• বৃহস্পতিবার ০২ মে ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ১৮ ১৪৩১

  • || ২২ শাওয়াল ১৪৪৫

আজকের টাঙ্গাইল

খোশ আমদেদ মাহে রমজান

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ২৪ মার্চ ২০২৩  

আমরা মহান আল্লাহ তায়ালার অপার রহমতে পবিত্র মাহে রমজানুল মোবারকের সিয়াম সাধনা শুরু করেছি। বৃহস্পতিবার দিনের অবসানলগ্নে দেশের আকাশে মাহে রমজানের হেলাল বা নয়াচাঁদ উদিত হয়ে জানান দিল সিয়াম সাধনার। এশার ওয়াক্তে তারাবির সালাতে সুমধুর তিলাওয়াতের সুরে বরণ করে নেওয়া হলো রহমত  মাগফিরাত ও নাজাতের মাহিনাকে। মুমিন মুসলমানদের কাছে আজ এক পরম আনন্দ ও তৃপ্তির মুহূর্ত, তারা আজ এক মহানুভব ও ইবাদত উপভোগের পুতঃসায়রে সন্তরণ শুরু করেছে।

তারা এ মাসকে নিজের জীবন নিষ্পাপ পুণ্যময় করার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে। তাই দেখা যায়, মুসলিম সমাজের ঘরে-ঘরে রমজানের সমাদর, রমজানের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার বিভিন্ন আয়োজন, এ মাসের মাহাত্ম্য, ফজিলত ও বরকত অর্জনের জন্য নানা আমল ও কর্মসূচি। ইতিহাসে আমরা দেখি, সোনালি যুগের মুসলমানরা এ মাসকে যথাযথ ভাবগম্ভীর পরিবেশে অতিবাহিত করার জন্য রজব মাস থেকে প্রস্তুতি নিতেন এবং তারা রজব থেকে মাহে রমজান পর্যন্ত পুণ্য অর্জনের যে অবারিত ধারা প্রবাহিত হয়, তা পাওয়ার জন্য খোদা তায়ালার কাছে ফরিয়াদ করতেন। 
রমজানুল মোবারক উপলক্ষে কুরআন ও হাদীসে যেসব বাণী এসেছে তা সত্যিই একজন মুমিনকে সৎপথে জীবন রচনার এক দুর্দমনীয় প্রতিযোগিতায় উদ্বেলিত করে তোলে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাঁর পবিত্র আখেরি কালাম কুরআন মাজীদে ইরশাদ করেছেন: শাহরু রামাদানাল লাযী উনযিলা ফীহিল কুরআন হুদাললিন্নাসি ওয়া বায়্যিনাত...। ’


অর্থাৎ ‘রমজান মাস হলো সেই মাস- যাতে নাযিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য হিদায়াত এবং সত্য পথযাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট পথনির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, তিনি এ মাসে রোজা রাখবেন। আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবেন, তিনি অন্যদিনে গণনা পূর্ণ করবেন।

আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না - যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর এবং তোমাদের হিদায়াত দান করার দরুন আল্লাহ তায়ালার মহত্ত্ব বর্ণনা কর (আর), যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।’ 
হাদীস শরীফে বারবার এ মাসকে প্রথম থেকেই অনুধাবন ও সদ্ব্যবহার করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে হজরত সালমান ফারেসী (রা.) একটি দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একদিনকার ঘটনা। আঁ - হজরত (স.) শাবান মাসের শেষ তারিখ আমাদের উদ্দেশে এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। এতে তিনি ইরশাদ করেছেন: হে লোক সকল! একটি মহান ও বরকতময় মাস তোমাদের সামনে উপস্থিত। এ মাসের রাতগুলোর মধ্যে এমন এক রাত বিদ্যমান যার মর্যাদা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।


আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এ মাসের রোজাকে ফরজ করেছেন এবং এ মাসের রাত্রিজাগরণকে করেছেন অতিরিক্ত ইবাদতের শামিল। তিনি আরও বলেন, যে ব্যক্তি এ মাসে একটি সাধারণ ভালো কাজ করবে, অন্য মাসের তুলনায় তাকে একটি ফরজ ইবাদতের সাওয়াব দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি এ মাসে একটি ফরজ ইবাদত পালন করবে, তাকে সত্তরটি ফরজ ইবাদতের সমপরিমাণ সাওয়াব দেওয়া হবে। এ মোবারক মাস ধৈর্য ও সংযমের মাস। ধৈর্যের বিনিময় অবশ্যই জান্নাত।


এ মাস পরোপকারের। এ মাসে বিশেষভাবে মু’মিন বান্দাদের রিজিক বৃদ্ধি করা হয়। কেউ যদি একজন রোজাদারের ইফতারের ব্যবস্থা করে, আল্লাহ তায়ালা তার পাপরাশি ক্ষমা করে দেন, তাকে দোজখ থেকে মুক্তি দেন এবং (রোজাদারের) রোজার সমান তাকে পুণ্য দান করেন। 
আসুন না, এ মাসের সূচনালগ্ন থেকে এর সদ্ব্যবহার করে ইহকাল-পরকালীন অশেষ কল্যাণে ব্রতী হই। রমজান হোক মুমিন মুত্তাকীদের দীনতা হীনতা দূরীকরণের সাক্ষী, রমজান হোক সকলের আত্মোপলব্ধির- খোশ আমদেদ মাহে রমজান আহলান ওয়া সাহলান।

আল্লাহুম্মা তাকাব্বাল সিয়ামানা ওয়া কিয়ামানা ওয়া রুকুআনা ওয়া সুজুদানা, ওয়া তিলাওয়াতানা ওয়া তাসাবিহানা কামা তাকাব্বালতা মিন ইবাদিকাস সলিহীন-   হে আল্লাহ দয়া করে আমাদের রোজা আমাদের নামাজ কালাম আমাদের রুকু সিজদা আমাদের তিলাওয়াত তাসবীহ পূর্ববর্তী পুণ্যাত্মা মহান সৎকর্মপরায়ণশীলদের ন্যায় কবুল কর।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল