• বুধবার   ১৮ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৪ ১৪২৯

  • || ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩

আজকের টাঙ্গাইল
সর্বশেষ:
টাইমবাজারে অভিজাত প্রসাধনী সামগ্রী নিয়ে আমানিয়া স্টোর`র উদ্ধোধন মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে দেশে ফিরেছিলাম: প্রধানমন্ত্রী একমাত্র শেখ হাসিনাই বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য: শেখ পরশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা গৌতম ঘোষের সাক্ষাৎ এসডিজি অর্জনে সম্মিলিত চেষ্টা ও উদ্ভাবনী ভাবনায় গুরুত্বারোপ আরও এক শ’ কারিগরি স্কুল ও কলেজ হচ্ছে ‘বাংলাদেশের পরিস্থিতি শ্রীলঙ্কার মতো হওয়ার সুযোগ নেই’ গম রপ্তানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের জন্য নয় পুরস্কার পাবেন মাঠ পর্যায়ে ভূমির সেরা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট থেকে আয় ৩০০ কোটি ছাড়িয়েছে: বিএসসিএল

৯৪বছর ধরে ২৪ঘন্টাই কোরআন তেলাওয়াত চলে ধনবাড়ীর নওয়াব শাহী মসজিদে

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ৭ এপ্রিল ২০২২  

প্রায় ৯৪ বছর ধরে ২৪ ঘন্টাই কোরআন তেলাওয়াত চলছে মসজিদে। শুনে আশ্চর্য মনে হলেও এমনটিই হচ্ছে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার ৭০০ বছরের পুরনো নওয়াব শাহী জামে মসজিদে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় ব্যাতীত প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়েও থেমে থাকেনি কোরআন তেলাওয়াত। পাঁচ জন হাফেজ পালাক্রমে চালিয়ে যাচ্ছেন এ কার্যক্রম। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত লোকজন ছুটে আসছেন মসজিদটি দেখতে।

জানা যায়, টানা প্রায় ৯৪ বছর ধরে এভাবেই কোরআন তেলাওয়াত চলছে মসজিদটিতে। নামাজের সময় ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগেও থেমে থাকেনা এ কার্যক্রম। পাঁচজন কোরআনে হাফেজ পর্যায়ক্রমে দিন-রাত চালিয়ে যাচ্ছেন কোরআন তেলাওয়াত। সেলজুক তুর্কি বংশের ইসপিঞ্জার খাঁ ও মনোয়ার খাঁ নামে দুই ভাই ১৬ শতাব্দীতে এক কক্ষবিশিষ্ট এ মসজিদটি নির্মাণ করেন। পরে নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী ১১৫ বছর আগে মসজিদটি সম্প্রসারণ করে এর আধুনিক রূপ দেন। সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী ১৮৬৩ সনের ডিসেম্বরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৭ এপ্রিল ১৯২৯ সনে মৃত্যুবরণ করেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সংস্কারের আগে মসজিদটির দৈর্ঘ্য ছিল ১৩.৭২ মিটার এবং প্রস্থ ৪.৫৭ মিটার। সংস্কারের পর মসজিদটি বর্গাকৃতির ও তিন গম্বুজবিশিষ্ট মোগল স্থাপত্যের বৈশিষ্টপূর্ণ করা হয়। মসজিদের মেঝে আর দেয়াল কাচের টুকরো দিয়ে নকশাদার মোজাইক করা। মেঝেতে মার্বেল পাথরে খোদাই করা নিপুণ কারুকার্য অসাধারণ। ভেতরের সব জায়গাতেই চীনামাটির টুকরো দিয়ে মোজাইক নকশায় অলংকৃত, যার অধিকাংশ ফুলেল নকশা। মসজিদের ভেতরে ঢোকার জন্য পূর্ব দিকের বহু খাঁজে চিত্রিত খিলানযুক্ত তিনটি প্রবেশপথ, উত্তর ও দক্ষিণে আরো একটি করে মোট পাঁচটি প্রবেশপথ রয়েছে। প্রায় ১০ কাঠা জায়গার ওপর নির্মিত মসজিদটির চারদিক থেকে চারটি প্রবেশপথ এবং ৯টি জানালা এবং ৩৪টি ছোট ও বড় গম্বুজ রয়েছে। বড় ১০টি মিনারের প্রতিটির উচ্চতা ছাদ থেকে প্রায় ৩০ ফুট। মসজিদের দোতলার মিনারটির উচ্চতা প্রায় ১৫ ফুট। ৫ ফুট উচ্চতা এবং ৩ ফুট প্রস্থের মিহরাবটি দেখতে বেশ আকর্ষণীয় এবং দৃষ্টিনন্দন। পূর্ব দিকের তিনটি প্রবেশপথ বরাবর পশ্চিমের দেয়ালে তিনটি মিহরাব রয়েছে। ৩০ ফুট উচ্চতার মিনারের মাথায় স্থাপিত ১০টি তামার চাঁদ মিনারের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। মসজিদে সংরক্ষিত রয়েছে ১৮টি হাড়িবাতি, যেগুলো শুরুর দিকে নারিকেল তেলের মাধ্যমে আলো জ্বালানোর কাজে ব্যবহার করা হত।

একসঙ্গে ২০০ মুসল্লির নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদের পাশেই রয়েছে শানবাঁধানো ঘাট ও কবরস্থান। সেখানে দাফন করা হয়েছে নওয়াব বাহাদুর সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীকে। তার ওয়াকফকৃত সম্পদের আয় দিয়ে মসজিদ, পার্শ্ববর্তী মাদ্রাসা ও ঈদগাহ পরিচালিত হয়। প্রতিদিনই দূর দূরান্ত দর্শনার্থীরা ভীর জমায় মসজিদ ও কোরআন তেলাওয়াত দেখতে।

মসজিদে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা বলেন, আমরা জানতে পারি এই মসজিদে নাকি প্রায় ১০০ বছর ধরে ২৪ ঘন্টাই কুরআন তেলাওয়াত হয়। তাই আমরা মসজিদটি দেখার জন্য আসছি। এখানে এসে আমাদের খুব ভালো লাগছে। আমরা চাই আগামীতেও যেন এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে।
ধনবাড়ী নওয়াব শাহী জামে মসজিদের খতিব ও ইমাম হাফেজ মাওলানা ইদ্রিস হুসাইন বলেন, নামাজের সময় ছাড়া এক মিনিটের জন্যও কোরআন তেলাওয়াত বন্ধ হয়না। ৫ জন কুরআনের হাফেজ দ্বারা ২৪ ঘন্টাই কুরআন তেলাওয়াত করানো হয়। বিশে^র আর কোথাও মনে হয় না এমন কুরআন তেলাওয়াত এর ব্যবস্থা আছে। নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী এই কুরআন তেলওয়াত চালু করে গেছেন। এরপর থেকে এটি আর বন্ধ হয়নি। দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ এ মসজিদ সর্ম্পকে জানার ও দেখার জন্য ঘুরতে আসে।

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসলাম হোসাইন বলেন, ধনবাড়ী নওয়াব শাহী জামে মসজিদের দীর্ঘ প্রায় ৯৪ বছর ধরে কুরআন তেলাওয়াত হচ্ছে এটি অবশ্যই একটি মহৎ উদ্যোগ। ৫ জন হাফেজ নাজের সময় ছাড়া বাকি সময়টুকু কুরআন তেলাওয়াত করে থাকেন। এ মসজিদ সর্ম্পকে জানার পর অনেকেই আসেন মসজিদটি দেখার জন্য, মসজিদে নামাজ পড়ার জন্য। এখানে যদি কোন ধরনের সার্বিক সহযোগিতার প্রয়োজন হয় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্যই তা করা হবে।

উল্লেখ্য, পীরের নির্দেশনায় কবরের আজাব থেকে মুক্তি পেতে ১৯২৭ সালে সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী এ মসজিদে সার্বক্ষণিক কোরআন তেলাওয়াতের ব্যবস্থা করেন। ১৯২৯ সালের ১৭ এপ্রিল মারা যান এই নবাব বাহাদুর। মসজিদের একপাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। তার মৃত্যুর পরও চলছে এ কোরআন তেলাওয়াত।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল