• সোমবার ০৪ মার্চ ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ২০ ১৪৩০

  • || ২২ শা'বান ১৪৪৫

আজকের টাঙ্গাইল

গ্রীষ্মে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা মিটবে

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  

বাঁশখালীতে পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতায় পৌঁছেছে এসএস পাওয়ার প্লান্ট। ১৩২০ মেগাওয়াটের এই কেন্দ্রের দুই ইউনিটে উৎপাদিত বিদ্যুৎ আসন্ন গ্রীষ্মে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে বলে দাবি করেছেন কেন্দ্র সংশ্লিষ্টরা। রবিবার প্রকল্প এলাকায় সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, প্রায় ২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির ৭০ শতাংশ মালিকানা দেশের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি এস আলম গ্রুপের। বাকি ৩০ শতাংশের মালিকানায় রয়েছে চীনা কোম্পানি সেপকো থ্রি ও এইচটিজি। এ সময় এসএস পাওয়ার ওয়ান লিমিটেডের পরিচালক এএসএম আলমগীর কবির বলেন, গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর প্রথম ইউনিট এবং ২৬ অক্টোবর দ্বিতীয় ইউনিট বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসে। এতে ৬৬০ মেগাওয়াট সক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। প্লান্টটি জাতীয় গ্রিডে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় জানানো হয়, প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে। যৌথভাবে কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। উচ্চ প্রযুক্তির কয়লাভিত্তিক বৃহৎ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির দুই ইউনিটের সমন্বয়ে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট (প্রতি ইউনিট ৬৬০ মেগাওয়াট সক্ষমতার)। আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হয় ২০২৩ সালের ১৪ জানুয়ারি। এএসএম আলমগীর কবির বলেন, দেশী-বিদেশী অর্থায়নে দেশের প্রথম বৃহৎ বেসরকারি কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্পটি বেসরকারি একক বিনিয়োগ হিসেবে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ, বেসরকারি প্রকল্পে রেকর্ড বিদেশী বিনিয়োগ। এটি ‘পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি সেক্টর’ ক্যাটাগরিতে ‘চায়না-বাংলাদেশ বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৩’ অর্জন করেছে বলেও জানানো। প্রসঙ্গত, সেপকো থ্রি ‘বিশ্বের জন্য একটি চীনা গ্লোবাল পার্টনার’ বিদ্যুৎ খাতে সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা এবং শ্রেষ্ঠত্বসহ একটি বিখ্যাত ইপিসি কোম্পানি। এটি এসএস পাওয়ার-১ প্লান্টের ইপিসি গ্রহণ করেছে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে উচ্চমানের পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। অন্যান্য পাওয়ার প্লান্টের তুলনায় এসএস পাওয়ার প্লান্টে সাশ্রয়ে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এটি পুরোপুরি উৎপাদনে থাকা সাপেক্ষে দৈনিক প্রায় ২.৯৩ কোটি ইউনিট এবং মাসে প্রায় ৮৮ কোটি ইউনিটের মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম। গ্রিন অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি ॥ এস আলম গ্রুপের সাম্প্রতিক হাতে নেওয়া আরও একটি মেগা প্রকল্প হলো গ্রিন অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি। বাঁশখালীতে স্থাপন হতে যাওয়া এ কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্টটির বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট। শুরু থেকেই এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ৫০ শতাংশ পর্যন্ত গ্রিন এনার্জির সক্ষমতা থাকবে এবং ধীরে ধীরে তা শতভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হবে। এ প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় তিন বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৭ সালের মধ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। আর এটির বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এ ছাড়া পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হবে এক লাখেরও বেশি মানুষের। সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক এ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জিই (জেনারেল ইলেক্ট্রিক), সিমেন্স ও মিৎসুবিশির মতো শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। প্রকল্পের উন্নত প্রযুক্তি ও স্বকীয় বিশেষত্বের কারণে, প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী কার্বন ট্যাক্স ইস্যুতেও লাভবান হবে বাংলাদেশ।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল