• শনিবার   ৩১ জুলাই ২০২১ ||

  • শ্রাবণ ১৬ ১৪২৮

  • || ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

আজকের টাঙ্গাইল

আজ বাংলাদেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২১  

আজ ২৩ জুন, বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ও বৃহৎ রাজনৈতিক দলের অন্যতম বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে আওয়ামী লীগ মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

 

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার কে.এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের নেতৃত্বাধীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একটি অংশের নেতা-কর্মীদের কনভেনশনে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। নতুন এই দলের নামকরণ হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে সভাপতি, শামসুল হককে সাধারণ সম্পাদক ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যুগ্ম সম্পাদক করে আওয়ামী লীগ গঠিত হয়। 

 

আওয়ামী লীগ গঠিত হওয়ার পর থেকেই ধর্মনিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক দল ছিল। ১৯৫৫ সালের ২১-২৩ অক্টোবরের তৃতীয় কাউন্সিল সভায় ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী হিসেবে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেয়া হয়। 

 

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী লীগই ছিল প্রথম বিরোধী দল। দলটি জন্মলগ্নেই প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের দাবির উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে ৪২-দফা কর্মসূচি গ্রহণ করে। পাকিস্তানি শাসনের সূচনালগ্ন থেকেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাভাষাকে স্বীকৃতি, এক মানুষ এক ভোট, গণতন্ত্র, শাসনতন্ত্র প্রণয়ন, সংসদীয় সরকার পদ্ধতি, আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন এবং দুই প্রদেশের মধ্যে বৈষম্য দূরীকরণ ইত্যাদি ছিল আওয়ামী লীগের প্রধান দাবি। ১৯৪৮-৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে আওয়ামী লীগ এবং এর ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ (১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্র হত্যার পূর্বে ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠনে আওয়ামী লীগ মুখ্যভূমিকা পালন করে।

 

১৯৫৪ সালে পূর্ববাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ অন্য তিনটি বিরোধী দল এ.কে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক পার্টি, মৌলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন নেজামে-ই-ইসলাম পার্টি এবং হাজি মোহাম্মদ দানেশের নেতৃত্বাধীন গণতন্ত্রী দল নিয়ে পূর্ব বাংলায় সরকার বিরোধী নির্বাচনী জোট ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠন করে। এ নির্বাচনে মুসলিম লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য অন্যান্য দলকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করতে আওয়ামী মুসলিম লীগ মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

 

১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে মুসলিম লীগ মাত্র ৯টি আসন লাভ করে, যুক্তফ্রন্ট লাভ করে ২২৩টি আসন। যুক্তফ্রন্টের শরিক দল আওয়ামী লীগ লাভ করে ১৪৩টি আসন। যুক্তফ্রন্টের অন্য শরিক দলগুলো লাভ করে বাকি ৭২টি আসন। পাকিস্তানি শাসনামলের ২৪ বছরের মধ্যে আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ প্রাদেশিক ক্ষমতায় ছিল মাত্র ২ বছর (১৯৫৬-৫৮) এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে কোয়ালিশন সরকার হিসেবে কেন্দ্রে ক্ষমতায় ছিল মাত্র ১৩ মাস (১২ সেপ্টেম্বর ১৯৫৬- ১১ অক্টোবর ১৯৫৭)। এ.কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট শরিক দল নিয়ে সরকার গঠন করে এবং আওয়ামী লীগ ছিল এই সরকারের প্রধান অংশীদার। 

 

২৪ বছরের পাকিস্তান শাসনামলে আওয়ামী মুসলিম লীগ আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে দু'বছর প্রদেশে ক্ষমতাসীন ছিল এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে কেন্দ্রে ১৩ মাস কোয়ালিশন সরকারের অংশীদার ছিল।

 

পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে ১৯৫৭ সালে দলে ভাঙন দেখা দেয়। ওই বছরের ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি কাগমারি সম্মেলনে দলে বিভক্তির ঘটনা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পরিণামে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি নামে একটি নতুন দল জন্মলাভ করে এবং মওলানা ভাসানী এই দলের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৫৭ সালের ২৫-২৬ জুলাই ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে দলীয় সমর্থকদের এক সম্মেলনে দলটি রূপলাভ করে।

 

এই সংকটময় মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংগঠনের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। মাত্র নয় মাস মন্ত্রীত্ব করার পর আওয়ামী লীগে পূর্ণকালীন সময় দেয়ার জন্য তিনি ১৯৫৭ সালের মে মাসের ৩১ তারিখে মন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। মওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগিশ দলের সভাপতি নির্বাচিত হন।

 

১৯৬৩ সালে মৃত্যুর পূর্বে এইচ এস সোহরাওয়ার্দী প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল নিয়ে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) নামে আইয়ুব বিরোধী একটি মোর্চা গঠন করেন। এই ফ্রন্ট গণতন্ত্র ও আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের আহবান জানায়। সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পর শেখ মুজিব আওয়ামী লীগের প্রধান নেতা হন।

 

১৯৬৪ সালের ২৫ জানুয়ারি তাঁর ধানমন্ডিস্থ বাসভবনে কেন্দ্রীয় সদস্যদের সভায় তিনি আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করেন। ১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি স্থাপনের চেষ্টা করে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে প্রচারণার জন্য দলটি পূর্ব পাকিস্তান : রুখিয়া দাঁড়াও  নামে একটি পুস্তিকা বিতরণ করে।

 

এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘসময় এই দলটি সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন করে জনগণের মধ্যে আস্থার স্থান তৈরি করে। ১৯৬৬ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলসমূহের এক সম্মেলনে শেখ মুজিব আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক ছয়দফা কর্মসূচি উপস্থাপন করেন। এই কর্মসূচির মধ্যে ছিল সর্বজনীন ভোটাধিকারসহ কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা প্রবর্তন; বৈদেশিক সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা ব্যতীত প্রাদেশিক সরকারের হাতে সকল প্রকার ক্ষমতা প্রদান; পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য স্বতন্ত্র মুদ্রা ব্যবস্থার প্রচলন; প্রাদেশিক সরকারের হাতে কর ও শুল্ক আদায়ের অধিকার ন্যস্তকরণ; প্রাদেশিক সরকারের হাতে বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্য করার অধিকার প্রদান; এবং সবশেষে, নিজস্ব প্রতিরক্ষার জন্য প্রদেশগুলোকে আধা-সামরিক বাহিনী গঠনের ক্ষমতা প্রদান।

 

১৯৬৬ সালের ১৮-১৯ মার্চ ঢাকার ইডেন হোটেলে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল সভায় শেখ মুজিবুর রহমান ৬-দফা কর্মসূচি অনুমোদন করাতে সমর্থ হন। শেখ মুজিব দলের সভাপতি এবং তাজউদ্দিন আহমদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ৬-দফা কর্মসূচি তাৎক্ষণিকভাবে দেশের যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করে। ৬-দফার প্রতি আইয়ুব সরকারের প্রতিক্রিয়া ছিল খুবই কঠোর। আইয়ুব খান ৬-দফা কর্মসূচিকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অপচেষ্টা’ বলে অভিহিত করেন এবং অস্ত্রের ভাষায় এই দাবি প্রতিহত করার ঘোষণা দেন। ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধু ৩ মাস ব্যাপী সারাদেশে গণ-জমায়েত কর্মসূচি শুরু করেন। এই সময়ের মধ্যে তাঁকে আট বার গ্রেফতার করা হয়, এবং অবশেষে ১৯৬৬ সালের ৮ মে কারাগারে বন্দি করা হয়। ৬-দফা কর্মসূচির সমর্থন ও বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে ৭ জুন সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে  আওয়ামী লীগ আহূত সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়। পুলিশ তেজগাঁও, টংগী ও নারায়ণগঞ্জে জনতার উপর গুলিবর্ষণ করলে ১৩ জন নিহত হয়। এরপরই সারা দেশব্যাপী আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের গণহারে গ্রেফতার করা শুরু হলে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও আমেনা বেগম যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এই আন্দোলনের এক পর্যায়ে আইয়ুব সরকার ৬-দফা আন্দোলনের বিরুদ্ধে একটি ‘চূড়ান্ত সমাধান’ গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুসহ (কারাবন্দি) ৩৪ জন বাঙালি সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে পরিচিত একটি ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করা হলেও সরকারিভাবে এর নামকরণ হয় ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য’। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদোহিতা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়। অবশ্য এই মামলার বিরূপ ফল দেখা দেয়। এই মামলার ফলে গণআন্দোলন শুরু হয় এবং আইয়ুব খান ক্ষমতা ছেড়ে যেতে বাধ্য হন।

 

দেশব্যাপী গণআন্দোলন এবং আইয়ুব খানের পতনের প্রেক্ষাপটে নতুন সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খানের অধীনে ১৯৭০ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ বাঙালিদের জন্য জাতীয়তাবাদী মঞ্চে পরিণত হয়। দলটি ৬-দফা কর্মসূচিকে প্রকৃত গণভোট হিসেবে গ্রহণ করে পূর্ণ শক্তি ও উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অভূতপূর্ব বিজয় অর্জন করে এবং কেন্দ্রীয় আইন পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দকৃত ১৬২ টি আঞ্চলিক আসনের (৭২.৫৭% ভোট) মধ্যে ১৬০টি আসন লাভ করে। পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০০ আসনের (৮৯% ভোট) মধ্যে ২৮৮টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। দলটি জাতীয় পরিষদেও মোট ৭টি মহিলা আসন ও প্রাদেশিক পরিষদের মোট ১০টি মহিলা আসনের সবগুলো আসনেই জয়লাভ করে। এই নির্বাচনের অর্থ এই দাঁড়ায় যে, পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ এবং আওয়ামী লীগ অভিন্ন।

 

এভাবে আওয়ামী লীগ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের মোট ৩১৩টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসনে বিজয়ী হয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ট দল হিসেবে আবির্ভূত হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগকে সরকার গঠনের আহবানের পরিবর্তে ইয়াহিয়া খানের সামরিক জান্তা নির্বাচনের রায় বাতিল ও বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষাকে পদদলিত করার জন্য সামরিক বাহিনী তলব করে। আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২ মার্চ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক গণআন্দোলনের ডাক দেন এবং দেশবাসী তাঁর আহবানে সাড়া দিয়ে একাত্মতা ঘোষণা করে। বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দি উদ্যান) তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত পাকিস্তানি শাসকের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতিকে সশস্ত্র্র প্রতিরোধ আন্দোলনের উদাত্ত আহবান জানান। তিনি ঘোষণা করেন : ‘‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম; এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’’

 

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের ভয়ঙ্কর রাতে ঢাকাসহ পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আক্রমণের ফলে পাকিস্তানের ভবিষ্যতের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়ে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয় এবং তথাকথিত রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে বিচারের জন্য পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে আওয়ামী লীগের নেতা বঙ্গবন্ধু শেষ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

 

এরপর পাকিস্তানি বাহিনী আক্রমণ শুরু করলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। কারাবন্দি বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যূদয় ঘটে বাংলাদেশের।

 

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা এবং ৩ নভেম্বর কারাগারের অভ্যন্তরে চার জাতীয় নেতাকে হত্যার পর সামরিক শাসনের নির্যাতন আর নিপীড়নের মধ্যে পড়ে ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনটি। নেতাদের মধ্যেও দেখা দেয় বিভেদ।

 

১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধুকন্যা ও বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় সভাপতি হিসাবে দেশে ফিরে কয়েকভাগে বিভক্ত আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করেন, আন্দোলন শুরু করেন সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদের বিরুদ্ধে।

 

২১ বছর পর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। পাঁচ বছর শাসনের পর ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়। কিন্তু, দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, কারচুপির মাধ্যমে তাদের হারানো হয়েছে।

 

পরবর্তীতে দেশে রাজনৈতিক সঙ্কটের পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে পুনরায় সরকার গঠন করে। 

 

২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পরিচালিত জোট সরকার গঠন করে। নতুন সরকারের নিকট সবচেয়ে দুঃখজনক ও অবিস্মরণীয় ঘটনা হচ্ছে রক্তক্ষয়ী বিডিআর বিদ্রোহ যা সরকার গঠনের তিন সপ্তাহের মধ্যে সংঘটিত হয়। সরকার বিদ্রোহ-উত্তর ঘটনাবলি সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রন করতে সমর্থ হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রাথমিক পর্যায়ের অন্যান্য পদক্ষেপগুলো হচ্ছে: প্রথমবারের মতো সংসদীয় কমিটি গঠন করে সংসদ সদস্যদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা; বিচারবিভাগের চূড়ান্ত রায় অনুসারে জাতির জনক হত্যার ৫ জন হত্যাকারীর বিচার সম্পন্ন করা; ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা; ইসলামি জঙ্গিসহ অন্যান্য জঙ্গিদের কার্যক্রম সীমিত করা; জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন, ১৯৭২ সালের সংবিধান পুনরুজ্জীবিত করা সহ আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ। 

 

এছাড়াও ২০১৪ সালে দশম ও ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতাসীন হয়।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল