• বৃহস্পতিবার   ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ২৭ ১৪২৯

  • || ১৮ রজব ১৪৪৪

আজকের টাঙ্গাইল
সর্বশেষ:

সীমান্তে যৌথ টহলে সম্মত বাংলাদেশ-মিয়ানমার

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর ২০২২  

মাদক চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে সীমান্তে যৌথ টহলে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। 

বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসী সংগঠন মোকাবিলায় রিয়েল টাইম ইন্টেলিজেন্স (তাৎক্ষণিক তথ্য) শেয়ার করার বিষয়ে ঐকমত্যে হয়েছে দুই দেশ। শিগগিরই জলপথের পাশাপাশি স্থলপথে টহল শুরু হবে। 

২৩-২৭ নভেম্বর নেপিদোতো অনুষ্ঠিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) ৮ম সীমান্ত সম্মেলন নিয়ে মঙ্গলবার পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিজিবি মহাপরিচালক মেজর  জেনারেল সাকিল আহমেদ। 

তিনি বলেন, সীমান্তে আকাশসীমা লঙ্ঘনের কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।  সে বিষয়টি আমরা সম্মেলনে গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করেছি। আমরা তাদের বলেছি, মিয়ানমারের যদি সীমান্তবর্তী এলাকায় ড্রোন উড্ডয়নের প্রয়োজন হয় বা হেলিকপ্টার ইউটার্ন করার প্রয়োজন হয়, সে তথ্য আমাদের দিতে। যেন আমরা ওই দিনগুলোতে লক্ষ্য রাখতে পারি যে, কোনো ধরনের সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনা ঘটছে কি না। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছে, এ ধরনের কোনো ঘটনা ভবিষ্যতে ঘটবে না।

মহাপরিচালক বলেন, ‘স্থল মাইন বিস্ফোরণে বেশ কিছু বাংলাদেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। আমরা বলেছি, অনিচ্ছাকৃতভাবে কেউ এর সংস্পর্শে এলে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। এ বিষয়ে আমরা তাদের সহযোগিতা চেয়েছি। তারা সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে। আমরা যৌথভাবে এটা পর্যবেক্ষণ করব।’

সাকিল আহমেদ বলেন, ‘দুটি বিষয় সমাধান হলে আমরা যৌথভাবে স্থলভাগে টহল দিতে পারব। আমরা আশা করি, তাতে চোরাচালান, মানব পাচারের মতো অপরাধ আমরা নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হব। এ বিষয়ে আমরা মিয়ানমারের ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি।’

নেপিদোতে সম্মেলনের ফাকে মিয়ানমারের উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ইউনিয়ন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও আলাদাভাবে সাক্ষাৎ করেন বিজিপি মহাপরিচালক। এই সময় তিনি বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি দুই বাহিনীর পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। 

‘রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিয়ে মিয়ানমার আশ্বাস দিয়ে এলেও সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না’-এ বিষয়ে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা তাদের বলেছি, বাংলাদেশ মানবিক কারণে অস্থায়ীভাবে তাদেরকে (রোহিঙ্গা)  শেল্টার দিয়েছে। এ বিষয়গুলো বলার পরে তারা এটা গ্রহণ করে আলোচনা করে কাজ করার কথা বলেছে। 

রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের বিষয়টা একটা দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ দেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ছেলেমেয়েদের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, এমন ভিডিও আমরা তাদের দেখিয়েছি। যুব জনগোষ্ঠীকে টেকনিক্যাল শিক্ষা দিয়ে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করছি। যাতে তারা নিজেদের আবাসে ফিরে যাওয়ার পর নিজেদের চালিয়ে নিতে পারে। আমার মনে হয়েছে, তারা এ বিষয় নিয়ে কাজ করছে।’

রাখাইনের বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি মনে করি, সেখানকার পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তারা বিভিন্নভাবে তাদের আলোচনায় বারবার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা বলেছে। সেখানে তাদের যে অস্ত্রবিরতি চলেছে; তা সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর সঙ্গে বলে জানিয়েছে। এটা করে তারা সেখানে মানবিক বিপর্যয় রোধ করার চেষ্টা করছে। আগের তুলনায় রাখাইনের পরিস্থিতি ভালো। এটা রোহিঙ্গাদের ফেরানোর জন্য ইতিবাচক।

উল্লেখ্য, বিজিবি মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল নেপিদোর সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে। প্রতিনিধি দলে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ও অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। 

অন্যদিকে সম্মেলনে ডেপুটি চিফ অব মিয়ানমার পুলিশ ফোর্সের মেজর জেনারেল অং নেইং জু’র নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করে।  তিন বছর পর এই সম্মেলন হলো।  পরবর্তী সীমান্ত সম্মেলন ২০২৩ সালের  মে/জুন মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল