• সোমবার ২২ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ৯ ১৪৩১

  • || ১২ শাওয়াল ১৪৪৫

আজকের টাঙ্গাইল
সর্বশেষ:

টানেল যুগের যাত্রা শুরু বাংলাদেশে

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৩  

কর্ণফুলীর বুকে ঢেউয়ে পাল তুলে বরাবরের মতো ছুটবে জাহাজ-নৌকা। আর নদীর তলদেশ চিড়ে নির্মিত টানেলের ভেতর দিয়ে সাঁই সাঁই করে ছুটবে স্থলের যানবাহন। আজ সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। উন্নয়নের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল চিহ্ন এঁকে টানেল যুগে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে আজ সকালেই শুরু হবে সেই যাত্রা। সে কারণে তাকে বরণ করতে রং-বেরঙে সেজেছে চট্টগ্রাম। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত বহু প্রতীক্ষিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ উপলক্ষে পতেঙ্গা-আনোয়ারা উভয়দিকে টানেলের প্রবেশমুখে তৈরি করা হয়েছে উদ্বোধন মঞ্চ। কেইপিজেড কলোনি মাঠে নৌকার আদলে তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। সেই মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুনতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে চট্টগ্রামের লাখো জনতা, যারা এ ঐতিহাসিক উন্নয়নযাত্রার সাক্ষী হতে প্রস্তুত।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানেল দিয়ে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে গিয়ে আনোয়ারা কেইপিজেড মাঠে জনসভায় ভাষণ দেবেন। এ জনসভার আয়োজক চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ। তবে এ জনসভাসহ টানেল উদ্বোধনের সার্বিক আয়োজনে নীরব ভূমিকা রেখেছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। তিনি বলেন, টানেল উদ্বোধনকে ঘিরে কর্ণফুলীর দুই প্রান্তে বর্ণাঢ্য আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে শোভাযাত্রা বের করেছে উৎসবমুখর মানুষ। সাগরতীরের আউটার রিং রোড ধরে পতেঙ্গায় টানেলের প্রবেশপথ পর্যন্ত সেজেছে নতুন সাজে। টানেল ও আউটার রিং রোডের সংযোগস্থল গোলচত্বর লাল-সবুজের পতাকায় ঢেকে দেওয়া হয়েছে।

কাঠের স্থাপনায় লেখা হয়েছে জয় বাংলা। গোলচত্বরসহ পুরো রিং রোডের বিভাজক, গাছপালা রঙিন করে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। গোলচত্বর পার হওয়ার পর টানেলে ঢোকার দুটি সড়ক মিলবে। একটি অতিরিক্ত উচ্চতার যানবাহন যাওয়ার পথ। আরেকটি সাধারণ যানবাহন যাওয়ার পথ। প্রবেশমুখ থেকেই সংরক্ষিত এলাকা শুরু। যার নিরাপত্তার দায়িত্বে আছে নৌবাহিনী।

নৌবাহিনীর নিরাপত্তা তল্লাশি শেষে যানবাহন প্রবেশ করবে ওজন স্কেলে। সেখানে বসানো হয়েছে স্ক্যানার। এরপরই টানেলের মূল প্রবেশপথ। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন উপলক্ষে টানেলের প্রবেশমুখ থেকে অন্তত তিন কিলোমিটার এলাকায় সমুদ্র সৈকতের সব দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। লাইটার জাহাজ ও মাদার ভেসেলকে শুক্রবার সকালের মধ্যে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। সমুদ্র সৈকতে দর্শনার্থী সমাগম শিথিল করা হয়েছে। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সদস্য মোতায়েন আছে সবখানে।

বন্ধ থাকবে যেসব সড়ক : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রামে, যাদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সড়কপথে নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার জন্য চট্টগ্রামের কিছু সড়কপথ সর্বসাধারণের চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। সিএমপির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কেউ সি-বিচ এলাকায় প্রবেশ করতে পারবে না। একই সঙ্গে শনিবার ভোর ৫টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সিমেন্ট ক্রসিং-কাঠগড় হয়ে কোনো যানবাহন সি-বিচ বা এয়ারপোর্ট এলাকায় যেতে পারবে না।

এয়ারপোর্টগামী সবাইকে সিমেন্ট ক্রসিং থেকে বাম দিকে মোড় নিয়ে বোটক্লাব হয়ে যাতায়াত করতে বলা হয়েছে। বিমানবন্দর মোড় ক্রস করে বাটারফ্লাই পার্ক হয়ে টানেল ও সি-বিচ এলাকায় যাওয়া যাবে না। ফৌজদারহাট আউটার লিংক রোডে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। সর্বসাধারণের সুবিধার্থে বন্দরগামী যানবাহন আউটার লিংক রোড পরিহার করে সিটি গেট, একে খান-সাগরিকা রোড, ক্রসিং-বড়পুল-নিমতলা হয়ে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

টানেলের যাত্রা শুরু যেখান থেকে : নগরীর পতেঙ্গায় নেভাল একাডেমির পাশ থেকে ১৮-৩১ মিটার গভীরতায় নেমে যাওয়া এই টানেল কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ-পূর্বে আনোয়ারায় সিইউএফএল ও কাফকোর মাঝামাঝি এলাকা দিয়ে স্থলপথে বের হয়েছে। ৩৫ ফুট প্রশস্ত ও ১৬ ফুট উচ্চতার টানেলে দুটি টিউব দিয়ে যানবাহন চলাচল করবে।
টানেলের উত্তরে নগরীর দিকে আউটার রিং রোড, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কাঠগড় সড়ক, বিমানবন্দর সড়ক এবং পতেঙ্গা বিচ সড়ক দিয়ে টানেলে প্রবেশ করা যাবে। টানেল দিয়ে মোটরসাইকেল ও তিন চাকার গাড়ি চলতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্মাণকারী সংস্থা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। এই টানেল দিয়ে যানবাহন ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে চলবে। প্রকল্পের বিবরণ অনুযায়ী, টানেলটি প্রস্তাবিত এশিয়ান হাইওয়েকে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত করবে এবং চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব ৪০ কিলোমিটার কমিয়ে দেবে।

স্বপ্নযাত্রায় ছিল যত চ্যালেঞ্জ : কর্ণফুলী নদীকে বলা হয় চট্টগ্রাম বন্দরের প্রাণপ্রবাহ। নদীর উত্তাল ঢেউয়ের লাগাম টেনে বুক চিড়তে কেমন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছে তা জানালেন প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী হারুন উর রশিদ। তিনি বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে যেমন সমস্যা পোহাতে হয়েছে, তেমনি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে খরস্রোতা নদীর তলদেশে সুড়ঙ্গপথ নির্মাণে।

তিনি বলেন, আমরা টেকনিক্যালি বড় প্রবলেমটা ফেস করেছি খরস্রোতা নদীর নিচে মাটি খননের ক্ষেত্রে। আমাদের দেশীয় যারা প্রকৌশলী, তারা এমন একটি কাজের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন না। আমাদের দেশের মাটির যে বৈশিষ্ট্য, তাতে এমন খননকাজ খুবই দুরুহ। এটা খুব বেশি চ্যালেঞ্জিং ছিল।

তিনি বলেন, প্রথমে উত্তর টিউবের খননকাজ শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সেটার উদ্বোধন করেন। যখন আমরা টানেলের এক্সপ্লোরেশনের কাজ শুরু করি, প্রায় পাঁচ শতাংশ যাওয়ার পর অনুভব করি খনন করার মেশিনটির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। বোরিং মেশিন নিচের দিকে না গিয়ে ঊর্ধ্বমুখে যাচ্ছে। কারণ মাটি সফট, শক্ত নয়। নিচের মাটি ও ওপরের মাটি হালকা হওয়ায় মেশিনটি ওপরে ওঠার একটি প্রবণতা দেখা যায়। 

সেটার জন্য আমাদের চার মাসের মতো এক্সপেরেশন কাজ বন্ধ ছিল। আমরা কাউকে সেটা বুঝতে দিইনি। পরে বিদেশ থেকে বিশেষ করে চীন থেকে আরও বিশেষজ্ঞ এনে এটা আমরা সমাধান করেছি।

প্রথম টিউবটি খনন করতে আমাদের ১৭ মাস সময় লেগেছে। দক্ষিণ টিউবের কাজ আমরা ১০ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে পেরেছি। কারণ আগে যেসব প্রবলেম ফেস করেছি এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি-তার কারণে আর অসুবিধা হয়নি।

হারুন উর রশিদ আরও বলেন, টানেলের একেকটি টিউবের মধ্যে ৮০ মিটার পরপর ইমার্জেন্সি স্কেট চ্যানেল আছে। এটা আরেকটা চ্যালেঞ্জিং কাজ ছিল। এ ছাড়া ৬০০ মিটার পরপর তিনটি জায়গায় এক টিউব থেকে আরেক টিউব যাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যেহেতু এটির আশপাশের মাটিকে মাইনাস ১৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে ফ্রিজিং করতে হয়েছিল। ফ্রিজ হয়ে মাটি যখন চারদিকে শক্ত হয়ে যায় তখন সেটাকে কেটে আমরা ওই সমস্যার সমাধান করি। ফ্রিজিং করার জন্য ৭০-৭৫টি ছিদ্র করে টিউব দিয়ে মাইনাস ২৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে জমানো হয়েছিল। এসব সমস্যা আমরা সমাধান করেছি।

এ ছাড়া আমাদের দেশে প্রতিটি প্রকল্পে কিছু কমন সমস্যা থাকে, যেমন-ভূমি অধিগ্রহণ সমস্যা, এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এটি জি টু জি প্রজেক্ট। ইআরডির সঙ্গে চীনের এক্সিম ব্যাংকের যখন ঋণচুক্তি সম্পন্ন হয় সে চুক্তির মধ্যে একটি ধারা ছিল। সেটা হচ্ছে-প্রকল্পের শুরুর আগেই যে জায়গা-জমির দরকার হবে সব তাদের হস্তান্তর করতে হবে। এটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একেবারে অসম্ভব ব্যাপার ছিল। কিন্তু জেলা প্রশাসনকে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই, তারা বেশি শ্রম দিয়ে কাজটা সহজসাধ্য করে দিয়েছে।

হারুন উর রশিদ বলেন, প্রথমদিকে মাইলস্টোন পেমেন্ট উইথড্র করতে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলাম। পরবর্তী সময়ে এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে মিলে শুধু টানেল সংক্রান্ত কাজে যেসব মাইলস্টোন আছে, সেগুলো উইথড্র করার সম্মতি নেওয়া হয়। আপনাদের মনে রাখতে হবে, টানেলের কাজ বলতে শুধুই ৩ দশমিক ৩২ কিলোমিটার টানেলের কাজ। এর সঙ্গে যেসব রোড বা অন্যান্য আনুষঙ্গিক স্থাপনা হয়েছে এগুলো নন টানেল ওয়ার্ক। এটা করতে গিয়ে টেকনিক্যাল প্রবলেম ফেস করতে হয়েছে।

দুর্ঘটনা হলে সামলানো হবে যেভাবে : টানেলের ভেতরে চলন্ত কোনো গাড়ি বিকল হয়ে গেলে কিংবা কোনো গাড়ি পথ হারিয়ে ফেললে করণীয় কী হবে। এমন প্রশ্ন করা হলে প্রকল্প পরিচালক হারুন উর রশিদ বলেন, টানেলের ভেতর পথ হারানোর কোনো সুযোগই নেই। সেফটি সিকিউরিটির বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা মহড়াও করেছি। টানেলের ভেতরে কোনো বাস-ট্রাক অথবা অন্য কোনো গাড়ি বিকল হলে কিংবা আগুনও যদি ধরে যায়, সেটা পাঁচ মিনিটের মধ্যে উদ্ধার হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে সব প্রস্তুতি আমাদের আছে। ১০০ সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে। মুহূর্তের মধ্যেই সব তথ্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষে পৌঁছে যাবে। সংশয়ের কোনো কারণ নেই।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, টানেলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলে আমাদের ট্রান্সফরমার আছে, জেনারেটর আছে। জেনারেটরের সাহায্যে চলবে। এর মধ্যে ইউপিএসও আছে। বিদ্যুৎ যদি চলে যায়, জেনারেটর চালু হতে যে সময়টুকু লাগবে সেই সময়টুকু ইউপিএস চালাবে। তার মানে টানেলের মধ্যে কেউ থাকা অবস্থায় যদি বিদ্যুৎ চলে যায়, সে বুঝতেও পারবে না। এতটুকু বোঝা যাবে যে, আগে হয়তো ১০টি লাইট জ্বলত, এখন চারটি লাইট জ্বলছে। এটা কিছু সময়ের জন্য। সেটা হতে পারে ১০-২০ সেকেন্ডের জন্য। টানেলের ভেতরে মোবাইল নেটওয়ার্ক সচল থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, মোবাইল নেটওয়ার্ক এখনও আছে। শুধু ৫০০-৬০০ গজের মধ্যে একটু সমস্যা হয়। সেটাও সচল হয়ে যাবে।

ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসেও সুরক্ষিত থাকবে টানেল : ঘূর্ণিঝড় কিংবা জলোচ্ছ্বাসের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা (সি লেভেল) বেড়ে ৬ দশমিক ৮ মিটার হলে টানেলে পানি প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। এমন আশঙ্কার জবাবে প্রকল্প পরিচালক হারুন উর রশিদ বলেন, পানি যাতে প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য টানেলের দুই টিউবের চার মুখে বসানো হয়েছে ফ্লাড গেট। চীন থেকে এসব ফ্লাড গেট আনা হয়েছে।

জলোচ্ছ্বাস বা বন্যা হলে ফ্লাড গেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। এয়ার টাইড এসব ফ্লাড গেট বন্ধ করে দিলে প্রায় ২২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের পানিও টানেলের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে না। ফলে টানেল থাকবে সুরক্ষিত। এ ছাড়া বৃষ্টি বা নানা কারণে প্রবেশমুখ দিয়ে টানেলে পানি প্রবেশ করলে তা দ্রুত নিষ্কাশনেরও ব্যবস্থা রয়েছে।

টানেলে প্রতিটি টিউবের মাঝে গভীরতম স্থানে পাম্প স্টেশন বসানো হয়েছে। সেখানে গিয়ে পানি জমবে। এরপর টিউবের নিচের অংশে থাকা চ্যানেল দিয়ে এসব পানি আনোয়ারা অংশে ফেলে দেওয়া হবে।

টানেলের লাইফটাইম ১০০ বছর : লাইফটাইম ১০০ বছর ধরে প্রণীত নকশায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক হারুন উর রশিদ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি ১০০ বছর লাইফটাইমের গ্যারান্টি। প্রথম পাঁচ বছর চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন্স লিমিটেডের অপারেশন ও মেইনটেন্যান্সের দায়িত্বে থাকবে। এর মধ্যে আমাদের প্রকৌশলীসহ কর্মীরা এটা পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষণ পাবেন। আমর চাইব যে, পাঁচ বছরে আমরা নিজেরাই যেন টানেলের অপারেশন ও মেইনটেন্যান্সের সক্ষমতা অর্জন করি।

প্রসঙ্গত, কর্ণফুলী নদীর দুই তীরে চীনের সাংহাই সিটির আদলে ওয়ান সিটি টু টাউন গড়ে তুলতে টানেল প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে। এর আগে ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং যৌথভাবে বঙ্গবন্ধু টানেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম টানেল টিউব নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন, এর মধ্য দিয়েই মূল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়।

টানেল নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ও চীন সরকারের যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে চীনের এক্সিম ব্যাংক দুই শতাংশ হারে সুদে ৫ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। বাকি অর্থায়ন করেছে বাংলাদেশ সরকার।

নির্মাণকাজ করেছে চীনা কোম্পানি চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ৩ দশমিক ৩২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এই টানেলে প্রতিটি টিউব বা সুড়ঙ্গের দৈর্ঘ্য ২ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার। একটির সঙ্গে অন্য টিউবের দূরত্ব ১২ মিটারের মতো। প্রতিটি টিউবে দুটি করে মোট চারটি লেন তৈরি করা হয়েছে। টানেলের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে থাকছে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক। এ ছাড়া ৭২৭ মিটার দৈর্ঘ্যরে একটি ওভারব্রিজ রয়েছে আনোয়ারা প্রান্তে।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল