• শনিবার   ১৭ এপ্রিল ২০২১ ||

  • বৈশাখ ৪ ১৪২৮

  • || ০৫ রমজান ১৪৪২

আজকের টাঙ্গাইল
সর্বশেষ:

৭ মার্চের ভাষণ প্রকৃত অর্থেই স্বাধীনতার ঘোষণা: প্রধানমন্ত্রী

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ৮ মার্চ ২০২১  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতার ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ছিল প্রকৃত অর্থেই স্বাধীনতার ঘোষণা। এতে একদিকে যেমন গেরিলাযুদ্ধের নির্দেশনা ছিল, অন্যদিকে জনগণকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতের রণকৌশলও ছিল। 

প্রধানমন্ত্রী ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পালন উপলক্ষে আজ রোববার বিকেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মূল অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার ৭ মার্চের ভাষণে ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম’ দুবার এই কথা বলেছেন এবং শেষবার সব থেকে জোর দিয়ে বলেছেন। অর্থাৎ এটা যে স্বাধীনতাসংগ্রাম বা যুদ্ধটা যে স্বাধীনতাযুদ্ধ হবে, তা তিনি স্পষ্ট বলে গেছেন। কাজেই একভাবে বলতে গেলে ৭ মার্চের ভাষণই ছিল প্রকৃত স্বাধীনতার ঘোষণা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ মার্চের ভাষণে বাঙালির অত্যাচার-নির্যাতন ও বঞ্চনার ইতিহাস এবং সব থেকে বড় কথা, এই ভাষণের মধ্য দিয়ে একটি যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার সঠিক দিকনির্দেশনা জাতির পিতা দিয়ে গেছেন। কারণ, একটা গেরিলাযুদ্ধ হবে, সেই যুদ্ধ করতে হলে কী কী করতে হবে—সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলা থেকে শুরু করে যার যা কিছু রয়েছে, তা নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে তিনি বলেছেন। শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা জানতেন, যে সময় স্বাধীনতার ঘোষণাটা অফিশিয়ালি তিনি দেবেন, সে মুহূর্তে তিনি হয়তো বেঁচে না–ও থাকতে পারেন। সে জন্য তাঁর এই ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্যেই তিনি স্বাধীনতার ঘোষণাটা দিয়ে গেলেন।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের পর থেকে সে সময়ের পূর্ব পাকিস্তান কীভাবে চলবে, জাতির পিতা তাঁর সব দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সব থেকে ঐতিহাসিক ব্যাপার হলো, তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তাঁর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি থেকে যে ঘোষণা দিতেন, সে নির্দেশনাতেই দেশ চলত। অফিস-আদালত থেকে শুরু করে ট্রেজারি চালান—সবকিছু বন্ধ, সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তখন ওই ৩২ নম্বরে। কেমন ছিল সেই নিয়ন্ত্রণ? এর উদাহরণ হিসেবে তিনি স্মৃতি রোমন্থনে বলেন, সে সময় ইয়াহিয়া খান বাংলাদেশে এলে কোনো বাবুর্চি বাবুর্চিখানায় কাজ করতে চাননি। বাধ্য হয়ে তখন প্রেসিডেন্ট হাউস থেকে টেলিফোন আসে, ৩২ নম্বর থেকে বলে দেওয়া হয় রান্নাঘরে যেন বাবুর্চিরা কাজ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, এ ধরনের অসহযোগ আন্দোলন পৃথিবীতে আর কোথাও হয়েছে বলে তাঁর জানা নেই। কেননা, জাতির পিতা যা যা নির্দেশনা দিয়েছেন, তা দেশের মানুষ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা জনগণের ম্যান্ডেট (সমর্থন) পেয়ে জনগণের নেতায় পরিণত হন এবং তাঁর কথাই এ দেশের মানুষ মেনে নিয়েছে। যুদ্ধের আন্তর্জাতিক সমর্থনের ক্ষেত্রে কে আক্রমণকারী হবে, আর কে আক্রান্ত হবে—সেটা একটা বড় ইস্যু হওয়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজের জীবনটা ঝুঁকিতে ফেলে বাংলাদেশের মানুষ যেন স্বাধীনতা পায়, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই এই রণকৌশল হাতে নেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঠিক যে মুহূর্তে পাকিস্তানি শাসকেরা নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল, সেই মুহূর্তেই তিনি তাঁর স্বাধীনতার ঘোষণাটা প্রচার করা শুরু করালেন এবং যেহেতু বাঙালিরা পাকিস্তানি দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে, সেহেতু পরে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন আন্তর্জাতিক সমর্থন পেতে কোনো বেগ পেতে হয়নি। তখন বিশ্বজনমত তাঁর পক্ষে (জাতির পিতার)।’

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল