• শনিবার   ২৩ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ৮ ১৪২৮

  • || ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

আজকের টাঙ্গাইল

তাসনিম খলিলের বিরুদ্ধে মামলা নিলো স্টকহোম পুলিশ

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ৮ অক্টোবর ২০২১  

সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে তাসনিম খলিলের বিরুদ্ধে গতকাল ৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ফৌজদারি মামলা করেছেন, সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি, অস্ট্রিয়া প্রবাসী মানবাধিকারকর্মী, লেখক ও সাংবাদিক এম. নজরুল ইসলাম, সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান, সুইডেন আওয়ামী লীগ নেতা প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান ভূইয়া, প্রকৌশলী হেদায়েতুল ইসলাম শেলী ও দালিল উদ্দিন।

মামলার বিবরনী থেকে জানা যায়, বিদেশে থাকা নেত্র নিউজ নামক অনলাইন ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ক্রমাগত ভুল বার্তা দিয়ে অপবাদ প্রচার করছেন তাসনিম খলিল।

বাংলাদেশের জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির শপথ নিয়ে নেত্র নিউজের (এনএন) ওয়েবসাইট, ইউটিউব এবং ফেসবুক পেজ ব্যবহার করছে সুইডেনে বসবাসরত পত্রিকাটির সম্পাদক তাসনিম খলিল। জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার জন্য ধোঁয়াশা ও গুজব ছড়ানো এবং প্রায়শই প্রধানমন্ত্রী এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রচারের জন্য বেছে নেয়া ব্যক্তি হিসাবে বিতর্কিত ভূমিকা পালন করছেন এই সাংবাদিক।

বাংলাদেশে করোনা মহামারী নিয়ে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগকে বিতর্কিতভাবে উপস্থাপন, যুদ্ধাপরাধের বিচারকে মানবাধিকার লঙ্ঘন, জাতিসংঘে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মিশনের প্রতি বিদ্বেষ সৃষ্টি করা থেকে শুরু করে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সকল অর্জনকে ম্লান করার এক মিশন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

তাদের এ সকল অসৎ প্রচেষ্টা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অধিকাংশ গণমাধ্যম প্রত্যাখ্যান করলেও অপপ্রচার অব্যাহত রেখেছেন তিনি। বরং দেশে উগ্রবাদী ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে তাদের পক্ষে প্রায়ই অবস্থান করতে দেখা যায় তাসনিম খলিলকে।

অভিযোগে বলা হয়, ১৯ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভাইরাস ধরা পরার পর যখন মহামারীর প্রকোপ ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসে, তখন নেত্র নিউজ তার অপপ্রচারে জানায়, সরকারের অব্যবস্থাপনার জন্য দেশে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হতে যাচ্ছে। যখন ভাইরাসে বিশ্ব জুড়ে মৃত্যুর সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছিলো, এমন এক সময় নেত্র নিউজের এমন সংবাদ প্রকাশ কোনভাবেই 'মুক্ত গণমাধ্যমের চর্চা' হতে পারে না বলে অভিযোগে বলা হয়।

২০১৯ সালের পর বিশ্ব জুরে যখন করোনা ছড়িয়ে পড়ছে তখন দেশের চিকিৎসা খাতকে আরও শক্তিশালী করতে অন্যান্য দেশের মতই কাজ শুরু করে বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে তখন 'কোন ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হচ্ছে না সরকারের তরফ থেকে' এমন সংবাদ প্রচার করা হয় নেত্র নিউজে, যা গণমাধ্যম নয় বরং সরকার বিরোধী কর্মীদের মতই আচরণ।

বিশ্ব জুরে করোনার প্রকোপে মৃত্যুর হ্রাস-বৃদ্ধি হলেও বাংলাদেশে করোনার প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে থাকা নিয়ে আশ্চর্যজনকভাবেই কোন মন্তব্য করেননি তাসনিম খলিল। এমনকি তার ওয়েব পোর্টাল, ফেসবুক বা টুইটারেও বিষয়টি নিয়ে কোন কথা বলা হয়নি।

 

বাংলাদেশের সাবেক সেনা প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের কারণে খুব দ্রুত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সেনা প্রেরণ হ্রাস হতে যাচ্ছে বলে জানান নেত্র নিউজের এই সংবাদ। কিন্তু এরপর উল্টো চিত্র দেখা যায়। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে উল্টো বাংলাদেশি সৈন্য প্রেরণের সংখ্যা আগের থেকে বেড়েছে।

তারা অনুমান নির্ভর আরেকটি সংবাদ প্রচার করে যেখানে বলা হয়েছিলো, ভারতের করোনার টিকা বাংলাদেশে কখনও পৌঁছাবে না। কিন্তু তাদের এই অনুমান নির্ভর সংবাদটিও সঠিক হয়নি। বাংলাদেশ সবার আগে ভারতের তৈরি করোনার টিকা পেয়েছে, সেটিও উপহার হিসেবে।

 

 

বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতায় লিপ্ত আনসার আল ইসলামের এক সদস্যের আটক হওয়া প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে তাসনিম খলিল বলেন, রাষ্ট্রিয়ভাবে হত্যার থেকে মৌলবাদীদের সঙ্গে জোট করা শ্রেয়। মূলধারার কোন গণমাধ্যমকর্মী এভাবে জঙ্গি ও মৌলবাদী গোষ্ঠীর পক্ষে কখনও অবস্থান নেয়নি, যেভাবে তাসনিম খলিল নিয়েছেন।

সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য তাসনিম খলিল অভিযোগ করেছিলেন, যে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা তৎকালীন সেনাপ্রধান তার জন্য রেখে দিয়েছেন এবং লকডাউন কার্যকর করার জন্য নিয়োজিত সৈন্যদের নিরাপত্তা ও উন্নত চিকিৎসায় কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার এ সকল অভিযোগও মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। 

দেশে সেনাবাহিনীর সকল সদস্যের জন্য এবং সাধারণ জনগণের জন্যও চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কারণেই মৃত্যুহার অনেক কম হয়েছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এটি স্পষ্ট যে সরকারের কৌশলের কারণেই বাংলাদেশে করোনা মহামারীতে মৃত্যু হার অনেক কম হয়েছে।

মহামারী চলাকালীন বাংলাদেশে কোভিড ভ্যাকসিন প্রদানের জন্য ভারত থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর, তাসনিম খলিল ভারতকে "মাতৃদেশ" হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন এবং ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে "বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশে নাগরিকদের প্রশাসনের পরিবর্তে বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয়দের জন্য ভ্যাকসিন প্রদান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ" ।

বাস্তবে, ভারত বাংলাদেশকে ভ্যাকসিন সরবরাহ করেছিল এবং বাংলাদেশে ভারতীয় নাগরিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে এমন কোনও শর্ত সংযুক্ত করা হয়নি। 

যাইহোক, এই পোস্টের সময় তাসনিম খলিলের জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির একটি মরিয়া প্রচেষ্টার পরামর্শ দেয় কারণ তারা ভ্যাকসিন এবং বাংলাদেশ সরকারকে ভারতের পুতুল হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা ছিল মাত্র।

 

গত বছর যখন কোভিড-১৯ নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল, তাসনিম খলিল তার নেত্র নিউজ নামক অনলাইন পোর্টাল এবং ফেসবুক পেজের মাধ্যমে “কোভিড সংক্রমণ কি বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক” শিরোনামে একটি নতুন গুজব শেয়ার করেছিলেন।

সেই সময়, সরকার সারা দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা বাড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করাসহ সরকার দেশবাসীকে নমুনা সংগ্রহের কেন্দ্রগুলির অবস্থান এবং চিকিৎসার জন্য অস্থায়ী হাসপাতাল এবং  জরুরী প্রয়োজনের জন্য নতুন হট লাইন চালু সম্পর্কে দেশবাসীকে অবহিত করেছে।

এছাড়াও সরকার মহামারীর কারনে লকডাউনের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য মানবিক সহায়তার ব্যবস্থা করছে।

 

উপরের ছবি বা ফেসবুক পোষ্টের মাধ্যমে তাসনিম খলিল বেলারুশীয় বিক্ষোভের রেফারেন্সে বাংলাদেশের রাস্তায় সরকার বিরোধী বিক্ষোভের আহ্বান জানান।

যাই হোক, ফ্রান্স বয়কটের দাবিতে চরমপন্থী সংগঠনগুলির দ্বারা উত্থাপিত কিছু মৌলবাদী সহিংস বিক্ষোভ ব্যতীত গত ১২ মাসের মধ্যে জনসাধারণের সাথে জড়িত এমন কোন প্রতিবাদ সংঘটিত হয়নি।

বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা এবং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির বিষয়ে স্ব-দাবি করা "স্বাধীন সাংবাদিক" -এর সামনে এই পোস্টটি তার প্রকৃত উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।

সুইডেনের রাজধানী স্টকহোম থেকে  সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি এম. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন,

"তাসনিম খলিল বাংলাদেশবিরোধী অপতৎপরতায় লিপ্ত। এই তথাকথিত সাংবাদিক সুইডেন বসে বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সরকার, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধু পরিবারকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।  তার 'নেত্র নিউজ' নামের অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুক, ইউটিউব চ্যানেল, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এইসব অপপ্রচার অব্যাহত রেখেছে। 

একটি ঘৃণ্য চক্র অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে। তাসনিম খলিল এই চক্রের অন্যতম সদস্য। লন্ডনে পলাতক বিএনপি নেতা তারেক রহমান এই চক্রের প্রধান। তাদের পেছনে আছে একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও তাদের দোসররা। এই অপপ্রচারের জন্য তারা বিপুল পরিমাণ টাকা ঢালছে।

আমরা মামলা করেছি এই জন্য যে, এ ধরণের অপপ্রচার আর চলতে দেওয়া যায় না। আইনগতভাবেই এটা বন্ধ হওয়া দরকার। সুইডেনের মাটিতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, এটা আমরা এই দেশের আইনের দৃষ্টিতে এনেছি।" 

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল