• শুক্রবার ৩১ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৬ ১৪৩১

  • || ২২ জ্বিলকদ ১৪৪৫

আজকের টাঙ্গাইল

স্বপ্ন পূরণে নবযাত্রা আজ । দেশের প্রথম টানেল উদ্বোধন

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৩  

চট্টগ্রামে কর্ণফুলীর তলদেশ ভেদ করে নির্মিত হয়েছে দেশের প্রথম টানেল বা সুড়ঙ্গ পথ। শুধু দেশে নয়, দক্ষিণ এশিয়াতেও এটি প্রথম। জনমনে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও কৌতূহল স্বপ্নরথের এই টানেল নিয়ে। নানা চ্যালেঞ্জিং নির্মাণযজ্ঞ শেষে কখন খুলবে এই টানেল- তারই ক্ষণগণনা চলছিল এতদিন। সে অপেক্ষার অবসান হচ্ছে। দেশবাসীর অহংকারের ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের উদ্বোধন আজ।

অপার সম্ভাবনা নিয়ে জাতির আরেকটি স্বপ্নজয়। এর মাধ্যমে রচিত হলো গৌরবের নতুন ইতিহাস। এরই মধ্য দিয়ে সরকারের উন্নয়ন সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হলো নতুন আরেকটি পালক। পারমাণবিক বিদ্যুতের এলিট ক্লাবে যুক্ত হওয়ার পর স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে এবার টানেল যুগে দেশ। ডিজিটালি স্মার্ট নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে আরেক ধাপ অতিক্রম।

দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে গৌরবের ‘বঙ্গবন্ধু টানেল’ এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধন করবেন জাতির জনকের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কাল রবিবার যানবাহন চলাচল শুরুর মাধ্যমে ডানা মেলবে সম্ভাবনার নতুন আরেক স্বপ্নদুয়ারÑ বঙ্গবন্ধু টানেল। নতুন মাত্রায় যুক্ত হবে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক। এই টানেলের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চল হবে যোগাযোগের নতুন হাব। আজ সকালে টানেলের উত্তরে চট্টগ্রাম মহানগরী পতেঙ্গা প্রান্তে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী টানেলের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। এরপর টানেল অতিক্রম করে যাবেন দক্ষিণপ্রান্ত আনোয়ারায়। সেখান থেকে কেইপিজেড মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।

আপামর জনগণের অফুরান প্রত্যাশা ও ভালোবাসায় গাঁথা বঙ্গবন্ধু টানেল নতুন স্বপ্নযাত্রায় প্রস্তুত। প্রথম বছরে প্রায় ৭০ লাখ যানবাহন চলাচল করবে বলে সমীক্ষা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রামমুখী যানবাহন নির্দিষ্ট টোল দিয়ে টানেল ব্যবহারের সুযোগ পাবে। নিষিদ্ধ থাকবে তিন চাকার যানসহ সাইকেল এবং মোটর বাইক।

‘কর্ণফুলী টানেল’ নামে প্রথমে এ প্রকল্পের সূচনা হয়। পরে নামকরণ হয় ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল।’ প্রকল্প পাস সমঝোতা স্মারক চুক্তিসহ সবধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর টানা প্রায় চার বছরেরও বেশি সময় ধরে টানা বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষে টানেল দিয়ে যান চলাচল শুরু করে দেওয়ার জন্য এখন প্রস্তুত বাংলাদেশ সেতু বিভাগ (বাংলাদেশ ব্রিজ অথরিটি) ও টানেল পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা-সিসিসিএল (চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লি.)।

অমিত সম্ভাবনার বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধন নিয়ে চট্টগ্রামজুড়ে সাজ সাজ রব। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ আনোয়ারায় এ উপলক্ষে লাখ লাখ মানুষের সমাগমের মাধ্যমে বিশাল জনসভা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

টানেলের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছে কর্ণফুলী নদীর উভয় তীর। খুলছে নতুন রুট। দক্ষিণের দুয়ার নামে পরিচিত উপজেলা আনোয়ারা একটি উপশহরে পরিণত হতে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে হবে একটি বাণিজ্যিক শহর। ফলে পাল্টে যেতে শুরু করেছে এ অঞ্চলের দৃশ্যপট। আনোয়ারার মানুষ ভাসছে লালিত স্বপ্ন পূরণের আনন্দের জোয়ারে। শুধু আনোয়ারা নয়, এর সন্নিহিত এলাকাগুলোতেও উন্নয়ন ও বিনিয়োগের প্রসার ঘটবে। দক্ষিণ চট্টগ্রামজুড়ে শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠার পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিপ্লব সাধিত হবে। হবে বাণিজ্যের নতুন দ্বার। বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি দেশের প্রথম টানেল উদ্বোধনের ঘটনা বর্তমান সরকারের জন্য নিশ্চিতভাবে একটি বড় অর্জন।

আজ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর কাল রবিবার উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে যানবাহন চলাচলের জন্য। বিভিন্ন যানবাহনের জন্য বিভিন্ন অঙ্কের টোল নির্ধারণ করা হয়েছে। টোল আদায়ের জন্য আনোয়ারা প্রান্তে স্থাপন হয়েছে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির ১৪টি টোল প্লাজা। টানেল নির্মাণের মাধ্যমে বন্দর নগরী চট্টগ্রামকে ‘ওয়ান সিটি টু টাউনে’ পরিণত করার সরকারি সদূরপ্রসারী পরিকল্পনায় রচিত হয়েছে নয়া মাইলফলক। বিস্তৃতি ঘটবে চট্টগ্রাম বন্দর কার্যক্রমের। বাড়বে দেশের আমদানি-রপ্তানি। চট্টগ্রাম মহানগরে কমবে যানজট। বাড়তি শুল্ক আদায়ে আরও এগিয়ে যাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে একক বৃহৎ জোগানদাতা সংস্থা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ। নদী, পাহাড়, সাগরঘেরা চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ও আনোয়ারা প্রান্ত ইতোমধ্যে সেজেছে নতুন সাজে। পতেঙ্গা অংশে রাতের আলোকসজ্জা মনোমুগ্ধকর।

ভারতের লুসাই পাহাড় থেকে নেমে আসা  স্রোতধারায় সৃষ্ট কর্ণফুলী নদী। জোয়ার-ভাটার এ নদী মিশে আছে বঙ্গোপসাগরে। কর্ণফুলীর মোহনার একটু আগে নেভাল একাডেমির পাশে নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছে সরকার। নতুন সাজে সাজবে দেশের প্রধান বাণিজ্যনগরী জাতীয় অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম। এ মেগা প্রকল্প যেমনি ছিল চ্যালেঞ্জিং তেমনি নতুন আশা সঞ্চারী। চীন সরকারের সহযোগিতায় সে দেশের রাষ্ট্রীয় এক্সিম ব্যাংকের স্বল্প সুদের অর্থের ঋণ নিয়ে সরকার এ প্রকল্প গ্রহণ করে। চীনা এক্সিম ব্যাংক দিয়েছে পাঁচ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা। বাকি অর্থ বাংলাদেশ সরকারের। মোট ১০ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকায় বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মিত। ডলারের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্প ব্যয় আরও কিছুটা বৃদ্ধি পাবে বলে প্রকল্প দপ্তর সূত্রে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

২০১০ সালে এ প্রকল্প প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। ২০১২ সালে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই হয়। ২০১৪ সালে চীনা কোম্পানি সিসিসিএল’র সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হয়। দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হয় ২০১৫ সালের ২৪ অক্টোবর। জি টু জি পদ্ধতির এ প্রকল্প একই বছরে অগ্রাধিকার ভিত্তিক হিসেবে একনেকে পাস হয়। ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বঙ্গবন্ধু টানেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কর্ণফুলী নদীর তলদেশের ১৮ থেকে ৩১ মিটার গভীরে এ টানেল নির্মিত। কর্ণফুলীর পানির উপরিভাগ থেকে ৪২ দশমিক ৮ মিটার গভীরে এর অবস্থান। তিন দশমিক ৩২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে দুই টিউবে চার লেন সংবলিত বঙ্গবন্ধু টানেল। দুই টিউবের মধ্যে পাশাপাশি ব্যবধান ১১ মিটার। প্রতিটি সুড়ঙ্গের দৈর্ঘ্য দুই দশমিক ৪৫ কিলোমিটার। প্রতিটি সুড়ঙ্গ ৩৫ ফুট প্রশস্ত ও উচ্চতায় ১৬ ফুট। দুই টিউবের মাঝপথে রয়েছে তিনটি ক্রসপ্যাসেজ। টানেলে প্রবেশের আগে যাত্রীদের রোমাঞ্চকর যাত্রায় অভ্যর্থনা জানাতে উভয়পক্ষে বসানো হয়েছে জায়ান্ট স্ক্রিন। স্ক্রিনে ভাসবে গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনাসমূহ। টানেল অভ্যন্তরে রয়েছে ফ্লাড প্রোটেকশন গেট, ইমার্জেন্সি এক্সিট, ভেন্টিলেশন সিস্টেম, আড়াইশ’রও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা, মাইক, ফায়ার এলার্ম, টেলিফোনসহ নানাবিধ আধুনিক প্রযুক্তিগত সুবিধা। বাইরে থাকছে ফায়ার স্টেশন, স্ক্যানার। সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে ভেতরে-বাইরে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে পাঁচ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি সাবস্টেশন, দুইপ্রান্তে থাকছে দুটি পুলিশ ফাঁড়ি। পাঁচ দশমিক ৩৫ কিলোমিটারের সংযোগ সড়ক নির্মিত হয়েছে উভয়প্রান্তে। আনোয়ারা প্রান্তে রয়েছে ৭২৭ মিটারের উড়াল সড়ক।

উল্লেখ করা যেতে পারে, ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি এ টানেলের বোরিং কাজের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের একটি লাইন উদ্ধৃত করে বলেছিলেন, ‘আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না।’ দাবায়ে রাখার অবকাশ নেই। দেশী-বিদেশী নানা বাধা ও ষড়যন্ত্রকে উপেক্ষা করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে কেবলই এগিয়ে চলা। ২০২০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পতেঙ্গা থেকে আনোয়ারা প্রান্ত পর্যন্ত প্রথম টিউবের খনন কাজ সম্পন্ন হয়। একই বছরের ১২ আগস্ট আনোয়ারা থেকে পতেঙ্গামুখী দ্বিতীয় টিউবের কাজ শুরু হয়ে ২০২১ সালের ৭ অক্টোবর সম্পন্ন হয়।  

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল তথা প্রথম সুড়ঙ্গপথ নির্মাণ দেশের জন্য নতুন রেকর্ড। সরকারি ঘোষণার পরই চ্যালেঞ্জিং এই স্বপ্নযাত্রায় শামিল হয় দেশের আপামর মানুষ। মানুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলে নির্মাণযজ্ঞ। করোনাকালেও একদিনের জন্য থামেনি কোনো কাজ। দেশী প্রকৌশলী, কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের নিয়ে চীনা বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় নির্মিত হয়ে দৃশ্যমান হয়েছে স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু টানেল। এরপর চলতে থাকে খুলে যাওয়ার ক্ষণগণনা। সেই উচ্ছ্বাসের সঙ্গে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটবে আজ। চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা প্রান্ত হতে টানেল হয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিমি. গতিতে দক্ষিণপ্রান্ত আনোয়ারায় পৌঁছুতে সময় নেবে মাত্র তিন থেকে সাড়ে তিন মিনিট। আনোয়ারার সঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগরীর রচিত হচ্ছে নতুন সেতুবন্ধন। এরপর পটিয়া হয়ে আরাকান সড়ক ধরে সোজা কক্সবাজারসহ পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন পয়েন্ট। চট্টগ্রামের সঙ্গে কক্সবাজারের দূরত্ব কমছে ৫০ কিলোমিটার। যোগাযোগের এ ব্যবস্থা আগামীতে মিয়ানমার হয়ে ট্রান্স এশিয়া সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে। 

পদ্মা সেতু, পদ্মায় রেল সংযোগ প্রকল্প, ঢাকার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল, মেট্রোরেলসহ সরকারের বহু মেগাপ্রকল্প ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। বাস্তবায়নাধীন রয়েছে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয়ে আরও বেশকিছু প্রকল্প। যার মধ্যে অন্যতম রয়েছে সবচেয়ে একক বড় প্রকল্প পাবনায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মহেশখালীর মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর। দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ প্রকল্প, কক্সবাজারে সাগরের বুক ছুঁয়ে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

মেগা প্রকল্পের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল সৃষ্টি করেছে নতুন আবহ। এ যেন এক বৃন্তে দুটি ফুল। একটি টানেলের দুই প্রান্তে দুই শহর। অর্থাৎ বন্দরনগরী চট্টগ্রাম পরিণত হচ্ছে চীনের সাংহাইয়ের আদলে ‘ওয়ান সিটি টু টাউনে।’ এ ছাড়া সত্যিকার অর্থে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানীতে পরিণত করার ক্ষেত্রে আরেক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। উত্তরপ্রান্তে পতেঙ্গায় কেপিআই (কী পয়েন্ট ইনস্টলেশন) স্থাপনার মধ্যে রয়েছে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চিটাগং এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (সিইপিজেড), দেশে জ¦ালানি তেলের একক পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিসহ রাষ্ট্রীয় তিন তেল বিপণন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার স্থাপনা নিয়ে অয়েল বেল্ট, বিমান বাহিনীর জহুরুল হক ঘাঁটি, দেশের প্রধান নৌঘাঁটি ‘বিএনএস ঈশা খাঁ।’ আর দক্ষিণপ্রান্তে আনোয়ারা উপজেলা। সেখানে রয়েছে বহুজাতিক কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি (কাফকো), চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল), দেশের সরকারি প্রধান মেরিন একাডেমি। ইতোমধ্যে সেখানে প্রতিষ্ঠা হয়েছে কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (কেইপিজেড)। আর বিশাল এলাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠা হচ্ছে চায়না ইকোনমিক জোন। 

বঙ্গবন্ধু টানেলের উত্তর প্রান্ত চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গায় আজ সকালে আমন্ত্রিতদের উপস্থিতিতে নান্দনিক নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানেলের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। কর্ণফুলীর এপার থেকে ওপার পাড়ি দিয়ে সম্পন্ন করবেন উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা। আনোয়ারা প্রান্তে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী সোজা যাবেন কেইপিজেড মাঠে। সেখানে নির্ধারিত বেলা ১১টায় দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় তিনি যোগ দেবেন। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন।

টানেল উদ্বোধন ও প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। চট্টগ্রামের শিল্পীদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রকাশ হয়েছে ‘থিম সং।’ এর আগে টানেল নিয়ে প্রথম গানের সিডি প্রকাশ করেছেন পুলিশ কর্মকর্তা ও শিল্পী মোজাহেদ হাসান। টানেলের দুই প্রান্তের প্রবেশমুখ ও দীর্ঘ এপ্রোচ সড়ককে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। রং-বেরঙের পতাকা শোভা পাচ্ছে সংযোগ সড়কের দুইপাশে। নেওয়া হয়েছে নিñিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। টানেলের উত্তরপ্রান্তে মহানগরীর দক্ষিণ পতেঙ্গার ৪১ নং ওয়ার্ডের নেভাল একাডেমি সন্নিহিত এলাকা। দক্ষিণপ্রান্তে আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের অবস্থান। টানেলের আনোয়ারা প্রান্তের প্রবেশমুখ সিইউএফএল রাঙাদিয়া পয়েন্ট থেকে শাহাদাতনগর জেলেঘাটা পর্যন্ত বিস্তৃত। আগেই এ টানেলের ভেতর-বাইরের নিরাপত্তার সার্বিক দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ওপর। নৌবাহিনীর পক্ষে ইতোমধ্যে সেখানে বিএনএসএসইউ (বাংলাদেশ নেভী সিকিউরিটি সাপোর্ট ইউনিট) নামে একটি ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আজ প্রধানমন্ত্রীর আগমন ও টানেল উদ্বোধন উপলক্ষে কয়েক স্তরের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল