• মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪৩১

  • || ১৯ জ্বিলকদ ১৪৪৫

আজকের টাঙ্গাইল

রোহিঙ্গাদের জন্য সরকারের ব্যয় ১৭ হাজার কোটি টাকা

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০২৩  

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ কমছে; কমছে আর্থিক সহায়তাও। ফলে রোহিঙ্গাদের পেছনে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। গত এক বছরে সরকারের খরচ হয়েছে ১৬৯ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৭ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জিজ্ঞাসার জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সরকারের খরচের এই তথ্য জানিয়েছে বলে একটি সূত্র আমাদের সময়কে নিশ্চিত করেছে।

কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত পুলিশ, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতা, রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য খাতে সরকারের এই অর্থ খরচ হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অস্থায়ীভাবে প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গাকে স্থানান্তরের জন্য নিজস্ব ৩৫ কোটি ডলার ব্যয়ে ভাসানচরকে বাসযোগ্য করে তোলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩১ হাজার রোহিঙ্গাকে সেখানে স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে

রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান আমাদের উন্নয়ন আকাক্সক্ষার জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আতিথেয়তার প্রভাব বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়েছে। রোহিঙ্গাদের জন্য আমাদের প্রতিবছর প্রায় ১২২ কোটি ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে।

এদিকে পর্যাপ্ত অর্থ না আসায় কিছু বেসরকারি সংস্থা বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি কমিয়ে আনতে শুরু করেছে। জয়েন্ট রেসপন্স প্লান বা জেআরপির হিসাবে ২০২২ সালে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা বা ইউএনএইচসিআর প্রায় ৮৮ কোটি ডলার সহায়তা চাইলেও এসেছে ৬২ শতাংশ। এর আগের বছর আসে ৭০ শতাংশ। ২০১৯ সালে ৯২ কোটি ডলার চেয়ে পাওয়া গিয়েছিল ৬৯ কোটি ডলার। ২০২০ সালে ১০৫ কোটি ডলার চেয়ে পাওয়া গেছে ৬৮ কোটি ডলার। আর ২০২১ সালে ৯৪ কোটি ডলার চেয়ে পাওয়া গেছে ৬৭ কোটি ডলার।

রোহিঙ্গাদের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, গত কয়েক বছর ধরেই আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রত্যাশা অনুযায়ী আসছে না। বর্তমানে আরও কম আসছে। মূলত ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, জ্বালানি ও চিকিৎসার মতো বিষয়গুলোতে সহায়তা দিয়ে আসছে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা, জাতিসংঘ অভিবাসন সংস্থা ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি। আর শিক্ষার বিষয়টির দেখভাল করে ইউনিসেফ।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য সংস্থা (ডব্লিউএফপি) কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরগুলোতে (ক্যাম্প) নিবন্ধিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের জন্য খাদ্যসহায়তা মাথাপিছু ১৭ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের খাবারের পেছনে এত দিন মাথাপিছু মাসিক বরাদ্দ ছিল ১২ ডলার। ১ মার্চ থেকে সেটি ১৭ শতাংশ কমিয়ে করা হয়েছে ১০ ডলার। খাবারের জন্য রোহিঙ্গাদের হাতে টাকা দেওয়া হয় না। পরিবারপ্রতি একটি করে ই-ভাউচার (একধরনের রেশনকার্ড) দেওয়া হয়। পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য ওই ভাউচারে ১০ ডলার করে দেওয়া হয়। কোনো পরিবারের পাঁচজন সদস্য থাকলে ই-ভাউচারে জমা হবে মাসে ৫০ ডলার। ওই ভাউচার দিয়ে ক্যাম্পের ভেতরে ডব্লিউএফপির নির্দিষ্ট আউটলেট থেকে নিজের পছন্দ অনুযায়ী খাবার (চাল, ডাল, মাছ, মাংস, তরিতরকারি ইত্যাদি) কেনা যায়।

দুই বছরের বেশি বয়সী শিশুদের পুষ্টিসহায়তাও কিছুটা কমেছে। তহবিলসংকটের কারণে সামনের দিনগুলোতে সুযোগ-সুবিধা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। বিষয়টি রোহিঙ্গাদের কপালে নতুন করে দুশ্চিন্তার ছাপ ফেলেছে।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল