• বুধবার ২৪ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ১১ ১৪৩১

  • || ১৪ শাওয়াল ১৪৪৫

আজকের টাঙ্গাইল

হিমালয়ের দুর্গম পথে ১০৯ দিনের অভিযান বাংলাদেশির

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০২৩  

নেপালের পূর্ব-পশ্চিমে অবস্থিত বিস্তীর্ণ ‘গ্রেট হিমালয়া’ বা বৃহত্তর হিমালয়ের দুর্গমগিরি পথ (ট্রেইল) পাড়ি দেওয়ার স্বপ্ন রাতের পর রাত ঘুমাতে দেয়নি গাজীপুরের ইকরামুল হাসান শাকিলকে। অবশেষে ১০৯ দিনে পর্বতের উঁচুতে ১ হাজার ৭০০ কিলোমিটার বন্ধুর পথ হেঁটে শাকিল তাঁর স্বপ্ন ছুঁইয়েছেন। এ অভিযানে ৫ হাজার ৭৫৫ মিটার উঁচু তাশি-লাপৎসা পর্বতের চূড়ায় উড়িয়েছেন লাল-সবুজের পতাকা। তিনিই প্রথম বাংলাদেশি, যিনি এই পথ পাড়ি দিলেন।

কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাসের নিজস্ব ফেসবুক পেজে শাকিলের এ অর্জনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দূতাবাসে তাঁকে সংবর্ধনাও দেওয়া হয়। দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ এ অভিযান শেষে শাকিল গতকাল গাজীপুরের ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাগচালা গ্রামে ফিরে এসেছেন।


বিশ্বের ৩৩তম এবং সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে নেপালের গ্রেট হিমালয়া ট্রেইলের দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন ২৯ বছর বয়সী শাকিল। গ্রেট হিমালয় বা বৃহত্তর হিমালয় বা হিমাদ্রি হল হিমালয় রেঞ্জের সর্বোচ্চ পর্বতশ্রেণী। বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট এবং অন্যান্য উচ্চ শৃঙ্গ যেমন কাঞ্চনজঙ্ঘা, লোটসে এবং নাঙ্গা পর্বত বৃহত্তর হিমালয় পর্বতের অংশ। এর মোট বিস্তৃতি ২ হাজার ৪০০ কিলোমিটার এবং এগুলোর গড় উচ্চতা ২০ হাজার ফুট। গাঙ্গোত্রী হিমবাহসহ বেশ কয়েকটি হিমবাহ রয়েছে এ পথে।

‘গ্রেট হিমালয়া ট্রেইল’ নামে একটি ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেপাল থেকে সীমান্ত পর্যন্ত ৯৩ জন অভিযাত্রী নিবন্ধিত হয়েছেন। এর মধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন মাত্র ৩২ জন অভিযাত্রী। সেই হিসেবে শাকিল ৩৩তম সফল অভিযাত্রী।  

দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ এ অভিযানের নানা বিষয় নিয়ে সমকালের মুখোমুখি হয়েছিলেন শাকিল। শোনান, বেশ কয়েকবার মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে আসার ভয়ংকর সব গল্পও। জানালেন, নেপালের পশ্চিম প্রান্তের হিলশা সীমান্ত থেকে শুরু করে পূর্বাঞ্চলীয় কাঞ্চনজঙ্ঘা বেস ক্যাম্প পর্যন্ত অভিযানে তিনি ২৯টি দুর্গম গিরিপথ অতিক্রম করেছেন। এর মধ্যে ১৪টিই ছিল বিপদসংকুল। বেশ কয়েকবার বিপদের মুখে পড়েও ফিরে এসেছেন।

পাহাড়ের ওপরে বসবাসকারী একটি পরিবারের আতিথেয়তার কথা তিনি কখনও ভুলবেন না বলে জানালেন। শাকিল বলেন, ‘নেওয়ারি সম্প্রদায়ের এক দিদির বাসায় এক রাত থাকার সুযোগ হয়েছিল। সারাদিন বৃষ্টির মধ্যে ট্রেকিং করে সন্ধ্যার সময় যখন তাঁর বাড়িতে এসে রুম ভাড়া দেওয়ার শর্তেই উঠেছিলাম। তারপর তাদের সঙ্গে এমন সম্পর্ক হয়ে গেল  যে,  রুম ভাড়া এবং খাবারের বিল ফ্রি করে দিলেন। ফেরার সময় সম্মান জানিয়ে গলায় উত্তরীয় পরিয়ে দিলেন। আবার যেন আসি–সে কথাও বারবার বললেন দিদি। এ রকম শত শত মানুষের ভালোবাসা আর অভিজ্ঞতা আমাকে ঋণী করেছে।’

শাকিল বলেন, আমার এই অভিযানে এগিয়ে এসেছিল হা-মীম গ্রুপ। দারাজও সহযোগিতা করেছে। দেশের সুপ্রতিষ্ঠিত হা-মীম গ্রুপ ও দারাজের প্রতি আমি কতৃজ্ঞ। স্পন্সর পেলে আরও বড় কোনো অভিযানে বের হব শিগগিরই।

কালিয়াকৈর উপজেলার বাগচালা গ্রামের প্রয়াত খবির উদ্দিন ও শিরিন আক্তার দম্পতির তিন ছেলের মধ্যে শাকিল প্রথম। ফ্যাশন ডিজাইনিং পড়াশোনা শেষ করেছেন। কাব্য সাধনা দিয়ে তাঁর স্কুলজীবন শুরু হলেও পরে পাহাড়-পর্বতের চূড়া স্পর্শ করার নেশা পেয়ে বসে। এর আগেও শাকিল আরোহণ করেছেন ৬ হাজার ১৮৬ মিটার উঁচুর মাউন্ট কায়াজো রি পর্বত, ৭ হাজার ১২৭ মিটার উঁচুর হিমলুং, ৬ হাজার ৩৩২ মিটারের দোলমা খাংসহ বেশ কিছু পর্বত।

শাকিলের মা শিরিন আক্তার বলেন, সব সময় ছেলের মঙ্গল কামনা করতে থাকি। আমার দোয়া আছে ওর সঙ্গে। জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, শাকিল আমাদের জন্য সম্মান বয়ে এনেছে। পরবর্তী কোনো অভিযানে প্রয়োজন হলে তাঁকে সহযোগিতা করা হবে।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল