• শনিবার   ২৭ নভেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৩ ১৪২৮

  • || ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

আজকের টাঙ্গাইল

দিন দিন রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বেড়েই চলেছে

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০২১  

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে প্রতিদিন কোনো না কোনো অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যতই দিন যাচ্ছে আশ্রিত রোহিঙ্গারা ভয়ঙ্কর সব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ক্যাম্পে হত্যাকাণ্ড, ছিনতাই, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, ইয়াবা ব্যবসা ও অনিয়মতান্ত্রিক কাজে রোহিঙ্গাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে।
শনিবার কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ৯ ও ১৩  নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন ব্লকে অভিযান চালিয়ে আরসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা সন্দেহে সাতজন রোহিঙ্গাকে আটক করেছে এপিবিএন পুলিশ। আটক রোহিঙ্গারা হলেন- ৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জি/৩৯ ব্লকের আব্দুল মজিদ (২৪), সি/৬ ব্লকের নুর মোহাম্মদ (৩০), ৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি/৩ ব্লকের আবুল ফয়েজ (২০), কুতুপালং রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের মো. জাফর (৪০), একই ক্যাম্পের আবুল কাশেম (৫০), ১৩ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৩ ব্লকের মাহাত আলী (৩০), একই ক্যাম্পের এফ ব্লকের মো. সলিম (৪৫)।

একই দিন বালুখালীতে ১০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জি/২৫ ব্লকে অভিযান চালিয়ে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী সংগঠন আরসার জিম্মাদার ফিরোজ এবং জালাল নামে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

এছাড়া গতকাল শুক্রবার কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হামলা ও হত্যাকাণ্ডের পর এম/৯ ব্লকে কিছু ইসলামী মাহাযের সদস্য থাকায় সেখানেও হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। জানা গেছে, গত ১৩ অক্টোবর উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৮ এর এইচ-৫২ ব্লকের সাধারণ রোহিঙ্গারা ঐ ক্যাম্পে বসবাসরত আরসা সন্ত্রাসী রহিমুল্লাহ ওরফে মুসাকে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করায় ইসলামি মাহাযের প্রতি তাদের ক্ষোভ বাড়তে থাকে। এছাড়া গত ২০ অক্টোবর আরসার সদস্যরা ইসলামি মাহাযের তৈয়ুব নামে একজন সদস্যকে অপহরণ করলে, ইসলামি মাহাযের সদস্যরা আক্তার নামে একজন মাঝিকে ব্লক থেকে ধরে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে; এর জের ধরেও আরসার সন্ত্রাসীরা তাদের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে আছে বলে জানা যায়।

ক্যাম্প-১৮ মাদরাসা সংলগ্ন বাজারের দু্ইজন নাইট গার্ডের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যেহেতু আরসা সন্ত্রাসী রহিমুল্লাহ ওরফে মুসাকে সাধারণ রোহিঙ্গারা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে; সেই ক্ষোভে সুযোগ পেলে আরসা সদস্যরা এইচ/৫২ তে পুনরায় হামলা চালাতে পারে। 

এদিকে গতকাল শুক্রবার উখিয়ার ১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিয়ারবাজার সংলগ্ন এলাকায় ২০ থেকে ৩০ জন আরসা সদস্য একত্রিত হওয়ার খবর পায় প্রশাসন। জানা যায়, ক্যাম্পের যেসব রোহিঙ্গারা তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করছে এবং আরসার সদস্যদের ধরিয়ে দিচ্ছে ঐসব রোহিঙ্গাদের উপর গ্রুপটি হামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বিষয়টি অবহিত করার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা দেখে তারা ঐ অবস্থান থেকে সরে পড়ে। মূলত সাধারণ রোহিঙ্গাদের কাছে আরসার আধিপত্য বজায় রাখার উদ্দেশ্যেই আরসা বিভিন্ন হামলা কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে জানা যায়।

এছাড়া কয়েকটি ক্যাম্পে একসঙ্গে আগুন ধরানোর মাধ্যমে নাশকতা তৈরি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

গতকাল টেকনাফের ২৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রোহিঙ্গা মোহাম্মদ হারেস ওরফে মোহাম্মদ শাহ (২৭) তার স্ত্রীসহ শালিকার বিয়ে উপলক্ষে শ্বশুরবাড়িতে (ক্যাম্প-২৫) বেড়াতে যায়। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে দুপুর ২টায় ২৫ নম্বর ক্যাম্পের ডি/২৪ ব্লকে অবস্থানরত মো. হারেস ওরফে মোহাম্মদ শাহ অসুস্থ মাকে দেখার জন্য গমন করে। পরবর্তীতে ঐ ক্যাম্প থেকে অজ্ঞাতনামা চার সন্ত্রাসী তার বুকে চাকু ঠেকিয়ে অপহরণ করে পাহাড়ের দিকে নিয়ে যায়। অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

একই দিন বালুখালীর ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এল/৭ ব্লকের মাঝি সৈয়দ নুরের ঘরে আরসার একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জানা যায়, ঐ বৈঠকে ১৯ নম্বর ক্যাম্পের জিম্মাদার মৌলভী আনাস ও ক্যাম্প-১৮ এর জিম্মাদার মৌলভী আকিজ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর ১৯ ও ১৩ নম্বর ক্যাম্পের আরএসও এবং ইসলামি মাহায সদস্যদের উপর হামলা করার উদ্দেশ্যে ৩০/৪০ জন আরসা সদস্য ক্যাম্প-১৯ এর বি-১৬ ব্লকের আরটিএম হাসপাতালের উত্তর পাশের পাহাড়ে এবং একই ক্যাম্পের বি/৬ ব্লকের লার্নিং সেন্টারে অবস্থান করে। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় হামলাটি সংঘটিত হয়নি।

একই দিন উখিয়ার ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি/৫ ব্লকে অভিযান চালিয়ে দেশি ওয়ানশুটার গান ও ৬ রাউন্ড গুলিসহ রোহিঙ্গা মো. মজিবুর রহমানকে (২০) আটক করে ময়নারঘোনা ক্যাম্প পুলিশ। উল্লেখ্য, আটক মজিবুর রহমানকে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপে গ্রুপে আরএসও সদস্য বলে ঘোষণা দিচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে প্রচার করা হচ্ছে।

এছাড়া গতকাল শুক্রবার টেকনাফের ২৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১০ ব্লকে মসজিদে তাবলীগ জামায়াত করার জন্য মুছনী রেজিস্টার্ড ক্যাম্প থেকে ২১ জন রোহিঙ্গা আগমন করে। জানা যায়, জামায়াতটি আগামী তিনদিন ঐ মসজিদে অবস্থান করবে। বিষয়টি সম্পর্কে ক্যাম্প কমান্ডারকে অবহিত করা হয়েছে।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল