• শুক্রবার ৩১ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৬ ১৪৩১

  • || ২২ জ্বিলকদ ১৪৪৫

আজকের টাঙ্গাইল

পদ্মা সেতু নির্মাণ শেখ হাসিনার সাহসী সিদ্ধান্ত

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ২১ জুন ২০২২  

বৈদেশিক তহবিল বন্ধ সত্ত্বেও দেশীয় অর্থায়নে পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তকে ‘অসীম সাহসী’ বলে মন্তব্য করেছেন চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। যে কোনো দেশের সাধারণ কোনো নেতার পক্ষে এ কাজ করা সম্ভব হতো কি না তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। গতকাল চীনা দূতাবাসে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বিদেশি কিছু উন্নয়ন অংশীদার বিশ্বাসই করতে পারেনি যে বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থায়নে এ ধরনের একটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারবে। তা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী সব সন্দেহ, চাপ ও অভিযোগের মুখে নিজেকে ইস্পাত কঠিন দৃঢ় রেখে শতভাগ বাংলাদেশের অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। এ সিদ্ধান্তের জন্য যে কোনো সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে দরকার ছিল অসীম সাহস এবং দৃঢ় রাজনৈতিক দায়িত্ববোধ। আমার সন্দেহ হয়, একটি দেশের সাধারণ কোনো নেতার পক্ষে তিনি (শেখ হাসিনা) যা করেছেন এ ধরনের কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হতো কি না, আমি সন্দেহ করি। সত্যিই আমি সন্দেহ করি।

তিনি আরও বলেন, এ সেতু সম্পর্কে ভাবতে গেলেই তিনটি শব্দ আমার মনে ভেসে ওঠে। তা হলো, সাহস, সংকল্প এবং সমৃদ্ধি। একটি চীনা কোম্পানি সেতুটি নির্মাণে জড়িত হওয়ায় এ প্রকল্পে তার দেশের অংশগ্রহণে গর্ববোধ করে লি জিমিং বলেন, এখন পর্যন্ত সম্ভবত এটাই সবচেয়ে বড় সেতু, যা চীনা কোম্পানিগুলো এ যাবৎ চীনের বাইরে তৈরি করেছে। সুতরাং আমি মনে করি, চীনের পক্ষেও এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা একটি সাহসী পদক্ষেপ।
বিদেশি অর্থায়ন ছাড়া এই সেতু নির্মাণ করে বাংলাদেশ বিশ্বকে কী বার্তা দিতে পেরেছে এমন প্রশ্নের জবাবে লি বলেন, এ শিক্ষাই পাওয়া গেছে যে বাংলাদেশের জনগণের ওপর আস্থা রাখা উচিত।

এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, এ প্রকল্প থেকে ঋণদাতা সংস্থাগুলোর সরে দাঁড়ানোকে তিনি কোনো ষড়যন্ত্রের ফল হিসেবে দেখতে চান না। এটি ছিল বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আস্থার অভাব, বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আস্থার অভাব। তবে, পূর্বের আর্থিক কার্যক্রমের আলোকে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি বেইজিংয়ের পূর্ণ আস্থা ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। আমরা জানি, আপনারা (বাংলাদেশ) যদি বলেন, আমরা নিজস্ব অর্থে কাজটা করব, তবে আপনারা তা করতে পারবেন। আমরা এটা বিশ্বাস করেছি এবং আমরা সঠিক আছি। রাষ্ট্রদূত বলেন, কেউ হয়তো এই সেতুতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক অর্জন দেখতে পছন্দ না-ও করতে পারে। সবাই খুশি নয়, কিন্তু, চীনা জনগণ খুশি।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল