• শুক্রবার ৩১ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৬ ১৪৩১

  • || ২২ জ্বিলকদ ১৪৪৫

আজকের টাঙ্গাইল

পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৩  

সাদামাটির নৈসর্গিক সৌন্দর্যকে ঘিরে নেত্রকোণায় রয়েছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। ভৌগোলিক নিদর্শন পণ্য হিসেবে স্থানটি স্বীকৃতি পাওয়ায় এর কদর বেড়েছে সর্বত্র। দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে দিনদিন স্থানটির গুরুত্ব বাড়ছে। এছাড়া অর্থনৈতিকভাবেও সম্ভাবনা দেখাচ্ছে সাদামাটি। 
গত ১৫ বছরে এই অঞ্চলে পর্যটনে এসেছে আমূল পরিবর্তন। পাশাপাশি ইন্টারনেট আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিদিনই নতুন নতুন জায়গা পরিচিতি ঘটছে সবার কাছে। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লাখো পর্যটক ভিড় করেন বিজয়পুরসহ আশপাশের বিভিন্ন স্পটে। সারাবছর পর্যটক থাকলেও অক্টোবর থেকে মার্চের শেষ পর্যন্ত পর্যটকদের আনাগোনা থেকে সবচেয়ে বেশি।

সাদামাটির পাহাড় ছাড়াও পাহাড়ি কন্যা নামে খ্যাত সোমেশ্বরী নদী, বিজয়পুর জিরো পয়েন্ট, কমলা বাগান, রানীখং মিশন, ফান্দা ভ্যালিসহ রয়েছে অসংখ্য পর্যটন স্পট।

জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা কলমাকান্দায় রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অবিরাম ভাণ্ডার। এখানকার উঁচু-নিচু পাহাড় আর ঝরনায় মন কেড়েছে পর্যটকদের। স্থানগুলো নিয়ে সারাবছরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেন আলোচনার ঢেউ ওঠে। প্রাকৃতিক পরিবেশের মনোমুগ্ধকর সব ছবি পর্যটকদের টেনে আনে পাহাড়েরই কোলে। পাহাড়ের শীতল ঝরনা ধারায় গা ভাসাতে হাজারো কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা। 

পাহাড়-নদী ছাড়াও নেত্রকোণা মদন, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরী- এ তিন উপজেলাকে ঘিরে রেখেছে সুবিশাল হাওর। বিস্তৃত এ হাওর অঞ্চলগুলোতে রয়েছে প্রাকৃতিক মাছের ভাণ্ডার। উন্মুক্ত জলাধারে গা ভাসাতে বর্ষার সময় পর্যটকদের ভিড় জমে হাওরে। বর্ষার অন্তত চার মাস সড়ক পথে পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে খালিয়াজুরী। যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায় নৌকা। ফলে প্রকৃতিও সেজে উঠে নতুন করে। শ্রাবণের বৃষ্টি ভেজা রাতের শেষে শিশির ভেজা ভোরে হাওরের বুকে পর্যটকদের কাছে নিয়ে আসে যান্ত্রিক কোলাহলের মুক্তির বার্তা। 

এক সময়ের হাওরের জনবিচ্ছিন্ন জনপদ এখন যেন এক সুতোয় বাঁধা। বর্তমান সরকারের সময়ে পাকা সড়কে যোগাযোগের ব্যবস্থা এবং উন্নয়নে বদলে গেছে হাওরপাড়। এতে নতুন করে পর্যটন হাব হয়ে উঠছে হাওরপাড়ের জনপথ।

সম্ভাবনাময় এই জেলাকে ঘিরে পর্যটন খাতের বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। শুধু প্রয়োজন সঠিক ব্যবস্থাপনা। পর্যটনকে ঘিরে পুরো জেলাকে গড়ে তোলা গেলে স্থানীয় অর্থনীতির নতুন হাতিয়ার হতে পারে এ খাত। 

জেলা ব্র্যান্ডিং হিসেবে পরিচিত বিজয়পুরের সাদামাটি। এর ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (জিআই পণ্য) হিসেবে স্বীকৃতি পর্যটনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি এই পরিচিতি কাজে লাগিয়ে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছেও সাদামাটির পাহাড়কে নতুন করে তুলে ধরা সম্ভব।

স্থানটিকে পর্যটকের কাছে তুলে ধরতে এরইমধ্যে নানামুখী পদক্ষেপ হাত নেয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। সাদামাটির পাহাড়কে ঘিরে একটি পর্যটন অঞ্চল তৈরি করতেও কাজ করছে বলে জানায় স্থানীয় প্রশাসন।

স্থানীয়রা বলছেন, গত ১৫ বছরে সরকার যেভাবে গ্রাম-গঞ্জ তথা উপজেলা শহরগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করেছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় সহজেই মানুষ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে যেতে পারছেন সীমান্তের কাছে। নেত্রকোণার প্রায় প্রতিটি অঞ্চলেই এখন পাকা সড়ক। এই অঞ্চলে পর্যটন শিল্প পুরোপুরি বিকশিত হলে এ খাত থেকে বছরে অন্তত কয়েক শত কোটি টাকার রাজস্ব আসবে বলে মনে করছেন তারা। 

নেত্রকোণার পর্যটনকে তুলে ধরতে নানামুখী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক শাহেদ পারভেজ। তিনি জানান, পাহাড় নদী ও হাওর বিস্তৃত এই জেলায় পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এরইমধ্যে এখানকার পর্যটন শিল্পকে তুলে ধরতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিজয়পুরের সাদামাটি পাহাড়কে ঘিরে নানামুখী পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া পর্যটকদের থাকার জন্য মদনের উচিতপুর হাওরে একটি রেস্ট হাউস তৈরি করা হয়েছে। 

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল