• শুক্রবার ৩১ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৬ ১৪৩১

  • || ২২ জ্বিলকদ ১৪৪৫

আজকের টাঙ্গাইল

সম্ভাবনার হাতছানি বঙ্গবন্ধু টানেল

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৩  

‘লাইট অ্যাট দ্য অ্যান্ড অব টানেল।’ সুড়ঙ্গের শেষপ্রান্তে আলো। আর আলো মানে প্রগতি বা অগ্রযাত্রা। চীন থেকে আনা দৈত্যাকার এক বোরিং মেশিন দিয়ে চার বছর আট মাস আগে কর্ণফুলীর তলদেশে যে খনন কাজ শুরু হয়েছিল, সেই সুড়ঙ্গ এখন আলো ঝলমলে। স্বপ্ন দেখার দিন শেষ। কারণ টানেল হয়ে গেছে। বৃহত্তর চট্টগ্রাম ঘিরে শিল্পায়ন, বাণিজ্যসহ যে উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা সরকারের, সেই পথে অনেক বড় একটি ধাপ অগ্রগতি বঙ্গবন্ধু টানেল। প্রথমে অবশ্যই পর্যটন, এরপর বাণিজ্যে অপার সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেবে নদীর দু’পাড়ের মেলবন্ধন। বদলে যাবে দক্ষিণ চট্টগ্রাম, অর্থনীতিতে যার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।

সুড়ঙ্গ পথে এখন আলো। এই টানেল দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশকে নিয়ে যাবে অনন্য উচ্চতায়। কারণ এ অঞ্চলে এটিই প্রথম টানেল। বিশ^ অর্থনীতির সূচকে ৩৫তম শক্তি বাংলাদেশ এখন আরও দ্রুততর অগ্রযাত্রার পথে এক টার্নিং পয়েন্টে, এমনই মনে করছেন অর্থনীতি ও আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। শতভাগ বিদ্যুতায়নের পাশাপাশি সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় যে প্রভূত উন্নয়ন, তাতে ত্বরান্বিত হবে শিল্পায়ন, যা সৃষ্টি করবে ব্যাপক কর্মসংস্থান। উৎপাদিত পণ্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি হবে বিদেশে। এতে অর্জিত হবে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা।

বৃহত্তর চট্টগ্রাম ঘিরে শেখ হাসিনার সরকারের যে উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা, তারই একটি অংশ কর্ণফুলীর তলদেশে নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল। নদীর এক পাশে ব্যস্ততম বন্দরনগরী, আরেক পাশে অনেকটা অন্ধকার নিষ্প্রাণ এক জনপদ আনোয়ারা। পৃথিবীর কোনো শহরেরই ওপাশটাকে এতটা অন্ধকার দেখা যায় না। সে জন্যই ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ গড়ার উদ্যোগ। কর্মব্যস্ততা ছড়িয়ে দিতে হবে নদীর ওপাড়ে। এর জন্য প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ। নদীর ওপর দিয়েও হয়তো তা সম্ভব ছিল। কিন্তু এতে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সিংহদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরের সচলতা হারিয়ে যাওয়ার সমূহ শঙ্কা। আর সে কারণেই তলদেশে এই টানেল। এমন একটি স্থাপনা বাংলাদেশের মতো একটি দেশ শুধু কল্পনাই করতে পারে। কিন্তু এটিই এখন বাস্তব বর্তমান সরকারের সাহসী পদক্ষেপে।

টানেল হয়ে মেরিন ড্রাইভ ॥ কর্ণফুলীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মিত হয়েছে সুদূরপ্রসারী এক পরিকল্পনায়। এই টানেলের ভেতর দিয়েই যাবে মীরসরাই থেকে শুরু হওয়া মেরিনড্রাইভ, যা আনোয়ারা ও বাঁশখালী হয়ে পর্যটন শহর কক্সবাজারে মিলিত হবে। সেখান থেকে টেকনাফ পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ করাই আছে। অবহেলিত হয়ে থাকা সাগরপাড়ের চরাঞ্চল উদ্ভাসিত হবে দৃষ্টিনন্দন চেহারায়। বিশে^র দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভে বদলে যাবে দেশের পর্যটন খাত। গড়ে উঠবে অনেক শিল্প-কারখানা। মীরসরাই থেকে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে সুপার ডাইক নির্মাণের কাজ, যা হবে সড়ক কাম বেড়িবাঁধ। এ সড়ক  স্থলকে সুরক্ষা দেবে, আর উপর দিয়ে চলবে যানবাহন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২২ সালের ২১ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরের চারটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম উদ্বোধনকালে বলেছিলেন, মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ যাবে। এর মাধ্যমে সমুদ্রের নীল জলরাশি ও সবুজ পাহাড়ের সম্মিলনে অভাবনীয় দৃষ্টিনন্দন উন্নয়নের পথে দেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। উন্নত দেশ গড়ার রূপকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিজের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যা দূর করে এখন আন্তর্জাতিকমানের শিল্পমুখী অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। দেশী-বিদেশী শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য একসঙ্গে সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করছি। আমাদের যুবকরা কর্মসংস্থানের খোঁজ না করে নিজেরাই উদ্যোক্তা হবে। এমন অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে দিতে চাই, যাতে আমাদের ছেলেরা চাকরি না খুঁজে চাকরি দিতে পারে।

ব্যস্ততা বাড়বে চট্টগ্রাম বন্দরের ॥ শহরপ্রান্তে পতেঙ্গা এবং দক্ষিণের আনোয়ারার দূরত্ব কর্ণফুলীর এপাড় ওপাড়। পতেঙ্গা থেকে দেখা যায় ওপাড়ের কাফকো ও সিইউএফএল কারখানা। অথচ সামান্য এ পথটুকু পাড়ি দিতে মহাযানজটের শহর অতিক্রম করে যেতে হয় শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত। অন্তত ৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লেগে যায় দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত। কিন্তু টানেল হয়ে মাত্র তিন মিনিটেই যানবাহন চলে যাবে আনোয়ারায়। শুধু অল্প সময়ে যাতায়াতই নয়, নবসৃষ্ট এই যাত্রাপথ হবে মুগ্ধতায় ভরা। চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে বাঁচবে সময়। তাই সেদিকেও হবে শিল্পায়ন ও নগরায়ণ। কর্ণফুলীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল আমূল বদলে দেবে দক্ষিণ চট্টগ্রামকে। দক্ষিণের ছয় উপজেলা এবং কক্সবাজার পর্যন্ত বিরাট অঞ্চলজুড়ে  অসংখ্য শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এর ফলে বন্দরের সঙ্গে সড়কপথে সৃষ্টি হবে সহজ যোগাযোগ। নদীর দক্ষিণে যেসব শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে সেগুলোকে আমদানি ও রপ্তানি পণ্য পরিবাহিত হবে টানেলের ভেতর দিয়ে। ফলে কোনো ধরনের যানজটের কবলে পড়তে হবে না।

দক্ষিণ চট্টগ্রামে শিল্প-কারখানা গড়ে উঠলে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর পড়বে বাড়তি চাপ। কারণ বন্দরকে তখন আরও বেশি পণ্য হ্যান্ডলিং করতে হবে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। চলছে নতুন নতুন টার্মিনাল নির্মাণের মাধ্যমে বন্দরের সম্প্রসারণ কাজ। এরই মধ্যে নির্মিত হয়েছে পতেঙ্গা কন্টেনার টার্মিনাল, যাতে বিদেশী অপারেটর নিয়োগের কাজটি এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে।  নির্মিত হতে যাচ্ছে সাগরপাড়ে বে-টার্মিনাল, যা হবে আগামীর বন্দর। লালদিয়ার চর এলাকায় চার বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে নতুন একটি টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব নিয়ে এসেছে বিশ^ শিপিং সেক্টরের অন্যতম জায়ান্ট মার্কস লাইন। ডেনমার্কের এ প্রস্তাবটি এখন সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। নতুন এ প্রকল্পগুলোর সব ক’টিই পতেঙ্গা এলাকায়, যা টানেলের কাছাকাছি। দক্ষিণ চট্টগ্রামে শিল্পায়নে সহায়ক হবে এই টানেল। কেননা, এর মাধ্যমে খুব সহজেই বন্দর সুবিধা পেতে যাচ্ছে এতদিন ধরে অবহেলিত থাকা দক্ষিণের  উপজেলাগুলো। শিল্প স্থাপনের জন্য অনেক উদ্যোক্তা কয়েক বছর আগে থেকেই ভূমি কিনতে শুরু করেছেন। শিল্পায়ন হলে প্রয়োজন শ্রমিকদের আবাসন ব্যবস্থা। ফলে হয়ে যাবে নগরায়ণের কাজটিও। বঙ্গবন্ধু টানেলের প্রধান লক্ষ্যই ‘ওয়ান সিটি টু টাউন।’ ফলে নদীর দক্ষিণ প্রান্তেও শহর গড়ে উঠবে, তা নিশ্চিত। তবে অপরিকল্পিত নগরায়ণ যেন না হয়, সে জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষগুলোর  পক্ষ থেকে এখন থেকেই তদারকি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন, এমনই মনে করছেন নগরবিদগণ।

বঙ্গবন্ধু টানেলের শহর প্রান্তের সংসদীয় এলাকাটি হলো চট্টগ্রাম বন্দর-পতেঙ্গা। এ আসনের সংসদ সদস্য এমএ লতিফ জনকণ্ঠকে বলেন, বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান। সে জন্যই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ, সড়ক যোগাযোগ, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আনোয়ারাসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের সঙ্গে দূরত্ব কমাতে সুগম যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই প্রয়োজন ছিল। কর্ণফুলীর ওপরে এখন রয়েছে কালুরঘাট রেলসেতু ও শাহ আমানত সড়ক সেতু। আরও একটি পিলার সেতু হলে পলি জমে বন্দর চ্যানেল অচল হয়ে যাবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে টানেল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। এই সংসদ সদস্য বলেন, টানেল নির্মাণ চট্টগ্রামবাসীর দাবি ছিল না, এমন স্বপ্নও ছিল না আমাদের। প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ স্বপ্ন  দেখেছেন, দেখিয়েছেন এবং দিয়েছেন এর বাস্তবরূপ।

বঙ্গবন্ধু টানেল দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে কেমন প্রভাব রাখবে এ বিষয়ে সরকারদলীয় এই সংসদ সদস্য বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে সারাদেশে যে পরিমাণ অবকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে তার প্রায় ৪০ ভাগই বৃহত্তর চট্টগ্রামে। এর পেছনের কারণ মোটেও আঞ্চলিক দৃষ্টিভঙ্গি নয়। বরং ভৌগোলিক বাস্তবতায় দেশের জন্য চট্টগ্রাম নিয়ে ভাবতেই হয়। মীরসরাইয়ে প্রতিষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর থেকে কক্সবাজারের মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত অনেকগুলো মেগা প্রজেক্ট। রয়েছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল লাইন, বন্দরের বে-টার্মিনাল, একাধিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল, চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, সিটি আউটার রিং রোড, রামগড় স্থলবন্দর এবং পতেঙ্গা সৈকতে উন্নয়নসহ এতগুলো কাজ দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা গতিশীল করতে সরকারের মহাপরিকল্পনারই অংশ। এসবের ফলে ব্যাপক শিল্পায়ন হবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, ব্যবসা বাণিজ্যের গতি সঞ্চার হবে। টানেলের ফলে প্রথম ইতিবাচক ধাক্কাটা আসবে পর্যটন খাতে। এ টানেল দেখতে ছুটে আসবে লাখো পর্যটক। কারণ এটিই দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম টানেল।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মাহবুবুল আলম জনকণ্ঠকে বলেন, চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্নভাবে চিন্তা করার কোনো সুযোগ নেই। কারণ চট্টগ্রাম তো শুধু চট্টগ্রামবাসীর নয় বরং এই চট্টগ্রাম সমুদ্রপথে বাংলাদেশের গেটওয়ে, চট্টগ্রাম সতেরো কোটি মানুষের। তাই এখানে যত প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে এগুলোকে আঞ্চলিক উন্নয়ন হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত যে বিশাল জনপদ, তাতে রয়েছে পুরো দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। প্রধান সামুদ্রিক বন্দর এবং গভীর সমুদ্র বন্দরের অবস্থান এখানে বলেই শিল্পায়নের জন্য উপযুক্ত স্থান বৃহত্তর চট্টগ্রাম।

ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের এই শীর্ষ নেতা বলেন, উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বড় অনুষঙ্গ কানেক্টিভিটি। বঙ্গবন্ধু টানেল আমাদের অর্থনীতিকে বড় একটি ধাপ এগিয়ে দেবে। সবচেয়ে বড় অর্জন হবে ট্যুরিজম সেক্টরে। আমরা আশা করতে পারি যে, দেশী পর্যটকদের পাশাপাশি অনেক বিদেশীও পর্যটক আসবেন। বিশেষ করে আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে। তবে এক্ষেত্রে দর্শনীয় স্থানগুলোকে নান্দনিক চেহারায় ফুটিয়ে তুলতে হবে। যেমন চট্টগ্রাম শহরপ্রান্ত থেকে টানেল অতিক্রম করে যাওয়ার পর দক্ষিণে এক বা একাধিক আকর্ষণীয় স্পট থাকা চাই। সেক্ষেত্রে আনোয়ারায় অবস্থিত মিনি কক্সবাজারখ্যাত পারকি সমুদ্রসৈকতের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। সেখানে যাওয়ার জন্য সুগম সড়ক এবং থাকার জন্য ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। নদীর দক্ষিণপাড়ে দেখার মতো জায়গা থাকলে এপাড় থেকে টানেল অতিক্রম করে ছুটে যাওয়ার আগ্রহ বাড়বে। সরকার আনোয়ারা, বাঁশখালী সৈকত তথা দক্ষিণ চট্টগ্রামের ট্যুরিজম উন্নয়নে গুরুত্ব প্রদান করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল