• মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪৩১

  • || ১৯ জ্বিলকদ ১৪৪৫

আজকের টাঙ্গাইল

মধুপুরে ফ্রিল্যান্সিংয়ের আড়ালে পর্ণোগ্রাফি তৈরি: চার যুবকের দন্ড

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ২৫ মে ২০২৩  

টাঙ্গাইলের মধুপুরে বাসা ভাড়া নিয়ে অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং করে অর্থ আয়ের নামে পর্ণোাগ্রাফি তৈরি ও মাদক মাদক ব্যবসা করার দায়ে চার যুবককে জরিমানা ও কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৪ মে) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীমা ইয়াসমীন এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন পৃথক দুটি ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ওই দন্ডাদেশ দেন।
দন্ডিতরা হচ্ছেন- মধুপুর পৌরসভার কাইতকাই এলাকার শাহজাহান আলীর ছেলে সালমান খান (২২), মধুপুর উপজেলা সদরের ঝন্টু পালের ছেলে অন্তর পাল (২১), মেহেদী হাসান ফাহিম (২৩) এবং পাশর্^বর্তী ধনবাড়ী উপজেলার নরিল্যা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে আশিকুর রহমান (২১)। অভিযানকালে পর্ণোগ্রাফির কাজে ব্যবহৃত ৬টি ল্যাপটপ, একটি কম্পিউটার এবং ১০টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে মধুপুর পৌরসভার নয়াপাড়া মসজিদের পাশে জনৈক সাইফুল ইসলামের বাসা ভাড়া নিয়ে গ্রেপ্তারকৃতরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং করে অর্থ আয়ের নামে পর্ণোগ্রাফি ও মাদক ব্যবসা চালাতো। গোপনে সংবাদ পেয়ে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা ইয়াসমীন ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকির হোসাইনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ওই চারজনকে গ্রেপ্তার ও তাদের ব্যবহ্যত ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
এ সময় মাদকও উদ্ধার করা হয়। ‘ইন্টারনেট’ অফিসের জন্য ভাড়া নেওয়া বাসার মালিক সাইফুল ইসলামের উপস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন বাসাটি গিলগালা করে দেয়। এ সময় পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে পৃথক ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে মাদক ব্যবসা ও পর্ণোগ্রাফি তৈরির অপরাধের দায়ে ইউএনও শামীমা ইয়াসমীন অভিযুক্ত সালমান খান ও অন্তর পালকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও ৬ মাস করে কারাদন্ডের আদেশ দেন। অপরদিকে, একই অপরাধে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকির হোসাইন অভিযুক্ত মেহেদী হাসান ও আশিকুর রহমানকে ৪৯ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেন।
স্থানীয় জানায়, মধুপুরে দীর্ঘদিন যাবত ইন্টারনেটে ফ্রিল্যান্সিং ব্যবসার নামে উঠতি বয়সের যুবকরা রাত জেগে অর্থ উপার্জনে মেতে ওঠে। মধুপুরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায়ও এ ব্যবসা ছড়িয়ে পড়ে। রাতভর তাদের অশালীন আনাগোনা স্থানীয়দের মাঝে সন্দেহের সৃষ্টি করে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বাসায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে মাদক ও পর্ণোগ্রাফি তৈরি চক্রের সদস্যরা ধরা পড়ে।
মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা ইয়াসমীন জানান, দন্ডপ্রাপ্তরা ফ্রিল্যান্সিংয়ের নামে পর্ণোগ্রাফি তৈরি এবং মাদক সেবন ও মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালিয়ে পর্ণোগ্রাফির কাজে ব্যবহৃত ৬টি ল্যাপটপ, একটি কম্পিউটার এবং ১০টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল