• রোববার   ১১ এপ্রিল ২০২১ ||

  • চৈত্র ২৮ ১৪২৭

  • || ২৯ শা'বান ১৪৪২

আজকের টাঙ্গাইল

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ৬৪ জেলায় পরিবেশ থিয়েটার

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ৮ মার্চ ২০২১  

চলছে স্বাধীনতার সাক্ষ্যবহ মার্চ মাস। অগ্নিঝরা এই মাসেই শুরু হয়েছিল মুক্তির সংগ্রাম। এরপর নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে ডিসেম্বরে অর্জিত হয়েছিল বিজয়ের গৌরবগাথা। মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিজয় অর্জনের মাঝে ঝরেছিল অজস্র প্রাণ। দেশের প্রতি জেলায় চলেছে পাক হানাদারদের নিষ্ঠুরতা। ঘটেছে গণহত্যার নির্মমতা। জেলায় জেলায় বধ্যভূমি গড়ে হত্যা করা হয়েছিল কবি-সাহিত্যিক, শিল্পী থেকে সাধারণ মানুষকে। সেসব বধ্যভূমিকে কেন্দ্র করে নির্মিত হচ্ছে পরিবেশ থিয়েটার। মঞ্চের পরিবর্তে সরাসরি গণহত্যার স্থানগুলোয় ঘটে যাওয়া বর্বরতার চিত্র মেলে ধরা হবে এসব নাটকে। স্থানীয় মঞ্চশিল্পীদের অংশগ্রহণে মঞ্চস্থ হবে এসব নাটক। রাজধানী ঢাকাসহ দেশে সহস্রাধিক শিল্পীর অভিনয়ে উপস্থাপিত হবে প্রযোজনাগুলো। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে দেশব্যাপী এই পরিবেশ থিয়েটার নির্মাণের উদ্যোগটি নিয়েছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

আগামী এপ্রিল মাস থেকে পর্যায়ক্রমে শুরু হবে মঞ্চায়ন। ২০২২ সালের জুন মাস পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মঞ্চস্থ হবে ৬৫ পরিবেশ থিয়েটার। ৬৪ জেলায় মঞ্চস্থ হবে ৬৪টি প্রযোজনা। এর বাইরে সবচেয়ে ভয়াবহ গণহত্যার সাক্ষ্যবহ খুলনার চুকনগর বধ্যভূমিতে উপস্থাপিত হবে আরেকটি প্রযোজনা।

বিশাল এই কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নে চলছে শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম। যেসব বধ্যভূমিকে উপজীব্য করে নির্মিত হবে পরিবেশ থিয়েটার সেগুলো নিয়ে গবেষণার কাজ চূড়ান্ত হয়েছে। গবেষণার মাধ্যমে বধ্যভূমিগুলোর তালিকা চূড়ান্ত করেছেন গবেষক মামুন সিদ্দিকী। বধ্যভূমিতে পরিবেশ থিয়েটার নির্মাণের পরিকল্পনা ও ভাবনায় রয়েছেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

প্রতিটি বধ্যভূমিতে উপস্থাপিত পরিবেশ থিয়েটারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবেন স্থানীয় জেলার মঞ্চনাটকের শিল্পীরা। জাতীয় পর্যায়ের খ্যাতিমান নিদের্শকদের সঙ্গে এসব পরিবেশ থিয়েটারের নির্দেশনা দেবেন স্থানীয় জেলার নাট্য নির্দেশকরা। সমন্বয়ের কাজটি করবে জেলা শিল্পকলা একাডেমি।

এ প্রসঙ্গে বধ্যভূমিতে পরিবেশ থিয়েটারের পরিকল্পক লিয়াকত আলী লাকী বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ। সেই স্বাধীনতাপ্রাপ্তির উল্টো পিঠে রয়েছে ত্যাগের করুণ ইতিহাস। লাখো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে বাঙালীর বিজয়। হানাদারদের নিষ্ঠুরতার বলি হতে হয়েছে নারী-পুরুষ থেকে শিশুকে। শিল্পের আলোকে সেসব ভয়ঙ্কর ঘটনার সাক্ষ্য দেবে এই পরিবেশ থিয়েটার। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্ম জানতে পারবে তাদের পূর্বপুরুষদের ত্যাগের কথা। সরাসরি বধ্যভূমিতে নাটকগুলো উপস্থাপিত হওয়ায় নির্মমতার সাক্ষ্যবহ ঘটনাগুলোর সঙ্গে সহজেই একাত্ম হতে পারবেন দর্শক। বিকশিত হবে তাদের দেশপ্রেম। শিল্পের আশ্রয়ে মননে ছড়িয়ে যাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। সেই সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবেই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী।

পরিবেশ থিয়েটার নির্মাণের জন্য ৬৪ জেলার বধ্যভূমির তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। যেসব স্থানে অনুষ্ঠিত হবে পরিবেশ থিয়েটার সেগুলো হলো- চাঁদপুরের বড় রেলস্টেশন বধ্যভূমি, ঢাকার রায়েরবাজার বধ্যভূমি, কুমিল্লা পুলিশ লাইন গণহত্যা বধ্যভূমি, গাজীপুরের বাড়ীয়া গণহত্যা বধ্যভূমি, নাটোরের উত্তরবঙ্গ চিনিকল গণহত্যা বধ্যভূমি, নড়াইলের জর্জ কোর্ট বধ্যভূমি, যশোরের চাঁচড়া বধ্যভূমি, জামালপুরের আশেক মাহমুদ কলেজ বধ্যভূমি, শেরপুরের সোহাগপুর গণহত্যা বধ্যভূমি, শরীয়তপুরের মনোহরবাজার বধ্যভূমি, বান্দরবানের কানাইজোপাড়া বধ্যভূমি, সুনামগঞ্জের নুইনগাঁও গণহত্যা বধ্যভূমি, সিলেটের শহীদ সামসুদ্দিন বধ্যভূমি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর স্টেশনপাড়া বধ্যভূমি, রাজবাড়ীর লোকসেড বধ্যভূমি, কুড়িগ্রামের হাতিয়া গণহত্যা বধ্যভূমি, মৌলভীবাজারের বধ্যভূমি ৭১ (সাধু বাবার গাছতলা), মানিকগঞ্জের তেরশ্রী বধ্যভূমি, রংপুরের রক্তগৌর (নিসবেতগঞ্জ বধ্যভূমি), বগুড়ার বাবুর পুকুর বধ্যভূমি, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা বধ্যভূমি, কিশোরগঞ্জের বরইতলা গণহত্যা বধ্যভূমি, বরিশালের ওয়াপদা পাক বাহিনীর গণহত্যা বধ্যভূমি, গাইবান্ধার কাশিয়াবাড়ী বধ্যভূমি, ঝিনাইদহের কামান্না গণকবর বধ্যভূমি, সাতক্ষীরার ঝাউডাঙ্গা বধ্যভূমি, খুলনার গল্লামারি বধ্যভূমি, ময়মনসিংহের জেলা পরিষদ ডাকবাংলো বধ্যভূমি, জয়পুরহাটের কড়ই কাদিপুর বধ্যভূমি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুলতানপুর গণহত্যা বধ্যভূমি, বাগেরহাটের রামপালের ডাকরা গণহত্যা বধ্যভূমি, মেহেরপুরের কোর্ট বিল্ডিং বধ্যভূমি, ফরিদপুরের ঈশান গোপাল বধ্যভূমি, নারায়ণগঞ্জের রক্তাবলী গণহত্যা বধ্যভূমি, কুষ্টিয়ার বংশীলতা/বিত্তপাড়া বধ্যভূমি, পঞ্চগড়ের ধাপধুপ বধ্যভূমি, ঠাকুরগাঁও জাঠিডাঙ্গা বধ্যভূমি, গোপালগঞ্জের জয় বাংলা পুকুর গণহত্যা বধ্যভূমি, ফেনী সরকারী কলেজ বধ্যভূমি, ঝালকাঠির পৌর খেয়াঘাট বধ্যভূমি, নেত্রকোনার স্মৃতি একাত্তর বধ্যভূমি, নরসিংদীর পলাশডাঙ্গা গণহত্যা বধ্যভূমি, ভোলার ওয়াপদা কলোনি গণহত্যা বধ্যভূমি, দিনাজপুরের বহলা গণহত্যা বধ্যভূমি, চট্টগ্রামের নাথপাড়া আবদুরপাড়া গণহত্যা বধ্যভূমি, রাঙ্গামাটির কাপ্তাইবাঁধ বিদ্যুত কেন্দ্র বধ্যভূমি, কক্সবাজারের আদিনাথ মন্দির গণহতা বধ্যভূমি, খাগড়াছড়ির তাইন্দং গণহত্যা বধ্যভূমি, মুন্সীগঞ্জের হরগঙ্গা কলেজসংলগ্ন বধ্যভূমি, টাঙ্গাইলের পানির ট্যাংক বধ্যভূমি, লালমনিরহাটের রেল স্টেশন গণহত্যা বধ্যভূমি, সিরাজগঞ্জের হরিনাগোপাল বাগবাটী গণহত্যা বধ্যভূমি, মাগুরার পিটিআই বধ্যভূমি, নওগাঁর আতাইকুলা গণহত্যা বধ্যভূমি, রাজশাহীর জোহা হল গণহত্যা বধ্যভূমি, পিরোজপুরের বলেশ্বর খেয়াঘাট বধ্যভূমি, পাবনার শহীদনগর ডাব বাগান বধ্যভূমি, মাদারীপুরের এ আর হাওলাদার জুট মিলস গণহত্যা বধ্যভূমি, নীলফামারীর গোলাহাট বধ্যভূমি, বরগুনা জেলখানা বধ্যভূমি, হবিগঞ্জের বাহুবল ফয়জাবাদ বধ্যভূমি ও পটুয়াখালীর মাতুব্বরবাড়ি গণকবর বধ্যভূমি।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল