• মঙ্গলবার   ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ||

  • ফাল্গুন ৬ ১৪২৬

  • || ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

আজকের টাঙ্গাইল
১০৮

‘স্কোয়াশ’ চাষ করে সফলতা পেলেন নওগাঁর আনোয়ার

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি ২০২০  

নওগাঁ জেলার রাণীনগর উপজেলা কালিগ্রাম ইউপির কালিগ্রাম দীঘিরপার গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে রকমারী সবজি চাষি যুবক মো. আনোয়ার হোসেন। শীত মৌসুমে অন্যান্য সবজির পাশাপাশি স্বল্প পরিমাণ জমিতে পরীক্ষামূলক স্কোয়াশ চাষ করলেন। আর এতেই একদিকে যেমন সফলতা পেয়েছেন, অন্যদিকে লাভের মুখও দেখেছেন।

 

তিনি জানান, বেশ কয়েক বছর ধরে ঝিঙ্গা, লাউ, মুলা, টমেটো, বাঁধা ও ফুল কপিসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করছেন। 

 

তবে ধাপের হাটে এই সবজি দেখে আদমদীঘির একজন বীজ বিক্রেতার পরামর্শে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলক স্কোয়াশের বীজ নেন। বাড়িতে মিষ্টি কুমড়া বা লাউয়ের মতো বীজ বপন করে গাছ গজিয়ে পরে জমিতে রোপণ করেন। প্রায় দেড় মাস পর ফল আসতে শুরু করে। স্কোয়াশ গাছ একদম মিষ্টি কুমড়ার মতো। পাতা, ডগা ও কাণ্ড দেখে বোঝার উপাই নেই যে, এটি মিষ্টি কুমড়া নাকি স্কোয়াশ গাছ। 

 

রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, মিষ্টি কুমড়া গোল হলেও স্কোয়াশ দেখতে বাঙ্গির মতো লম্বা এবং স্বাদে ও পুষ্টিতে মিষ্টি কুমড়ার মতোই। তবে মিষ্টি কুমড়ার গাছ অনেক লম্বা হলেও স্কোয়াশের গাছ সর্বোচ্চ এক থেকে দেড় ফিট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। 

 

তিনি আরো বলেন, এই সবজি পাহাড়ি এলাকা এবং বিভিন্ন দেশে চাষ হলেও দেশের এই অঞ্চলে এটি একেবারেই নতুন। আর নতুন এই সবজি চাষে চাষিরা সফল হলেও স্কোয়াশ চাষে তাদের ধারণা খুব একটা নেই। 

 

রাণীনগর উপজেলায় স্কোয়াশ প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলক চাষ হয়েছে দু-একটি জায়গায়। উপজেলার সিম্বা গ্রামের সৌরভ খন্দকারও চাষ করেছেন স্কোয়াশ সবজি। তিনি তিন কাঠা জমিতে চাষ করে সফলতা পেয়েছেন।

 

এদিকে বাজারে এই সবজিটি নতুন হলেও চাহিদা থাকায় প্রতি পিস ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি স্কোয়াশ দেড় থেকে আড়াই কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। সবজি হিসেবে এই এলাকায় স্কোয়াশ নতুন হওয়ায় এর চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে ও স্কোয়াশ ক্ষেত দেখতে স্থানীয় অনেক সবজি চাষি আসছেন ও পরামর্শ নিচ্ছেন।

 

আনোয়ার হোসেন আরো জানান, প্রায় আট শতক জায়গায় পরীক্ষামূলক চাষ করেছেন এবং বীজ ও কীটনাশক বিক্রেতার পরামর্শে পরিচর্যা করেছেন। চাষির তথ্য মতে, বীজ ক্রয়, জমি প্রস্তুত, লাগানো, সার এবং কীটনাশকসহ আট শতক জমিতে প্রায় দেড় হাজার টাকা খরচ হয়েছে। 

 

এ পর্যন্ত জমি থেকে প্রায় ছয় হাজার টাকার স্কোয়াশ বিক্রি করেছেন। এছাড়া এখনো প্রায় দুই-আড়াই হাজার টাকার স্কোয়াশ বিক্রি করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি জানান, প্রথমবারের মতো চাষ করায় খরচ একটু বেশি হয়েছে। স্বল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় আগামীতে আরো বেশি পরিমাণ জমিতে স্কোয়াশ চাষ করবেন।

 

শহিদুল ইসলাম আরো বলেন, স্কোয়াশ সবজি চাষে আমাদের তেমন ধারণা নেই। এই এলাকায় যে দু-একজন চাষ করেছেন তারা সফল ও লাভবান হয়েছেন। তাদের দেখাদেখি অনেকেই অফিসে  পরামর্শ নিতে আসছেন। কিন্তু স্কোয়াশ চাষে সঠিক ধারণা না থাকায় কৃষকদের পরামর্শ দিতে পারছি না। তারপরেও আমরা যেটুকু ধারণা নিয়েছি তা থেকে বলা যায়, স্কোয়াশ চাষ বেশ লাভজনক। আশা করছি আগামী মৌসুমে ব্যাপক হারে স্কোয়াশ চাষ হবে।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল
কৃষি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর