমাবেশ চলবে। তবে সকাল থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হবে এবং বেলা ২টায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

আজ বিএনপি, জামায়াত ও তাদের মিত্ররা মিলে ঢাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে- এমন আশঙ্কা রয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে। তাই জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুদিন আগে থেকেই ঢাকার রাজপথ দখলে রাখতে মাঠে নেমেছে দলটি। শান্তি সমাবেশে কোনো বাধা দেবে না, কিন্তু এবার আক্রমণ এলে একবিন্দুও ছাড় দিতে চায় না আওয়ামী লীগ। রাজপথেই কঠিন জবাব দিতে সব সহযোগী সংগঠন, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসহ ঢাকা মহানগরের সর্বস্তরের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে। বিএনপি কর্মসূচির নামে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করলে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে কোনো ছাড় না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যে কোনো অরাজক পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও সতর্ক অবস্থানে থেকে মোকাবিলার সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই নেওয়া হয়েছে।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা বলছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে বাধা দেবে না আওয়ামী লীগ। কিন্তু কেউ যদি ষড়যন্ত্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, অতীতের মতো অগ্নিসন্ত্রাসের নামে জানমালের ক্ষতি করার অপচেষ্টা করে- তাহলে কঠোরভাবে তা মোকাবিলা করা হবে। সেক্ষেত্রে তাদের এক বিন্দুও ছাড় দেওয়া হবে না। বিএনপি একা নয়, তাদের সঙ্গে যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতসহ উগ্রপন্থিরা কর্মসূচির নামে ঢাকাকে অচল করার ন্যূনতম চেষ্টা করলে রাজপথেই তাদের মোকাবিলা করা হবে। রাজনৈতিকভাবেই তাদের কঠোর জবাব দেওয়া হবে। ইতোমধ্যেই খুদে বার্তাসহ তৃণমূলে চিঠি দিয়ে নেতাকর্মীদের কয়েকদফা নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে।

সমাবেশ ছাড়াও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, পৌরসভাসহ ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের নেতাদের কাছে বিশেষ নির্দেশনায় আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াত যাতে কোনো ধরনের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য প্রতিটি স্থানে সতর্ক প্রহরায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলটির নেতারা মনে করছেন, বিএনপি ঢাকায় সুবিধা করতে না পারলে জেলা-উপজেলাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার ষড়যন্ত্র করতে পারে। এ কারণে জেলা-উপজেলাকে বিএনপি-জামায়াত যাতে অচল করতে না পারে সেজন্য দলের তৃণমূল নেতাদের সতর্ক হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল