• মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪৩১

  • || ১৯ জ্বিলকদ ১৪৪৫

আজকের টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলের হস্তশিল্প যাচ্ছে বিদেশে

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩  

টাঙ্গাইলে বাঁশ-বেতের তৈরি হস্তশিল্প পণ্য পরিবেশবান্ধব হওয়ায় সুনাম রয়েছে দেশ জুড়ে। দিনদিন এর চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি হচ্ছে এসব পণ্য। অপরদিকে বাঁশ-বেতের শিল্পের আরো সম্প্রসারণ করতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে জেলার ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন।
সরেজমিন দেখা যায়, জেলার দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের বর্ণী, প্রয়াগজানী ও কোপাখী গ্রামে বাঁশের তৈরি হস্তশিল্পের কাজ বেশি হচ্ছে। সেখানে দেখা যায় প্রত্যেক বাড়িতে নারী পুরুষ বাঁশ ও বেত দিয়ে বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী তৈরি করছেন। দেখে মনে হয় পুরো গ্রামই যেন কুটির শিল্পের কারখানা। 

এ শিল্পের প্রধান উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন আন্তর্জাতিক কারু শিল্পী নূরুন্নবী। এই নূরনবী বর্ণী দক্ষিণ পাড়ায় ব্যাম্বো ক্রাফট’ নামে একটি কারখানাও গড়ে তুলেছেন। সেখানে প্রায় ৬০-৭০ জন নারী পুরুষ প্রতিদিন কাজ করেন। 

স্থানীয় কারুশিল্পরা বলেন, আমাদের এলাকায় প্রত্যেক বাড়িতেই নারী পুরুষরা এ কাজ করে থাকেন। নারীরা তাদের বাড়ির কাজের পাশাপাশি শিল্পের কাজ করেন। তাতে প্রায় মাসে নারীরাই চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা বাড়তি টাকা উর্পাজন করে থাকেন। 

কারুশিল্পের সিরাজ মিয়া বলেন, এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত অনেক বছর যাবত। এই কাজ করে ছেলে মেয়ে লেখাপড়া করে এখন তারা চাকরি করছে। আমার বয়স হয়েছে ছেলে মেয়েরা কাজ করতে বারণ করছে। এরপরও এই পেশা ছাড়তে মন চায় না। আগে পণ্য তৈরি করে বিক্রির জন্য দৌড়াদৌড়ি করতে হতো। এখন পাশেই ‘ব্যাম্বো ক্রাফট’ নামে একটি কারখানাও গড়ে উঠেছে। সেখানেই পণ্যগুলো বিক্রি করতে পারছে এলাকার সবাই। একটা সময় এ সব পণ্য বিক্রি করা জটিল ছিল, ব্যাম্বো ক্রাফট কারখানাটি গড়ে উঠায় এখন পণ্য বিক্রি সহজ হয়েছে।

‘ব্যাম্বো ক্রাফট’ কারখানার মালিক কারু শিল্পী নূরুন্নবী জানান, ১৯৯০ সাল থেকে তিনি হস্তশিল্পের কাজ করছেন। ২০০৪ সালে তিনি এই কারখানাটি গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন ধরনের বাস্কেট, টেবিল ল্যাম্প, প্লেস ম্যাট, বিভিন্ন ধরনের ট্রে, মোড়া, ফলের ঝুড়ি, টিস্যু বক্স, গয়নার বাক্স, জানালার পর্দা, ওয়েস্ট পেপার ঝুড়ি, ড্রিংকস বোতলের ঝাড়সহ নানা ধরনের সৌখিন পণ্য তৈরি করছেন। 

এসব পণ্য রাজধানী ঢাকার বড় বড় শপিং মলগুলোতে বিক্রি করে থাকি। এছাড়াও বিভিন্ন রফতানিকারকদের মাধ্যমে প্রায় ১০ থেকে ১২টি দেশে তার বাঁশ বেতের তৈরি হস্তশিল্প রফতানি হচ্ছে।
 
তিনি আরো বলেন. সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পেলে এ শিল্পকে আরো এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি বেকার সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি। তার কারখানাটি গড়ে উঠার পর থেকে এই এলাকার মানুষ এখন বেকার হয়ে বসে থাকেন না। প্রায় সবাই এখন বাশঁ-বেতের কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। হচ্ছেন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী।

জেলার ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. জামিল হুসাইন জানান, টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী বাঁশ-বেতের শিল্পের আরো সম্প্রসারণ করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। যদি কোনো ব্যক্তি এ শিল্পের জন্য ঋণের প্রয়োজন মনে করেন, তবে তাকে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ারও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।  

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল