• শনিবার   ১৬ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ১ ১৪২৮

  • || ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

আজকের টাঙ্গাইল

দেলদুয়ারে ভাড়াটে গুন্ডামির অভিযোগে ১২ জনকে পুলিশে দিল গ্রামবাসী!

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২১  

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে শিশুদের ঘুড়ি উড়ানোক কেন্দ্র করে দুই পরিবারে বড়দের মধ্যে ঝগড়ার এক পর্যায়ে এক পক্ষের মৃত নিবারন রাজবংশীর ছেলে বৈদ্য রাজবংশী (৫৫) ও বৈদ্য রাজবংশীর ছেলে নিত্য রাজবংশী (৩৮) আহত হয়েছে। অপর পক্ষের পক্ষ নিয়ে হামলার প্রস্ততিকালে গ্রামবাসী আটক করে ১২/১৪ জনকে থানা হাজতে পাঠিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ জুন) রাতে উপজেলার পাথরাইলে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিৎ করেছেন পাথরাইল ইউপি সদস্য আরফান আলী ও দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন।

নিত্য রাজবংশী জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে নিত্য রাজবংশীর ছেলে অর্জুন রাজবংশী (১০) ও পাশের বাড়ির নিখিল তাম্বলীর ছেলে মানিক-রতন (১০/১১) ঘুড়ি উড়াতে যায়। ঘুড়ি উড়ানেকে কেন্দ্র করে এদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে বিষয়টি উভয় পরিবারের অভিভাবকরা জানতে পারে। সন্ধ্যায় অর্জুনের দাদু বৈদ্য রাজবংশী বিষয়টি নিখিল তাম্বলীর বাড়িতে জানাতে যায়। বিচার দেওয়ায় নিখিল তাম্বলী বৈদ্যু রাজবংশীর ওপর চড়াও হয়। উগ্র হয়ে নিখিল তাম্বলী বসার টুল দিয়ে আঘাত করায় বৈদ্য রাজবংশীর মাথা ফেটে যায়। বাবাকে বাঁচাতে গেলে নিখিলের ছেলে কৃষ্ণ (৩৭) দা দিয়ে বৈদ্যর ছেলে নিত্যকে আঘাত করে। এতে নিত্যর হাতে দায়ের কোপে রক্তাক্ত হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় বাবা-ছেলে বৈদ্য ও নিত্যকে এলাকাবাসী প্রথমে স্থানীয় জননী ক্লিনিক তারপর দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করায়।

এদিকে বাবা-ছেলে বৈদ্য ও নিত্য বাড়িতে না থাকায় ফোন করে অলোয়া থেকে ১৫/২০ জন বহিরাগত লোককে ফোন করে আনে নিখিল। বহিরাগতরা এসে এলাকায় হামলা চালানো চেষ্টা করলে গ্রামবাসী মিলে এদেরকে আটক করে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেলে পুলিশ তাদের আটক করে থানা হাজতে নিয়ে যায়।

বৈদ্য ও নিত্য রাজবংশীর অভিযোগ, আমাদের মেরে আহত করার পর তারাই বহিরাগত ১৫/২০ গুন্ডা এনে পুনরায় হামলা করতে চেয়েছিল। এসময় এলাকাবাসী তাদের আটক করে পুলিশে দিয়েছে। আমি মামলা করতে গেলে অপরাধি ভেবে আমাকেও রাত দুইটা পর্যন্ত থানা হাজতে আটকে রাখে। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় আমি ছাড়া পাই। আমাদের ওপর এমন কর্মকান্ডের বিচার চাই।

বিবাদী পক্ষ নিখিলের স্ত্রী জানা, ছেলেকে দেখার জন্য তার ভাতিজাকে ফোন করে আসতে বললে ভাতিজা বন্ধুদের নিয়ে আসে। তারা ঝগড়া করতে আসেনি। আমার ছেলেকে দেখতে এসেছিল। এমন সময় গ্রামবাসী মিলে ভাতিজা ও বন্ধুদের পুলিশে সোপার্দ করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আরফান আলী ও চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী মেহেদী হাসান ইস্পানী জানান, বিষয়টি মিমাংশা করার চেষ্টা চলছে। শীঘ্রই ঘরোয়াভাবে মিমাংশা হবে।

দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন আটকের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ১২/১৪ জনকে থানায় আনা হয়েছে। এ ব্যাপারে এখনও কোন মামলা হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলা হলে প্রয়োজণীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল