• শনিবার ২২ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৮ ১৪৩১

  • || ১৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

সর্বশেষ:

ঘূর্ণিঝড় রেমাল: ঝালকাঠিতে পানি বৃদ্ধিতে সাপ আতঙ্ক!

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ২৭ মে ২০২৪  

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে ঝালকাঠির বিভিন্ন নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে ঢুকছে আবাসিক এলাকায়। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় সাপ উঁচু স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে। ঢুকে যাচ্ছে বাসা-বাড়িতে। সাপ আতঙ্ক বিরাজ করছে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বলা হলে অনেক স্থানের মানুষই নিকটবর্তী আশ্রয় কেন্দ্রে উঠলেও কিছু মানুষ জীবনের চেয়ে ঘরকে বেশি মূল্যবান মনে করে নিজ ঘরেই থাকছেন। পানি বৃদ্ধির ফলে সাপের বাসস্থান তলিয়ে যাওয়ায় উঁচু স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিচু বাগান, ঝোঁপঝাড়, জঙ্গল তলিয়ে গেছে। সাপের বসবাসের নির্ধারিত স্থান তলিয়ে যাওয় আশ্রয় নিচ্ছে উঁচু স্থানের ঝোপ-জঙ্গলে। ঢুকছে বাড়ি ঘরে। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দা মোজাম্মেল হক রনি বলেন, সকাল থেকেই পানি বাড়তে শুরু করেছে। সন্ধ্যার কিছুটা আগে অস্বাভাবিক পানি বাড়লে বাগানে সাপ সাঁতরাতে দেখেছি। কখন ঘরে উঠে আস্তানা নেয় আমরা সেই ভয়ে আছি। বিষাক্ত কি-না, তা বুজতে পারিনি। সাপটির রং ছিল কুচকুচে কালো। বিষখালী নদী তীরবর্তী সাচিলাপুর এলাকায় পানি ঢুকেছে। বেরিবাঁধের উপরে বিকেলে দুটি সাপ স্থানীয়রা পিটিয়ে মেরেছে বলে ঐ এলাকার লোকজন জানান। এছাড়াও ঐ এলাকায় সাপের আতঙ্ক অন্যান্য এলাকার স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। নদী তীরবর্তী হওয়ায় অনেক পরিত্যক্ত জমিতে ঝোঁপঝাড় রয়েছে। তাতে বিভিন্ন প্রজাতির সাপ অভয়াশ্রমে বসবাস করছে। ঐসব স্থান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সাপগুলো লোকালয়ে উঠবে। এ নিয়ে আতঙ্কগ্রস্ত ঐ এলাকার বাসিন্দারা। শুধু এক এলাকাই না, এভাবে প্রত্যেকটি এলাকার লোকই সাপ আতঙ্কে রয়েছে। ঝালকাঠি সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জেবুন্নেছা বলেন, আমাদের এদিকে যেসব সাপ আছে, তার অধিকাংশই নির্বিষ। তবুও কোনটা বিষাক্ত আর কোন নির্বিষ তা সাধারণ মানুষ জানে না। তাই সব ধরনের সাপ থেকেই সতর্ক থাকা উচিত। তিনি আরো জানান, সাপ পানিতে সাঁতার কাটে কিন্তু বসবাস করতে পারে না। উঁচু স্থানের নিঝুম ঝোঁপঝাড়, রান্নাঘর, গোয়াল ঘর, কাচারি ঘর, পরিত্যক্ত ঘরে বাসা বাঁধে। সেখানেই প্রজননের মাধ্যমে বংশ বিস্তার ঘটায়। শুকনো মরিচ পুড়ে ঘুরিয়ে নেয়া এবং সাইট্রিক এসিড ব্যবহার করলে সেখানে সাপ থাকতে পারে না। সাপ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। নিরাপত্তার স্বার্থে সাপকে তাড়িয়ে দিতে হবে কিন্তু মারা যাবে না বলেও পরামর্শ দেন তিনি।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল