• মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪৩১

  • || ১৯ জ্বিলকদ ১৪৪৫

আজকের টাঙ্গাইল

বগুড়ায় গড়ে উঠছে সবুজ অর্থনীতির বলয়

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ৩ জুন ২০২৩  

বগুড়া অঞ্চলে ধান আবাদের চেয়ে বেশি চোখে পড়ে সবজি। ঘরে ধান ওঠার পর কৃষকের একদন্ড ফুরসত নেই। ঝাঁপিয়ে পড়েছে সবজি আবাদে। বসে নেই গাঁয়ের বধূ। নিজেদের আঙিনায় সবজি ফলাচ্ছেন। গাঁয়ের তরুণীদেরও সবজির মাঠে দেখা যায়। কৃষক বলছেন সবজি চাষে এখন গ্রীষ্ম বর্ষা শীত নেই। সবজির ফলন ভর মৌসুমে ভর বছর। হাইব্রিড সবজি অনেক আগে এসেছে। এগুলো দ্রুত বেড়ে ওঠে। দামও ভালো মেলে। কোনো সবজির আবাদ কখন হবে সেই হিসাব-নিকাশ পাল্টে গিয়েছে। একটি সবজির আবাদ শুরুর পর আরেকটি চলে আসে। এক সবজি ওঠার পর আরেকটি। সবজি আবাদে কৃষক কোনো ফাঁকা ভূমি রাখছে না। মাঠপর্যায়ের চিত্রে দেখা যায় কোনো ভূমি আর পতিত থাকছে না। বাড়ির উঠানে বহির্আঙিনায় (খুলি) লাল শাকসহ সব ধরনের শাক মুলা চিচিঙ্গা সিম ফুলকপি বাঁধাকপি ঢেঁড়স টমেটো আবাদ করছে। বাঁশের জাংলা বসিয়ে লাউ করলা আবাদ করছে। গ্রামে সবুজ অর্থনীতির বলয় বেড়ে নতুন মাত্রায় গতি পাচ্ছে।

মাঠ পর্যায়ের কৃষক বলছেন, ধান আবাদের চেয়ে সবজি আবাদে লাভ বেশি। এখন ভর বছর সব ধরনের সবজি ফলানো যায়। ফলনে কম সময় লাগে। বেচা যায় ভর বছর। ধানে তা হয় না। আমন আউশ বোরো এগুলো সময়ের ধান। ঋতুর পালাবদলের ফসল সব সময় থাকছে। সকল ঋতুতে ফলানো ধানের অনেক ভ্যারাইটি এসেছে। শীতের সবজিও গ্রীষ্ম বর্ষা শরতে ফলছে। এমনটিই ঘটেছে বগুড়ায়। এর মধ্যে বগুড়া সদর শিবগঞ্জ মহাস্থানগড় ও তার আশপাশের এলাকা, শাজাহানপুর শেরপুর ধুনট সারিয়াকান্দি সোনাতলা কাহালু নন্দীগ্রাম উপজেলার গ্রামগুলোতে ফলছে বরবটি, সিম, পালং শাক, পুই শাক, বেগুন, মুলা, গাজর, করলাসহ সব ধরনের সবজি।

শিবগঞ্জের উথলি গ্রামের প্রবীণ কৃষক মালেক উদ্দিন বললেন ‘কিছুই কওয়া যায় না বাপো। কলিকালে সব পাল্টে গেছে। গরমের মধ্যে ফুলকপি মুলা বেগুন গাজর হয় তাও দেখা লাগিচ্চে।’ এই বিষয়ে কৃষি বিভাগ জানায়, সময়ের ঋতু সময়ে ঠিক থাকছে না। জলবায়ু প্রকৃতির মতিগতি পাল্টে গিয়েছে। এখন সকল সিজনে সব ধরনের ফসল মিলছে। তাছাড়া উন্নতজাতের অনেক বীজ এসেছে। বাড়তি পরিচর্যায় কোনো নির্দিষ্ট ঋতুর সবজির আগাম চাষ হচ্ছে।


বগুড়া অঞ্চলে এই গরমেও সবজির আগাম আবাদকে এগিয়ে নিচ্ছে কৃষক। বগুড়ার মাঠে এখন পুরুষের পাশাপাশি নারী কৃষকদেরও সবজির মাঠ পরিচর্যায় দেখা যায়। শাজাহানপুরের জসিম উদ্দন বললেন, তিনি গতবছর আষাঢ় মাসে ফুলকপি ও বাঁধাকপির চাষ করেছিলেন দশ শতাংশ জমিতে। ফলন ভালো হয়েছিল। তিন হাজার টাকা মন দরে ফুলকপি বিক্রি করেছিলেন। বললেন এ বছর বর্ষাকালেও তিনি ভিন মৌসুমের সবজি আবাদ করবেন। জানালেন গত ছয় মাসে তিনবার সবজি ফলন ঘরে তুলেছেন। মৌসুমের আগাম সবজি বেচে বেশি দাম পাওয়া যায়।


শিবগঞ্জের উত্তর শ্যামপুর, মাঝপাড়া, বাকসন, এনায়েতপুর, সাদুল্লাপুর, জামালপুর, বাড়ুগড়, রায়নগর, কাজীপুর এবং মহাস্থানগড়ের আশপাশের গ্রামে কৃষক এক ফসল সবজি বিক্রি করে পুনরায় সবজি আবাদের মাঠে নেমেছে। কেউ চারা রোপণ করছে কেউ উঠতি সবজি আবাদে পরিচর্যা করছে। এই সবজির তরকারির স্বাদ মৌসুমের সবজির মতোই। কয়েক গৃহিনী বললেন অসময়ে পালং শাক রেঁধেছিলেন। স্বাদ একই। আগাম পালং শাক পাতার আকার বড়। বলা হয় হাইব্রিড। মৌসুমের লাল শাকের চেয়ে আগাম লাল শাকের স্বাদ ভালো।

শাজাহানপুর গ্রামের শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম বললেন, তাদের গ্রাম এখন চারার গ্রাম নামে পরিচিতি পেয়েছে। সবজির এমন কোনো চারা নেই যা পাওয়া যায় না। যে কারণে চারার গ্রামের আশপাশের কৃষক কি গ্রীষ্ম কি বর্ষা কি শীত সব মৌসুমেই সকল ধরনের সবজি আবাদ করে। তিনি ২০ শতক জমিতে সবজির চাষ করেছিলেন। ভালো ফলন পেয়েছে। সবজি আবাদে প্রতি বিঘায় খরচ হয় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। মহাস্থানগড়ের কৃষক শামীমুল ইসলাম জানালেন, শিবগঞ্জ ও মহাস্থান এলাকার সবজি ভর বছর ঢাকায় যাচ্ছে। এই এলাকার সবজির কদর বেশি। ঢাকা থেকে যে মহাজন সবজির ট্রাক লোড দেওয়ার জন্য প্রতিনিধি পাঠান তারা বলেন বগুড়ার সবজি ঢাকায় পৌঁছার সঙ্গেই দ্রুত বিক্রি হয়।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জানান, গত ক’বছর ধরেই বগুড়া অঞ্চল সবজি আবাদে বড় ভূমিকা রাখছে। প্রতিবছর সবজি আবাদের ভূমি বাড়ছে। ঋতুর পালাবদলেও বগুড়া অঞ্চলে সব মৌসুমে সব ধরনের ফসল ফলছে। এগিয়ে আছে সবজি আবাদে। এই ধারাবাহিকতায় আশপাশের এলাকাগুলোতেও সবজি আবাদের প্রভাবে বেশি সবজি উৎপাদিত হচ্ছে। বগুড়া অঞ্চলে সবজি আবাদে যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় এর বাইরে কৃষক নিজ উদ্যোগে বাড়তি সবজি আবাদ করে। কোনো ভূমি পতিত থাকছে না। যেমন ২০২১ সালে বগুড়া এলাকায় সবজির আবাদের টার্গেট করা হয় ৪ হাজার ৩শ’ ৮৫ হেক্টর জমি। পরবর্তী বছরে তা বেড়ে হয় ৬ হাজার ৪শ’ ৮০ হেক্টর। চলতি বছর ওই টার্গেট বেড়ে হয়েছে ৮ হাজার হেক্টরেরও বেশি।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল