• বুধবার ২৬ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ১১ ১৪৩১

  • || ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

সাংবাদিক-ইউএনওকে নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য, এমপি ফারুকের ভিডিও ভাইরাল

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ৩০ মে ২০২৪  

সাংবাদিকের প্রশ্ন শুনে রেগে গিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করেন রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ওমর ফারুক চৌধুরী। পরে সাংবাদিকদের তোপের মুখে পড়ে সেখান থেকে চলে যান তিনি। এ সম্পর্কিত একটি ভিডিও মুহূর্তেই ভাইরাল হলে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা- সমালোচনা। বৃহস্পতিবার দুপুরে গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকে এ ঘটনা ঘটে। এদিন উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেল শপথ নেয়ার পর প্রথম তার কার্যালয়ে যান। তিনি এমপি ফারুক সমর্থিত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমকে চ্যালেঞ্জ করেই নির্বাচনে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হন। এদিকে, সাংবাদিকরা খবর পান বেলাল উদ্দিন সোহেলের প্রথম কর্মদিবসেই উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভা হবে। সভায় এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীও থাকবেন। সেখানে বেলালকে অফিসে বসতে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটতে পারে। এমন খবরের ভিত্তিতে সাংবাদিকরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থান নেন। উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রথম কর্মদিবস বলে তার কয়েকশ’ নেতাকর্মীও সেখানে জড়ো হন। দুপুর ১২টার দিকে সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিকুল ইসলাম পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সহায়তায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বেলালের কর্মী-সমর্থকদের বের করে দিচ্ছেন। ইউএনও নিজেই হ্যান্ডমাইকে বারবার নেতা-কর্মীদের চলে যেতে বলছিলেন। কিছুক্ষণ পর কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান ও ৩০-৪০ জন নেতা-কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের সামনে আসেন এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী। এসেই তিনি ‘এদিকে আসো, এদিকে আসো। সাংবাদিক সাহেবরা এদিকে আসো’ বলে সাংবাদিকদের ডাকেন। ওমর ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, আজ সমন্বয় মিটিং। এই মিটিংয়ে এই লোকগুলো কারা? এই অবৈধ সমাবেশটা কিসের? আমি ইউএনও সাহেবের কাছে প্রশ্ন করলাম। তাকে আমি দুইবার রিং করেছি যে, এই সমাবেশ হটাও। আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই সমাবেশ করা হয়েছে এবং এতে ইউএনও সাহেব ইনভলব কি-না আই ডোন্ট নো। বাট তাকে আমি দুইবার রিকোয়েস্ট করেছি এইগুলোকে হটানোর জন্য।’ এদিকে, সাধারণ জনগণ একজন জনপ্রতিনিধির সঙ্গে প্রথমদিন আসতে পারে কি-না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘না। আজকে এখানে মিটিং আছে। জনপ্রতিনিধির সঙ্গে আসতে পারে না। মিটিংয়ের দিনে পারে না।’ এ সময় কালের কণ্ঠের রাজশাহী ব্যুরো প্রধান রফিকুল ইসলাম প্রশ্ন করেন, ‘আপনার সঙ্গেও অনেক লোক আছে, তারা কেন এসেছেন?’ এ প্রশ্ন শুনেই রেগে যান এমপি ফারুক। তিনি বলেন, ‘এরা চেয়ারম্যান। শোনো, তোমার প্রবলেম হলো, তুমি অলওয়েজ বায়াস্ট হয়ে পয়সা খেয়ে প্রশ্ন করো। দিস ইজ ভেরি ব্যাড।’ এ সময় সাংবাদিকরা বলতে থাকেন, ‘আপনি এটা খারাপ বললেন। আপনার কথাটা ঠিক নয়। এমন কথা বলার জন্য আপনাকে ক্ষমা চাইতে হবে।’ এ সময় ফারুক চৌধুরী প্রতিবাদ করতে থাকা দৈনিক ইত্তেফাকের জ্যেষ্ঠ ফটোসাংবাদিক আজাহার উদ্দিনের নাম ধরে বলেন, ‘আমি তোমাকে এ কথা বলি নাই। যে আমাকে প্রশ্ন করেছে, আমি তাকে বলেছি।’ তখন সাংবাদিকরা বলতে থাকেন, ‘উনি আমাদের সভাপতি। আপনি একজন সাংবাদিককে এ কথা বলতে পারেন না। আপনাকে স্যরি বলে যেতে হবে। আপনি এভাবে কথা বলতে পারেন না।’ এরপরই সাংবাদিকদের তোপের মুখে দ্রুত সেখান থেকে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের ভেতরে চলে যান এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী। এ বিষয়ে সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম বলেন, এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী যাকে-তাকে যখন-তখন অপমানজনক কথা বলেন। তিনি কিছুদিন আগেই নিজের এলাকার এক কলেজ অধ্যক্ষকে পিটিয়েছেন। তাকে অত্যন্ত যৌক্তিক একটা প্রশ্ন করা হয়েছিল। কিন্তু তার পরিপ্রেক্ষিতে যে কথা তিনি বলেছেন, তা সাংবাদিকদের জন্য অপমানজনক। উপজেলা চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেল বলেন, ঘটনার সময় তিনি ভেতরে ছিলেন। বাইরে কী হয়েছে তা তিনি জানেন না। তিনি বলেন, ‘নতুন একজন জনপ্রতিনিধি দায়িত্ব নিতে গেলে তার সঙ্গে অনুসারীরা প্রথমদিন গিয়ে থাকেন। এজন্যই মানুষ ভালোবেসে আমার সঙ্গে এসেছিল। কেউ এমপিকে হত্যার উদ্দেশ্যে আসেননি। এরকম কেউ চিন্তাও করে না। এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী তাকে ‘হত্যার উদ্দেশ্যে সমাবেশ’ করার সঙ্গে ইউএনওর সম্পৃক্ততা থাকার ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেছেন। সে বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো কথা বলতে চাননি ইউএনও আতিকুল ইসলাম। এ বিষয়ে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) শামীম আহমেদ বলেন, এমপি সাহেব কী বলেছেন তা শুনিনি। তাই এ নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। তবে ইউএনও আতিকুল ইসলাম ভালো কাজ করছেন। স্থানীয় রাজনীতির দলাদলির সঙ্গে তার সম্পৃক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আর একজন সংসদ সদস্যকে যে সম্মান ও মর্যাদা দেওয়ার নির্দেশনা আছে, তা গোদাগাড়ীর ইউএনও দিচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও দিয়ে যাবেন।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল