• বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ১২ ১৪৩১

  • || ১৫ শাওয়াল ১৪৪৫

আজকের টাঙ্গাইল

ধুনটে অস্ত্রের মুখে জিম্মিদশা থেকে স্ত্রী উদ্ধার,স্বামী গ্রেপ্তার

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২০  

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় দাম্পত্য কলহের জের ধরে ঘরের ভেতর জিম্মি করে রহিমা খাতুনের গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন তার স্বামী পলাশ। সংবাদ পেয়ে অভিযান চালিয়ে ৫ ঘন্টা পর সিঁধ কেটে ঘরে প্রবেশ করে অন্তঃসত্বা স্ত্রীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার এবং স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এতে পলাশ ও রহিমা দম্পতির জীবন রক্ষা হয়েছে।   

  

গ্রেপ্তারকৃত পাষান্ড স্বামী পলাশ প্রামানিক (৪২) উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের মাজবাড়ি গ্রামের দুলাল প্রামানিকের ছেলে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ধুনট থানা থেকে আদালতের মাধ্যমে তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

 

জানা গেছে, উপজেলার নিমগাছি গ্রামের জিল্লার রহমানের মেয়ে রহিমা খাতুনের প্রায় দশ বছর আগে পলাশ প্রামানিকের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের অভাব অনটনের সংসারে দাম্পত্য অশান্তি বিরাজ করে। এরই মাঝে তাদের দাম্পত্য জীবনে চার বছর আগে এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। এছাড়া বর্তমানে রহিমা খাতুন ৫ মাসের অন্তঃসত্বা। 

 

এ অবস্থায় সোমবার সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদের এক পর্যায়ে রহিমা অভিমান করে বাবার বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। এসময় পলাশ তার স্ত্রীকে জোরপূর্বক ঘরের ভেতর নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। এক পর্যায়ে রহিমার গলায় ধারালো ছুরি ধরে হত্যা করবে বলে ভয় দেখায় পলাশ। এ সময় রহিমার চিৎকারে প্রতিবেশী লোকজন ঘরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। কিন্ত কেউ ঘরে প্রবেশ করলে স্ত্রীকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যার করবে বলে পলাশ হুমকি দেন। ফলে কেউ ঘরে প্রবেশ করতে সাহস পায়নি।

 

এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে সোমবার বিকেল ৪টার দিকে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রশিদ, গাজিউর রহমান ও ধুনট থানায় অফিসার ইনচার্জ কৃপা সিন্ধু বালাসহ একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌছেন। তারা নানা কৌশলের পর অবশেষে ঘরের সিঁধ কেটে ঘরে প্রবেশ করে রাত ৮টার দিকে রহিমাকে উদ্ধার ও তার স্বামী পলাশকে ছুরিসহ গ্রেপ্তার করেছেন। 

 

ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, পাঁচ ঘন্টা অভিযানের পর পলাশ ও রহিমা দম্পতির জীবন রক্ষা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মেয়ে পক্ষ বাদী না হওয়ায় পলাশকে ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া রহিমা খাতুনকে তার মা-বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

 

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল