• মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪৩১

  • || ১৯ জ্বিলকদ ১৪৪৫

আজকের টাঙ্গাইল

কেউ গরিব থাকবে না

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ১১ মে ২০২৪  

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার দেশবাসীকে অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল করতে বহুমাত্রিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। আমরা বহুমাত্রিক কর্মসূচি হাতে নিয়ে প্রত্যেক মানুষকে আর্থিকভাবে সচ্ছল করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমরা দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে অনেক উদ্যোগ নিয়েছি। সরকারের নেওয়া কর্মসূচিগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে দেশে কেউ গরিব থাকবে না। সবাই যাতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে, সে জন্য আমরা কাজ করছি। শুক্রবার টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে দরিয়ারকুল গ্রাম উন্নয়ন সমিতির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি আমার বাড়ি, আমার খামার’, জনগণকে আর্থিক অনুদান প্রদান, সর্বজনীন পেনশন স্কিম এবং গ্যারান্টি ছাড়া ঋণ প্রদান, সমাজ থেকে দারিদ্র্য বিমোচন করার জন্য যুবকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদান ইত্যাদি বহুমাত্রিক কর্মসূচির বর্ণনা দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুদ্র সঞ্চয় নিশ্চিত করতে এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়তা করতে সারাদেশে সমবায় সমিতি গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। এ জন্য প্রতিটি এলাকায় সমবায় সমিতি গঠন করে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণে আওয়ামী লীগ নেতাদের আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান। বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল করতে সারাদেশে সমবায় গঠনের ধারণা ছড়িয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন তিনি। পরে টানা চতুর্থবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় চত্বরে দরিদ্রদের মাঝে রিপার মেশিন, সার, ল্যাপটপ, ১০টি সাইকেল, ১০টি রিক্সা ভ্যান, ৩০টি সেলাই মেশিন এবং ৩৮ জনকে ৪০ হাজার টাকার আর্থিক অনুদান, ১০ জোড়া কবুতর এবং ৩৮ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন। এ সময় সুবিধাভোগীরা তাদের সরঞ্জাম ও আর্থিক অনুদান পেয়ে অনুভূতি ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতির পিতার কনিষ্ঠ কন্যা ও প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম। অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিবেশ রক্ষায় আওয়ামী লীগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বর্ষাকালে দলের প্রত্যেক সদস্যকে অন্তত তিনটি করে গাছের চারা লাগানোর আহ্বান জানান। এর আগে শুক্রবার সকালে ব্যক্তিগত সফরে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু দিয়ে সড়ক পথে তাঁর পৈত্রিক নিবাস গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছান। পৌঁছার পর পরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর বোন শেখ রেহানা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের শহীদ সদস্যদের জন্য প্রার্থনা করেন। এ সময় বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, ঢাকা সিটি করপোরেশন দক্ষিণের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ছাড়াও জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম, পুলিশ সুপার আল-বেলী আফিফাসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়া উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। পরে মধ্যাহ্ন বিরতিতে তিনি নিজ বাসভবনে অবস্থান নেন। পুরো বিকেলটা নিজ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেই সময় কাটান বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে টুঙ্গিপাড়া ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী। রওনা দেওয়ার আগে পুনরায় বঙ্গবন্ধুর মাজারে গিয়ে মাজার জিয়ারত করেন তিনি। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দেওয়া ৯ দশমিক শূন্য ৫ একর জমিতে গড়ে ওঠে দরিয়াকুল সমবায় সমিতি। দরিয়াকুল গ্রাম উন্নয়ন সমিতির উপদেষ্টা শেখ হাসিনা সমবায় পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি সমবায়ের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সমবায় ব্যবস্থায় জমির মালিকানা পরিবর্তন হবে না এবং ফসলকে তিন ভাগে ভাগ করা হবে। প্রতিটি ফসলের একটি অংশ মালিক ও কৃষকরা এবং সমবায়ের কাছে একটি অংশ যায়। তিনি অন্যের ওপর নির্ভরতা কমাতে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে প্রতি ইঞ্চি জমি চাষের আওতায় আনার আহ্বান জানান। সরকার দেশবাসীর নিরাপদ ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিমের উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শুধু বর্তমানের জন্য নয়, ভবিষ্যতের জন্যও কাজ করছি। সর্বজনীন পেনশন স্কিমের সুবিধাভোগীদের ভবিষ্যৎ জীবন সুরক্ষিত করবে। নিজে যারা কাজ করে খান তাদের জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিম। এই সর্বজনীন পেনশন স্কিম আমি এভাবে করেছি যারা একটু অর্থশালী তারা ৫ হাজার টাকা করে রাখতে পারবে প্রতি মাসে। ২০ বছর বা ৩০ বছর বা ৪০ বছর পর থেকেই এই পেনশনের টাকা তুলতে পারবেন। প্রবাসী যারা বিদেশে কাজ করে তাদের জন্যও একটা স্কিম আছে। তারাও সেখানে দুই বা তিন হাজার টাকা রাখতে পারে। শুধু বর্তমানে না ভবিষ্যতে আমাদের মানুষের জীবন যাতে সুরক্ষিত থাকে, বয়স হয়ে গেলে কারও ওপর বোঝা হতে না হয়, সে জন্য এ ব্যবস্থা করেছি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের স্মৃতিচারণ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমরা যদি হিসাব করে দেখি, সেই ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত এ দেশের মানুষের কোনো আয় বাড়েনি। বরং ওই সাড়ে তিন বছরে জাতির পিতা মাথাপিছু আয় যেটুকু বৃদ্ধি করেছিলেন, ৯২ ডলার থেকে ২৭০ ডলার পর্যন্ত বাড়িয়েছিলেন। পরবর্তীতে দেখা যাচ্ছে, একটানা শুধু মানুষের আয় কমেই যাচ্ছে, কমেই যাচ্ছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের আয় বাড়েনি। কারণ জাতির পিতাকে হত্যা করে যারা ক্ষমতা নিয়েছিল, তারা প্রকৃতপক্ষে গণতান্ত্রিক ধারার না; তারা ক্ষমতা দখল করেছিল জাতির পিতাকে হত্যা করে এবং তারা এ দেশের মানুষের ভাগ্য গড়তে চায়নি। আমাদের স্বাধীনতাকে ব্যর্থ করতে চেয়েছিল। শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যখন সেই পাকিস্তানি কারাগার থেকে ফিরে আসেন। তিনি বাংলাদেশটাকে স্বাধীন-সার্বভৌম ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন। আমাদের ভূখণ্ড অত্যন্ত ছোট কিন্তু আমাদের জনসংখ্যা বেশি। আর সেই সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চাষ উপযোগী জমি সীমিত। তার ওপর পরিবারগুলো যখন ভাগ হয়, প্রত্যেক জমিও ভাগ হয়। ভাগ হলেই সেখানে আইল বসে, অনেক চাষ উপযোগী জমি তাতে নষ্ট হয়ে যায়। সরকার প্রধান বলেন, বাংলাদেশের জনগণের দুঃখ দারিদ্র্য দূর করার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব পদক্ষেপ নেন। তিনি বলেছিলেন, আমি এই ঘুণে ধরা সমাজ ভেঙে নতুন সমাজ গড়ে তুলব। তিনি জানতেন, আমাদের যদি উৎপাদন বাড়াতে হয়, তা হলে সেখানে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ করতে হবে, শুধুমাত্র সনাতনী পদ্ধতিতে চাষ করলে হবে না, আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করতে হবে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশ, যেমন জাপানকে উদাহরণ হিসেবে তিনি দেখাতেন যে, জাপানের জমিতে তিন গুণ বেশি ফসল হয়, আমাদের দেশে কেন হবে না? সেই লক্ষ্য নিয়ে বঙ্গবন্ধু বহুমুখী গ্রাম সমবায় গড়ে তোলেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু যে সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন, সেই সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কীভাবে সমস্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো, গণমুখী করা এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন যাতে হয় সেই ব্যবস্থা তিনি নিয়েছিলেন। দেশের মানুষকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে আওয়ামী লীগ সরকারের নানা উদ্যোগের কথাও এ সময় তুলে ধরেন টানা চতুর্থবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমরা চাই, সারা বাংলাদেশে এভাবে মানুষকে নিয়ে যৌথভাবে উৎপাদন বৃদ্ধি, সঞ্চয়ের মাধ্যমে মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতি এবং সঞ্চয়ের মাধ্যমে জীবনমান উন্নত করতে। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কেন আমাদের মাথা নিচু করে অন্যের কাছে হাত পেতে চলতে হবে? এমন প্রশ্ন করে যুবকদের উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের যুবসমাজ কম্পিউটার ট্রেনিং নিচ্ছে, প্রত্যেকটি স্কুলে কম্পিউটার ল্যাবরেটরি করে দিচ্ছি, ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। এর মাধ্যমে যেন প্রত্যেকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে সেটাই আমাদের লক্ষ্য। তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের পরে বিদেশের মানুষ খুব করুণার চোখে দেখত। বাংলাদেশ মানে গরিব দেশ, বাংলাদেশ মানে দরিদ্র দেশ, মানে ভিক্ষা করে খায়, বাংলাদেশ মানুষের কাছে হাত পেতে চলে, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করত- যেটা আমার খুব কষ্ট লাগত। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ডাকে সাড়া দিয়ে এ দেশের মানুষ অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করে নিজের জীবন দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে। স্বাধীন দেশের নাগরিক, আমরা যুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছি। আমরা বিজয়ী নাগরিক, আমরা বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে চলব। নিজ আসনের ভোটারদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়াবাসীর কাছে আমি এ জন্য কৃতজ্ঞ যে, এলাকা নিয়ে আমার খুব বেশি চিন্তা করতে হয় না। সবাই মিলেই কাজ করে দেয়। আর আমি সারা বাংলাদেশটাকে দেখি। আমার তো একটি আসন। সকলের একটা করে আসন থাকে আমার ৩শ’ আসন। প্রত্যেকের উন্নয়নের জন্য আমাকে কাজ করতে হয়। তার পরেও টুঙ্গিপাড়া আসলে অন্যরকম ভালো লাগে। এখানে থাকতে ইচ্ছা করে। যখন আমি অবসর পাব এই টুঙ্গিপাড়তেই থাকব এটাই আমার লক্ষ্য। দু’বোনকে এখানে থাকতে হবে। কোটালীপাড়াবাসীকে কৃতজ্ঞা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমার দায়-দায়িত্ব তো আপনারাই নিয়েছেন। আমার তো কোনো কষ্ট করতে হয় না, আপনারাই দেখেন। কাজেই এটাও আমার জন্য বিরাট শক্তি। হেঁটে শৈশবের স্মৃতিময় টুঙ্গিপাড়া ঘুরলেন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা ॥ মধুমতি আর বাঘিয়ার নদীর তীরে এবং হাওড়-বাঁওড়ের মিলনে গড়ে ওঠা বাংলার অবারিত গ্রাম টুঙ্গিপাড়া। এখানেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। শুক্রবার ছোটবোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে ব্যক্তিগত সফরে টুঙ্গিপাড়ায় আসেন তিনি। এদিন নিজ বাসভবন থেকে গ্রামের পথ ধরে হেঁটেই এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন। যাওয়ার পথে এক সোনালু গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে ছবি তোলেন। স্মৃতিময় নিজ গ্রামে বৈশাখের তপ্ত দুপুরে যেন শৈশবে ফিরে যান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই দুই কন্যা। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী তাঁর টুঙ্গিপাড়ার বাসভবন থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে যাওয়ার পথে অবতারণা ঘটে এই দৃশ্যের। সফরসঙ্গীরা জানান, সোনালু ও কৃষ্ণচূড়া গাছের ছায়া সুনিবিড় পথ হেঁটে পার হওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী মধুমতি নদীর সঙ্গে যুক্ত খালের পাশে হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়েন। পরম স্নেহে কাছে ডেকে নেন ছোট বোন শেখ রেহানাকে। পিতৃভূমিতে সোনালু গাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে ছোট বোনকে নিয়ে ছবি তোলেন তিনি। পরে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ‘দরিয়ারকুল গ্রাম উন্নয়ন সমিতি’র সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি সংক্ষিপ্তভাবে বহুমাত্রিক কর্মসূচির বর্ণনা দেন, যার মধ্যে রয়েছে ‘আমার বাড়ি, আমার খামার’, জনগণকে আর্থিক অনুদান প্রদান, সর্বজনীন পেনশন স্কিম এবং গ্যারান্টি ছাড়া ঋণ প্রদান, সমাজ থেকে দারিদ্র্য বিমোচন করার জন্য যুবকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদান ইত্যাদি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি এলাকায় সমবায় সমিতি গঠন করে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণে আওয়ামী লীগ নেতাদের আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ রক্ষায় তার দলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বর্ষাকালে দলের প্রত্যেক সদস্যকে অন্তত তিনটি করে গাছের চারা লাগানোর আহ্বান জানান।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল