• সোমবার ১১ ডিসেম্বর ২০২৩ ||

  • অগ্রহায়ণ ২৬ ১৪৩০

  • || ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৫

আজকের টাঙ্গাইল

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সমৃদ্ধ আখাউড়ার কৃষি

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩  

আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কৃষিতে ধান, সবজি ফল ফুলে সমৃদ্ধ হয়ে উঠছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা। কৃষকরা প্রযুক্তির কল্যাণে বছরজুড়ে পৌরশহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার দেশি-বিদেশি নতুন নতুন পণ্য আবাদ করে এলাকায় চমক সৃষ্টির পাশাপাশি করছেন বাড়তি আয়ও। এরমধ্যে কেউ আবাদ করছেন জমিতে, কেউবা পুকুর পাড়, পতিত জমি, কেউবা ছাদে কিংবা বাড়ির আঙিনায়।
মৌসুম অনুযায়ী কৃষকরা আবাদ করছেন টমেটো, ব্রকলি, লেটুস, ক্যাপসিকাম, ড্রাগন, কারিপাতা, কিউজাই, গৌরমতি, বেনানা ম্যাংগো, আম্রপালি, থাই কাঁচামিঠা, মাল্টা, স্ট্রবেরি, রাম্বুটান, ল্যাংসাট, ত্বিন, আলুবোখারা, নাশপাতি। এছাড়া বছরজুড়ে উচ্চ ফলনশীল ধান, গম, ভুট্টা তেলজাতীয় উদ্ভিদ, সবজিসহ নানা প্রকারের ফল উৎপাদন হচ্ছে। ফলন ভালো হওয়ায় দিনদিন ঐসব সবজি-ফল বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কৃষিতে নতুন নতুন আবাদে বদলে যাচ্ছে তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থাও।

উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে আর নিজেদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব আবাদ করে অনেকেই সাফল্য অর্জন করেছেন। স্থানীয় একাধিক কৃষক জানান, এক সময় এলাকায় কৃষকরা জমিতে শুধু ধান চাষ করতেন। তবে বর্তমানে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ধান চাষে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। মৌসুম অনুযায়ী সারা বছরই আমন, বোরো আউসসহ উচ্চফলনশীল ধান আবাদ করছে। পাশাপাশি নানা প্রকারের সবজি বিদেশি ফলসহ তেলজাতীয় উদ্ভিদ, ফুল চাষাবাদ করে ভালো সাফল্য অর্জন করছেন কৃষকরা।

সরেজমিনে পৌরশহরের তারাগন, দেবগ্রাম, উপজেলার আদমপুর, আজমপুর, কৃষ্ণনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় কৃষকদের পাশাপাশি শৌখিন লোকজন প্রযুক্তির কল্যাণে জমিতে উচ্চ ফলনশীল ধান, সবজি চাষের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি নানা জাতের ফল চাষ করছেন। ভালো ফসল উৎপাদনে তারা দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন। এছাড়া স্থানীয় বাজারে এসব ফসলের ভালো দাম পাওয়ায় তারা বেশ লাভবান হচ্ছেন।

উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের আজমপুর নোয়ামোড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী মো. শাহাদাৎ হোসেন বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করছেন। তিনি বলেন, ১৫ বিঘা জমি কিনে মাল্টা, কমলা, কলা, আনার, লেবু, পেয়ারা, পেঁপে, লটকন, আম্রপালি আম, কারিপাতা, বল সুন্দরী বড়ইসহ নানা প্রজাতির মিশ্র ফলের বাগান গড়ে তুলেছি। এ বছর ঐ মিশ্র বাগান থেকে ১৮ লাখ টাকার উপর ফল বিক্রি হয়েছেন। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এখানে বছরজুড়ে নানা ফলের সমাহার থাকে। কোনো প্রকার কীটনাশক ছাড়া দেশীয় পদ্ধতিতে এ চাষ করছেন তিনি।

আখাউড়ার মোগড়া ইউনিয়নের ধাতুর পহেলা গ্রামের কৃষক মুস্তাকিম সরকার বলেন, দেশীয় পদ্ধতিতে মৌসুম অনুযায়ী ২৫ বিঘা জমিতে বার মাসই টমেটো, পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া, সাম্মাম, তরমুজ, ক্যাপসিকাম, বরইসহ নানা প্রকার সবজি ও ফল আবাদ করছি। দেশি-বিদেশি নানা প্রকারের ফল ও সবজি চাষ করে বছরে প্রায় ২০ লাখ টাকার উপর হয়। 

তিনি আরো বলেন, এসব জমিতে এক সময় শুধু ধান চাষ করা হতো। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে আর কৃষি অফিসের সার্বিক সহায়তায় দেশি-বিদেশি নানা রকমের সবজি, ফল চাষ করে সফলতা পেয়েছি।

উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, আখাউড়ার মাটি উর্বর হওয়ায় বছরজুড়ে এখানে ধান ও সবজির পাশাপাশি দেশি-বিদেশি নানা জাতের ফল চাষ করে কৃষকরা বেশ লাভবান হচ্ছেন। এছাড়া কৃষিতে উদ্ভাবিত নতুন ফসলের আগমনী বার্তা দ্রুতই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর হতে কৃষকদের জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষকদের হাতে কলমে প্রশিক্ষণ ও সরকারের দেওয়া সব সুযোগ-সুবিধা, প্রণোদনা প্রদান করা হচ্ছে।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল