• রোববার ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ||

  • অগ্রহায়ণ ১৮ ১৪৩০

  • || ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৫

আজকের টাঙ্গাইল

‘বাংলাদেশে নাট্যচর্চার পাঁচ দশক’ বইয়ের প্রকাশনা

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০২৩  

দেশের মঞ্চনাটকের ইতিবৃত্ত উঠে এলো মলাটে।  সেই সুবাদে স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে ধাপে ধাপে বিকশিত থিয়েটারের নানা বিষয় উঠে এসেছে বইয়ের ভাঁজে। বাংলা নাটকের সমৃদ্ধ ইতিহাস লিপিবদ্ধ  হয়েছে ৪৪০ পৃষ্ঠার গবেষণাধর্মী সংকলনটিতে। ৭৫ জন নাট্যকার, অভিনয়শিল্পী ও গবেষকের গুরুত্বপূর্ণ লেখার সম্মিলনে প্রকাশিত  ‘বাংলাদেশে নাট্যচর্চার পাঁচ দশক’ শিরোনামে  গ্রন্থটি। অভিজিৎ সেনগুপ্ত সম্পাদিত বইটি প্রকাশ করেছে নবযুগ প্রকাশনী।  শুক্রবার বিকেলে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে বইটির প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

প্রন্থটির  মোড়ক উন্মোচন করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর।  সম্মিলিত সাংস্কৃতিক  জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছের সভাপতিত্বে প্রকাশনা উৎসবের  আলোচনায় অংশ নেন নাট্যজন আতাউর রহমান, নাট্য গবেষক ও নির্দেশক অধ্যাপক ড. ইসরাফিল শাহীন, কবি ও সাংবাদিক সোহরাব হাসান, নাট্যকার ও নির্দেশক গাজী রাকায়েত এবং গ্রন্থের সম্পাদক অভিজিৎ সেনগুপ্ত। উপস্থিত ছিলেন প্রকাশক অশোক রায় নন্দীসহ মঞ্চনাটকসংশ্লিষ্ট অনেকে।

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, দেশে নাটক নিয়ে লেখার  লোকের অভাব রয়েছে। তাই নাটকসংশ্লিষ্ট প্রকাশনায় চলছে খরা।  আবার  যে নাটকগুলো মঞ্চে  দেখা হয়  সেগুলোর  প্রকাশিত পা-লিপি পাওয়া যায় না। স্বাধীনতার ৫০ বছরে নাট্যচর্চা নিয়ে লিখিত ১০টি বই হয়তো বড়জোড় আমি কিনতে পারি? সে জায়গা  থেকে  এই সংকলনটি তাৎপর্যপূর্ণ। 

আতাউর রহমান বলেন, আমাদের পথনাটকে রাজনৈতিক অত্যাচার,  নিপীড়নের কথা উঠে এসেছে বারবার ? নাটক জীবনের কার্বন কপি নয়। তবু থিয়েটার জীবনের কথা বলে নানা প্রকরণে? শিল্পী, নাট্যকার, কবিরা চিরদিন অচলায়তন ভাঙার প্রচেষ্টায় নিয়োজিত। নাটকে অভিনয়ের ধারা পাল্টে যায় সময়ের সঙ্গে, যুগের সঙ্গে? আমরা ‘দওয়ান গাজীর কিসসা’ নাটকটি  যেভাবে করেছিলাম কিংবা  শেক্সপিয়ারের ‘হ্যামলেট’ নাটক  যেভাবে করেছিলাম, আমি আশা করব নতুন প্রজন্ম এ নাটকটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করবে।

বইটির তুলনামূলক আলোচনা করে ইসরাফিল শাহীন বলেন, বাংলাদেশে পাঁচ দশকের নাট্যচর্চার কথা বলা হলে  সেখানে কী কেবল নাগরিক মঞ্চের কথা বলছি আমরা? নাকি ঢাকার বাইরের নাটকের কথা বলছি? নাটকের বিষয়বস্তু এবং আঙ্গিক নিয়ে আরও বিশদভাবে আলোচনার দরকার ছিল। অন্যদিকে বাংলাদেশের নাটকের তাত্ত্বিক জায়গাগুলো পদ্ধতিগতভাবে বইটিতে আলোচিত হয়নি। আমার মনে হয় নাটকের এই বইটি পড়ে নাট্যচর্চা নিরূপণে গবেষকদের অসুবিধায় ফেলে দেবে।

অভিজিৎ  সেনগুপ্ত বলেন, বাংলাদেশের ৫০ বছরের নাটকের কথা বললে সাতচল্লিশের  দেশভাগ থেকে শুরু করে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ে গণআন্দোলন, গণতন্ত্রের বর্তমান অবস্থা- এসব কিছু তুলে আনতে  চেয়েছি এ সংকলনে।   সে সঙ্গে বাংলা নাটকের আঙ্গিক, প্রয়োগ, আলো, সেট, সংগীতায়োজনের সঙ্গে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের নাট্যচর্চার রূপরেখা এ বইয়ে সন্নিবেশিত হয়েছে।  সাধারণ পাঠক নয়; আমার লক্ষ্য ছিল গবেষক ও নাট্যকলার শিক্ষার্থীরা।

বইটিতে রয়েছে প্রয়াত নাট্যকার অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ, আতাউর রহমান, অধ্যাপক  সৈয়দ জামিল আহমেদ,   গোলাম সারোয়ার, খ ম হারুন, অধ্যাপক আবদুস সেলিম, ইউসুফ হাসান অর্ক, আইরিন পারভীন লোপা, ইউসুফ ইকবাল, কুমার প্রীতীশ বল,  গোলাম শফিক, জিয়াউল হাসান কিসলু, প্রদীপ দেওয়ানজি,  বাবুল বিশ্বাস, ম. সাইফুল আলম চৌধুরী, মোস্তফা হীরা, অধ্যাপক রতন সিদ্দিকী, রুমা মোদক, রহমান রাজু, সনজীব বড়ুয়া, সুমনা সরকার, শিশির দত্ত, অরূপ বড়ুয়া ও অসীম দাশের নানা প্রবন্ধ। বইটির মূল্য ৯০০ টাকা।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল