• মঙ্গলবার   ০২ মার্চ ২০২১ ||

  • ফাল্গুন ১৮ ১৪২৭

  • || ১৯ রজব ১৪৪২

আজকের টাঙ্গাইল

হারিছ চৌধুরীর বাড়ি ঘিরে ‘মিনি টাউন’: কানাইঘাটের ‘হাওয়া ভবন’

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি ২০২১  

বিএনপির শাসনামলে সিলেটের এক নিভৃত পল্লীর বাড়ীটি ছিল বিভিন্ন স্তরের মানুষের পদচারণায় মুখর। কানাইঘাট উপজেলার দর্পনগরে অবস্থিত এই বাড়ীটির মালিক সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী৷ 
পূর্বাঞ্চলের ‘হাওয়া ভবন’ খ্যাত ক্ষমতাধর হারিছ চৌধুরীর বাড়ীর এলাকা সময়ের ব্যবধানে ক্ষমতার হাওয়ায় পরিণত হয়েছিল এক ‘মিনি টাউনে’৷ এখানে প্রশাসনিক কর্মকান্ড থেকে শুরম্ন করে ব্যাংক, ভ‚মি অফিস, পুলিশ ক্যাম্প, দাতব্য চিকিৎসালয়, পোষ্ট অফিস, মিনি চিড়িয়াখানা, প্রাথমিক স্কুল, বাস স্ট্যান্ড, গণশৌচাগার, শানবাঁধানো দীঘিসহ অনেককিছুই ছিল৷ পূর্বাঞ্চলের বিশেষ করে কানাইঘাট-জকিগঞ্জ নির্বাচনী এলাকার জনগণের ভাগ্য নির্ধারণ হত এ বাড়ি থেকেই৷ অবস্থা এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছিল যে, তার ক্ষমতার অপব্যবহার রূপ কথাকেও হার মানায়৷
এলাকাবাসীসূত্রে জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রী মর্যাদার হারিছ চৌধুরীর ক্ষমতার দাপটে এলাকা ছিল সবসময় তটস্থ৷ দলীয় নেতা-কর্মীরা তার কাছে নানা তদবিরসহ বিভিন্ন কাজে যেত। প্রশাসনের লোকজনও বিভিন্ন তদবির ও সুযোগ-সুবিধা আদায়ের জন্য তার চারপাশে ভীড় করত৷ পূর্বাঞ্চলের ‘হাওয়া ভবন’ খ্যাত এই বাড়ী থেকে নিয়ন্ত্রণ হত সবকিছু৷
অভিযোগ রয়েছে, হারিছ চৌধুরীর নিজ বাড়ীটি নদী ভাঙ্গনের কবল থেকে রক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুরমা নদী ভাঙ্গন রোধ (ডাইক) প্রকল্প থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে যা প্রকল্প ব্যয়ের সিংহভাগের চেয়েও বেশী৷ এ কারণে জোট সরকারের আমলে নদী ভাঙ্গন রোধে গৃহীত কানাইঘাটের দর্পনগর-গৌরিপুর পর্যন্ত এ প্রকল্পটির উদ্দেশ্যটি পুরোপুরিভাবেই ভেস্তে যায়৷ এ প্রকল্প থেকে গ্রামাঞ্চল ও এলাকা রক্ষার চেয়ে বেশী গুরুত্ব পায় হারিছ চৌধুরীর বাড়ীটি৷ 
জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালে হারিছ চৌধুরীর প্রভাবে তার বাড়ীর প্রবেশদ্বারের দক্ষিণ পাশে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক দর্পনগর শাখা স্থাপিত হয়৷ এতে দর্পনগরের মানুষ কিছুটা খুশি হলেও বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনায় না নিয়ে নিজ খেয়াল-খুশিমত ব্যাংক স্থাপনের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মহলে বিতর্কের শেষ ছিল না৷ 
ক্ষমতায় থাকাকালে ২০০৩ সালে হারিছ চৌধুরীর বাড়ীর প্রধান ফটকের দক্ষিণ পাশে পুলিশ ক্যাম্পটি স্থাপন করা হয়েছিল৷ জোট সরকার ৰমতা ছাড়ার পর পুলিশ ক্যাম্পটি তুলে নেয়া হয়৷ লোকমুখে বলা হয় মূলত হারিছ চৌধুরীর পরিবারকে নিরাপত্তা দিতে পুলিশ ক্যাম্পটি স্থাপন করা হয়েছিল৷
নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে তার বাড়ীর পাশে গড়ে তুলেন বন্য প্রাণীদের এক মিনি চিড়িয়াখানা৷ মায়া হরিণের মতো বিরল প্রজাতির প্রাণী তার চিড়িয়াখানায় স্থান পায়৷ 
বাড়ীর উত্তর পাশে অবস্থিত দাতব্য চিকিৎসালয়টি স্থাপিত হলেও এটি এলাকার বৃহত্তর জনগোষ্ঠির কোন সেবা কাজে তেমন আসেনি- বলেছেন এলাকাবাসী৷ তারা জানান, মূলত হারিছ চৌধুরীর পরিবারের লোকজন ও দলীয় নেতাকর্মীদের চিকিৎসা কাজে এটি ব্যবহৃত হয়৷ বর্তমানে দাতব্য চিকিৎসালয়টি নিজেই রোগী৷
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, মাত্র ১ কিলোমিটার অদূরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকা সত্ত্বেও সরকারের বিপুল টাকা ব্যয়ে হারিছ চৌধুরীর বাড়ীর পাশেই স্থাপন করা হয় অত্যাধুনিক প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন৷ খুব কমসংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে দর্পনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়টি চালু করা হয়৷
জোট সরকারের আমলেই হারিছ চৌধুরীর বাড়ীর পাশেই ইউনিয়ন ভূমি অফিস স্থাপিত হয়েছিল৷ জনগণের মতামতের কোন তোয়াক্কা না করেই ভূমি অফিসটি হারিছ চৌধুরীর বাড়ীর পাশেই স্থাপন করা হয়৷
ক্ষমতায় থাকাকালে পরিবারের লোকজন, দলীয় নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের দর্পনগরস্থ হারিছ চৌধুরীর হাওয়া ভবন খ্যাত বাড়ীতে যাতায়াতের সুবিধার্থে অজপাড়াগায়ে স্থাপন করা হয়েছিল বাসস্ট্যান্ড৷ এর প্রয়োজনীয়তা না থাকলেও অনেকটা ভয়ের কারণে চালক ও মালিকদের এ রুটে গাড়ী চালাতে হত৷
হারিছ চৌধুরীর বাড়ীতে একটি পোষ্ট অফিস স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল৷ বর্তমানে কর্তৃপক্ষ এখানে পোষ্ট অফিস স্থাপনের অপ্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছেন৷

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল