• রোববার   ২৮ নভেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৩ ১৪২৮

  • || ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

আজকের টাঙ্গাইল

মধুপুরের আনারস যাচ্ছে ইউরোপে

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২১  

টাঙ্গাইলের মধুপুর গড় অঞ্চলে উৎপাদিত জলডুগী ও কলম্বিয়া জাতের আনারসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মধুপুরের জলডুগী বা জায়ন্টকিউ জাতের আনারস এখন দেশের সীমানা পেরিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে।


 
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ অঞ্চলের চাষিরা বেশি লাভের আশায় আনারসে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করায় ক্রেতারা আনারস থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু বিষমুক্ত আনারস চাষ ধীরে ধীরে বাড়ায় দিন দিন এই আনারসের চাহিদা বাড়ছে।


 

আনারস ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে মানুষ বিষমুক্ত ফল খেতে চায়। কিন্তু তারপরও অনেক চাষি অধিক লাভের আশায় আনারসে বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করছে। এতে কাঁচা আনারস অন্তত ৩-৪ দিনেই পেকে যায়। স্বাভাবিকভাবে চারা রোপণের পর থেকে ১৮ মাসে আনারস পরিপক্ব হয়। সেখানে রাসায়নিক ব্যবহার করায় ৭-৮ মাসেই আনারস বাজারে ওঠানো যায়। কম সময়ে অধিক লাভের আশায় অনেক চাষি আনারসে রাসায়নিক ব্যবহার করে থাকে। এ কারণে বিষযুক্ত ফল চাষ করে বাজারে বিক্রি করতে অনেকটাই হিমশিম খেতে হয় চাষিদের। বিষমুক্ত আনারস অনেক সময় শতকরা ১০-২০টি পচে যায়।


 
ভারতের মেঘালয় থেকে মধুপুরে গড়াঞ্চলের আদিবাসীদের মাধ্যমে প্রথম এই আনারস চাষাবাদ শুরু হয়।


 
ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের ফল এটি। বৈজ্ঞানিক নাম অ্যানান্যাস সেটাইভ্যাস। পর্তুগিজ অ্যানান্যাস থেকে আনারস শব্দের উৎপত্তি। অর্থ চমৎকার ফল। ১৯৫০ সালের দিকে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় আনারসের বাণিজ্যিক চাষাবাদ শুরু হয়। বর্তমানে মধুপুর ছাড়াও গড় এলাকার মুক্তাগাছা, ফুলবাড়িয়া, ঘাটাইল ও সখীপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় আনারস চাষ হয়।


 
সম্প্রতি সরেজমিনে মধুপুর বনাঞ্চলের আলোকদিয়া, আউসনারা, দিগলবাইদ, অরণখোলা, জলছত্র, মোটের বাজার, গারোবাজার, রসুলপুর, পঁচিশমাইল, ইদিলপুরসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে জমি থেকে আনারস কাটতে কৃষকরা ব্যস্ত। ভোর থেকেই কৃষকরা ভ্যান, রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনে জুঙ্গা (খাঁচি) ভর্তি করে আনারস বাজারে এনে বিক্রি করছেন। মধুপুরের আনারস স্বাদে গন্ধে অতুলনীয় হওয়ায় ঢাকা, কুমিল্লা, পাবনা, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আনারস কেনার জন্য ব্যাপারীরা ভিড় করেন মধুপুরের পঁচিশমাইল জলছত্র আনারস বাজারে।

জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক জানান, মধুপুরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যেও বিষমুক্ত আনারস চাষির সংখ্যা বাড়ছে। তারা নিজেদের খাবারের পাশাপাশি বিক্রির জন্য বিষমুক্ত আনারস চাষ করছেন। বিষমুক্ত আনারস বেচাকেনায় ব্যাপক প্রচার দরকার। এতে কৃষকরা রাসায়নিকমুক্ত আনারস চাষে উৎসাহিত হবেন।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আহসানুল বাশার বলেন, মধুপুর অঞ্চলের আনারস, করলা, চিচিঙ্গা, লাউসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি রপ্তানি হচ্ছে। তবে গত বছর করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থাকায় আমরা ৫ মেট্রিক টন সবজি হর্টিক্স ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে রপ্তানি করেছি। চলতি বছর ১০ মেট্রিক টন সবজির পাশাপাশি ৫ মেট্রিক টন আনারস রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হযেছে। সবজির পাশাপাশি আনারস রপ্তানি হওয়ায় দিন দিন আনারস চাষিদের মধ্যে বিষমুক্ত আনারস চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল