• শনিবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ১০ ১৪২৮

  • || ১৮ সফর ১৪৪৩

আজকের টাঙ্গাইল
সর্বশেষ:
উল্লাপাড়ায় প্রবাসীর স্ত্রী ধর্ষণের অভিযোগে গৃহশিক্ষক গ্রেফতার কাজিপুরে মাইক্রোবাস মালিক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত নাটোরের সিংড়ায় বন্যার্তদের মাঝে হুয়াওয়ের ত্রাণসামগ্রী বিতরণ বকশীগঞ্জে বাল্য বিয়ে থেকে রক্ষা পেলো ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অনন্য শিমুলদাইড় উচ্চ বিদ্যালয় সখীপুরে বিআরডিবি নির্বাচন- চেয়ারম্যান রুহুল ভাইস চেয়ারম্যান শাফলু আজ ইসলামপুর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী নৌকা বাইচ প্রতিযোগি জিয়াউর রহমান ছিলেন পাকিস্তানের এজেন্ট : মির্জা আজম

বাংলাদেশের উন্নয়নের রূপকার শেখ হাসিনা ও মাদারগঞ্জ: মো. শাহ্ জামাল

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২১  

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা’র বুকে যমুনার তীরবর্তী অঞ্চলে ১ শত মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ প্ল্যানের অনুমোদন পেয়েছে। আজ (১০ আগস্ট) মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত একনেকের সভায় অনুমোদন দিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই প্রকল্পের মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৫১১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ব্যায় হবে ৩শ’ ১৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ঋণ থেকে খরচ হবে ১হাজার ১১৬ কোটি টাকা। বাকি ৭৭ কোটি টাকা ব্যয় করবে ইন্ডিয়ান লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) সংস্থা। 

 

প্রকল্প’টি বাস্তবায়ন করবে রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরপিসিএল)। প্রায় ৫০ কি.মি. জুড়ে এই সোলার প্ল্যানে’র বিদ্যুৎ সরবরাহে’র সম্ভাবনা রয়েছে। জামালপুর জেলা প্রশাসন ও ভূমি মন্ত্রণালয় জমি ৩৪৬ একর জমি অধিগ্রণ ও বন্দোবস্তের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করেছেন। এই প্রক্রিয়ার আওতায় ৮৮টি পরিবারকে পূনর্বাসনে’র পদক্ষেপ হাতে নিয়েছেন। বহুমুখী জ্বালানি, পরিবেশ বান্ধব বিদ্যুতের উৎপাদন ও ব্যবহারে এই সোলার প্ল্যানটি ভূমিকা রাখবে। এটিই হবে বাংলাদেশে’র সর্ববৃহৎ সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষেত্র। 

 

এক সমিক্ষায় দেখা গেছে, ২০১৭ সাল থেকে সারাদেশে ৭টি সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যুতায়ন বোর্ডের তত্ত¡াবধানে এসব সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ১৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বড় সোলার প্ল্যান ময়মনসিংহে’র গোরীপুরে অবস্থিত। সেখান’কার বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ মেগাওয়াট। বর্তমানে নবায়ন’যোগ্য জ্বালানি থেকে ৭শ’ ৬৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এরমধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে পাওয়া যাচ্ছে ৫শ’ ৩২ মেগাওয়াট। 

 

এসব বিবেচনায় শেখ হাসিনার সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে আরো কিছু প্রকল্প হাতে নেয়। এরমধ্যে ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন সৌর প্ল্যানটি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় স্থাপিত হতে যাচ্ছে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে দেশে ১০% বিদ্যুৎ নবায়ন’যোগ্য জ্বালানি থেকে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা সফলের জন্য মাদারগঞ্জের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপন একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এখানকার উৎপাদিত বিদ্যুতের ট্যারিফ নির্ধারণ করা হয়েছে ১১টাকা ৫পয়সা। ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়াল সভায় দেশের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে জনস্বার্থে সর্ববৃহৎ এই প্রকাল্পটি’সহ আরো ১০টি প্রকল্পের মোট ৭ হাজার ৯শ’ ৮৫কোটি ৮লাখ টাকার অনুমোদন দিয়েছেন। 

 

স্থানীয় সংসদ সদস্য মির্জা আজমের এলাকা মাদারগঞ্জে এই সৌর বিদ্যুতের প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অবদান তারই বেশি। এজন্য তিনিই সবচেয়ে বেশি খুশি হবার কথা। এই প্রকল্পে’র আওতায় সুবিধা ভোগ করবে তাঁর নিজের এলাকা মাদারগঞ্জে’র পিছিয়ে পড়া মানুষসহ আরো অনেকে’ই। 

 

বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সু-দৃষ্টি ও মির্জা আজমে’র প্রচেষ্টায় জামালপুর জেলাকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে নতুন করে পরিচয় ঘটিয়েছেন। শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের ধারাবাহিকতা’র অংশ হিসেবে এবং প্রাণপ্রিয় নেত্রী’কে ভালোবেসেই মির্জা আজম এবং প্রশাসন মাদারগঞ্জ সৌর প্ল্যান প্রকল্পের নাম দেন শেখ হাসিনা সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র বা পার্ক। এটি একনেকের সভায় অনুমোদন দেবার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টিগোচর হয়। 

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়ন চান। নাম চান না। তাই মাদারগঞ্জ সোলার প্ল্যানের সাথে যুক্ত হওয়া শেখ হাসিনার নামের স্থলে মাদারগঞ্জ যুক্ত করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এতে প্রতীয়মান হয় শেখ হাসিনা উন্নয়নই চান। নিজের নাম জাহিরি চান না। 

 

আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে’র দিকে তাকালে বলতে পারি, মানুষ সবাই নাম-কাম চান। কিন্তু শেখ হাসিনার বেলায় দেখা গেল ভিন্নতা। দেশের এতো বড় একটি প্রকল্পের সাথে তার নাম যুক্ত হবে। এটা খুশির খবর। কিন্তু না! দেখা গেল এর ভিন্নতা। তিনি খুশি হয়েই নীতিগতভাবে এই প্রকল্পের নাম দেন সোলার পার্ক মাদারগঞ্জ, জামালপুর। যদিও কোন কোন গণমাধ্যম শেখ হাসিনা সোলার পার্ক এবং মাদারগঞ্জ সোলার পার্কের নামেই খবরটি প্রচার করছেন। 

 

এই খবরটি প্রচারের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বইছে আনন্দ-উল্লাস। কেওবা প্রধানমন্ত্রীকে বড় মনের মানুষ, বঙ্গবন্ধুর যোগ্য কন্যা, দেশের মানুষ, খাঁটি মানুষ ইত্যাদি বাক্যে শেখ হাসিনাকে স্মরণ করছেন।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেহেতু তাঁর নামই চান নাই। সেহেতু এই উদারতাকে কোনভাবেই আমাদের ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। আমরা শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানিয়ে বলতে চাই। এই জামালপুরের সাথেই আপনার নাড়ির টান যেন জিইয়ে থাকে আজীবন। এখন শ্লোগান দিচ্ছি মির্জা আজমের জামালপুর। উন্নয়নের জামালপুর। এরপর যেন শ্লোগান দিতে পারি শেখ হাসিনার জামালপুর। উন্নয়নের জামালপুর। এই প্রত্যাশায় বলতে চাই, শেখ হাসিনা অমর হোক। মাদারগঞ্জ, অমর হোক, মির্জা আজম অমর হোক। নেত্রী আপনি এগিয়ে যান। 

 

প্রকল্পটি  বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব করা হয়। প্রকল্পটি চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর ২০২৩ সালে বাস্তবায়ন করবে রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরপিসিএল)।  ২০২৩ সালের মধ্যে এ সোলার পার্ক তৈরি করবে সংস্থাটি। 

 

প্রকল্পটির জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৫১১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৩১৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা, ঋণ থেকে ১ হাজার ১১৬ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৭৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।

 

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে- মাদারগঞ্জ ১০০ মে.ওয়াট সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট এবং কনস্ট্রাকশন (ইপিসি) কাজ সম্পাদন, ১০০ মে.ওয়াট সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ৩২৫.৬৫৩৬ একর ভূমি উন্নয়ন, ১৩২ কেভি ৪৭ কিমি. (প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র হতে ঘাটাইল গ্রিড উপকেন্দ্র পর্যন্ত) পাওয়ার ইভাক্যুয়েশন লাইন এবং ইভাক্যুয়েশন অবকাঠামো নির্মাণ, ১০০ মে. ওয়াট সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অফিস বিল্ডিং, ওয়ার্কশপ, ওয়্যারহাউজ এবং আনসার ব্যারাক নির্মাণ, ৮৮টি ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ এবং ৩২৫.৬৫৩৬ একর ভূমি দীর্ঘমেয়াদী বন্দোবস্ত গ্রহণ।

 

অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ২০২৫ সাল নাগাদ মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) সূত্র মতে, বর্তমানে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৩.২৪ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে উৎপাদন করা হয়। প্রকল্পের মাধ্যমে ১০০ মে.ও. সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বিধায় প্রকল্পটি অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

 

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগ সদস্য (সচিব) শরিফা খান বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বহুমূখীকরণের পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমবে। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধিতে উলে­খযোগ্য ভূমিকা রাখবে বিধায় একনেকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

 

২০১৭ সাল থেকে দেশে এখন পর্যন্ত সাতটি সোলার পার্ক নির্মাণ করা হয়েছে। স্থাপিত সোলার পার্কগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হবে এটি।

 

লেখক-

ইত্তেফাক সংবাদদাতা, 

সভাপতি, মেলান্দহ রিপোর্টার্স ইউনিটি, 

জামালপুর। 

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল