• মঙ্গলবার ৩০ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ১৭ ১৪৩১

  • || ২০ শাওয়াল ১৪৪৫

আজকের টাঙ্গাইল

এলডিসি-পরবর্তী বাণিজ্য কৌশল নির্ধারণ জরুরী- ডিসিসিআই সভাপতি

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারি ২০২৩  

এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও রপ্তানিতে সুবিধা অব্যহত রাখতে সম্ভাবনাময় দেশগুলোর সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ)-সহ প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও সংস্কারে কৌশল নির্ধারণ জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার।

গতকাল সোমবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি’র সাথে সচিবালয়ে সাক্ষাৎকালে এমনটা জানান ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার।

সাক্ষাতে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশ রফতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পণ্য রফতানিতে ৮ থেকে ১৬ শতাংশ হারে শুল্ক প্রদান করতে হবে। এ পরিস্থিতিতে রফতানির ধারাকে অব্যাহত রাখতে সম্ভাবনাময় দেশগুলোর সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর করতে হবে। এছাড়া প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও সংষ্কার এবং স্থানীয় শিল্পখাতের প্রস্তুতি প্রভৃতি বিষয়ে কার্যকর কৌশল নির্ধারণ করতে হবে বলেও জানান তিনি।

দেশের রফতানির বাজার অধিক মাত্রায় ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও আফ্রিকায় নতুন নতুন বাজারে পণ্য রফতানিতে আরও বেশি হারে নজর দিতে হবে। পাশাপাশি এলডিসি পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের পণ্য রফতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রাপ্তির লক্ষ্যে রফতানি সম্ভাবনাময় দেশগুলোর সাথে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সালের পর বৈদেশিক বাজারে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে পণ্য আমদানিতে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক হার কমাতে হবে। কারণ প্রতিযোগী অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের শুল্ক হার তুলনামূলক বেশি।

আসন্ন রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সরবরাহের পদ্ধতি নিরবচ্ছিন্ন থাকা প্রয়োজন উল্লেখ করে ব্যারিস্টার সামীর বলেন, রমজানে পণ্যের মূল্য সহনীয় ও সাধারণ জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে। এর জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রমজান মাসে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে আমদানিকারকদের কর সুবিধা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।

এছাড়া তিনি বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়াতে একটি পৃথক ‘কমার্শিয়াল কোর্ট’ গঠনের প্রস্তাব করেন, যার মাধ্যমে দ্রততম সময়ে বাণিজ্য বিষয়ক বিরোধ নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। এর জন্য  তিনি ‘আরবিট্রেশন অ্যাক্ট ২০০১’-এর প্রয়োজনীয় সংষ্কারেরও প্রস্তাব করেন।

এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী তিনবছর পণ্য রফতানিতে শুল্ক সুবিধা পাওয়া গেলে, রফতানি সম্প্রসারণে সম্ভাবনাময় দেশ ও আঞ্চলিক ব্যাংক গুলোর সঙ্গে এফটিএ, পিটিএ ও সেপা সহ অন্যান্য চুক্তি স্বাক্ষরের ওপর আরও বেশি হারে মনোনিবেশ করতে হবে। বর্তমান সরকার এ বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করছে।

এছাড়া বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের ’ইন্টারন্যাশনাল সাপোর্ট মেজার্স (আইএসএমএস)’ বিষয়ক সুবিধা আদায়ের জন্য দক্ষতা বাড়ানোর ওপর তিনি জোরারোপ করেন বাণিজ্য মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। তাই দেশে অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় নীতিমালা সংষ্কারের ক্ষেত্রে সরকার বদ্ধ পরিকর।

মন্ত্রী আরও বলেন, কৃষি ও খাদ্য পণ্য উৎপাদনে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। আমাদের ‘কৃষি প্রক্রিয়াজতকরণ খাত’ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। স্পেন সহ বেশ কয়েকটি দেশ এই খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আশা করা যাচ্ছে, অদূর ভবিষ্যতে এ খাতে আমরা বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষনে সক্ষম হব।

সমুদ্র অর্থনীতির ওপর জোরারোপের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সমুদ্র অর্থনীতির সম্ভাবনা এখনও কাজে লাগানো না গেলেও, এই খাতে আরো অধিক হারে জোরারোপ করতে হবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ ইঞ্চি জমিও অনাবাদি না রেখে কৃষি কাজের আওতায় নিয়ে আসার ওপর অধিক হারে গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে ঢাকা চেম্বারের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি এস এম গোলাম ফারুক আলমগীর (আরমান), সহ-সভাপতি মো. জুনায়েদ ইবনে আলী সহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
 

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল