• বুধবার   ১৯ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ৬ ১৪২৮

  • || ১৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

আজকের টাঙ্গাইল

সখীপুরে আগামজাতের টক বরই চাষে সফল সিদ্দিক হোসেন

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ২৩ ডিসেম্বর ২০২১  

টাঙ্গাইলের সখীপুরে  আগাম জাতের টক বরই চাষ করে দারুণ সাফল্য পেয়েছেন সিদ্দিক হোসেন। মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই টক বরইয়ের বাম্পার ফলনে মিষ্টি হাসি ফিরেছে চাষি সিদ্দিকের মুখে। এ বছর প্রায় ৫০-৬০ লাখ টাকার বরই বিক্রি করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
 
উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের ইন্দারজানি টিকুরিয়াপাড়ার সিদ্দিক হোসেন  লিজ নেওয়া ২৭ একর জমির উপর  কীভাবে সফলতা অর্জন করলেন তারই গল্প শুনিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, সফলতা নিজে থেকে পায়ে হেঁটে ঘরে ওঠে না। নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও ব্যর্থতার পর সফলতার আশা করা যায়। প্রায় ২০ বছর আগে সংসারের সুখের আশায় বিদেশ যেতে দালালের টাকা জমা দেন । কিন্তু দালাল (আদম ব্যবসায়ী) প্রায় সাত লাখ টাকা নিয়ে সটকে পড়েন। জমিজমা বিক্রি ও ধার করে সেসব টাকা পরিশোধ করে একপর্যায়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন তিনি। ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে হতাশাই যখন একমাত্র সঙ্গী, এ সময় ছোট একটি প্রশিক্ষণ নিয়ে সিদ্দিক হোসেন ‘বিকল্প নার্সারী’ নাম দিয়ে নার্সারীর ব্যবসা শুরু করেন।  ওই বিকল্প চিন্তা থেকেই তিনি এখন উপজেলার একজন সফল  চাষি। এলাকার উঁচু ২৭ একর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে টক বরই চাষ করছেন। ১০-১২ বছর ধরে তিনি দেশীয় আগাম জাতের টক বরই চাষ করছেন। প্রথমে মিষ্টি বরই চাষ করলেও এক সময় মিষ্টি বরইয়ের দাম বাজারে খুবই কমে যায়। পরে তিনি ওই গাছগুলোর ডালপালা ছেঁটে দেন এবং ওই গাছেই দেশীয় আগাম জাতের টক বরইয়ের কলম দেন। কারণ সারা বছরই টক বরইয়ের চাহিদা থাকে। দামও পাওয়া যায় ভালো।

সিদ্দিক হোসেন জানান, বর্তমানে স্থানীয় ৩০ একর উঁচু জমি লিজ নিয়েছেন। এরমধ্যে ২৭ একর জমিতে দেশীয় টক বরই এবং ৩ একর জমিতে ফলজ গাছ ও নার্সারি করেছেন। দেশীয় আগাম জাতের টক বরই চাষ নিয়ে তিনি রীতিমতো গবেষণা করেছেন। নিজেই বরই গাছে কলম দিয়ে চারা উৎপাদন করে সেই চারা লিজ নেওয়া জমিতে রোপণ করেন।  তিনি উপজেলার গড়বাড়ীতে পাঁচ একর, বিন্নাখাইরাতে ছয় একর, শিরীরচালায় ছয় একর, শ্রীপুরে তিন একর ও নিজ গ্রামে বাড়ির আশপাশের সাত একর জমিতে মোট চার হাজার বরইগাছ লাগিয়েছেন। এ বছর তাঁর ছোট-বড় মিলে প্রায় তিন হাজার গাছে বরই ধরেছে। মৌসুম শুরু হওয়ার দেড়-দুই মাস আগেই অধিকাংশ বরই পেকে গেছে। বরইগুলো ঢাকার কাওরান বাজার নিয়ে বিক্রি করছেন ১৬০ থেকে ২০০০ টাকা কেজি দরে।

সরেজমিন বাগানে গিয়ে দেখা গেছে দেশীয় আগাম জাতের টক বরই প্রতিটি গাছেই থরেথরে ঝুলে আছে।  গাছগুলো বরইয়ের ভারে মাটিতে নুইয়ে পড়েছে। ৩৫-৪০জন শ্রমিক বড়ই পাড়া, কুড়ানো, ধোয়া এবং বস্তাবন্ধি করছেন। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বেপারীরা ট্রাক নিয়ে অপেক্ষা করছেন।
 
উপজেলার টিকুরিয়া পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ডা. আরিফুর রহমান আরিফ বলেন, সিদ্দিক হোসেন টক বরই চাষে রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়েছেন। দেশীয় টক বরই চাষেও যে সফলতা পাওয়া যায়, বিষয়টি আমাদের ধারণায়ই ছিল না। সিদ্দিক হোসেনের বড়ই বাগানে গিয়ে সবাই বিস্মিত হয়ে পড়েন!
 
বাগানে কাজ করতে আসা দিন মজুর হায়দার আলী বলেন, সিদ্দিক ভাইর বাগানে বড়ই পাড়া, কুড়ানো, ধোয়া এবং বস্তাবন্ধি করতে আমিসহ নারী ‍পুরুষ মিলে ৩৫-৪০জন শ্রমিক কাজ করে সংসার চালাচ্ছি।

এম.সাইফুল ইসলাম শাফলু
সম্পাদক
নিউজ টাঙ্গাইল

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল