• শনিবার   ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ||

  • ফাল্গুন ১৫ ১৪২৭

  • || ১৬ রজব ১৪৪২

আজকের টাঙ্গাইল

মাছের ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করলো সিকৃবি!

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

সিলেট কৃষি বিশ^বিদ্যালয় গবেষণার ক্ষেত্রে একের পর এক সাফল্য দেখাচ্ছে। এবার মাছের ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করে সাফল্য দেখিয়েছেন এই বিশ^বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। পৃথিবীতে মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম হলেও কার্যকর ভ্যাকসিনের অভাবে প্রতিবছর বিভিন্ন রোগে প্রচুর পরিমাণ মাছে মড়ক দেখা দেয়। ফলে মৎস্য উৎপাদন কমার পাশাপাশি মৎস্য চাষিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাছের মড়ক থেকে রেহাই পেতে এবার প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্যবহার উপযোগী মাছের ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেছেন
 

সিলেট কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের মৎস্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী প্রফেসর ড. মো. আবদুল্লাহ আল মামুন।

 

গবেষণায় দেখা গেছে, ‘বায়োফিল্ম’ নামে ভ্যাকসিনটি স্বাদুপানিতে চাষ করা মাছের অ্যারোমোনাস হাইড্রোফিলা (অবৎড়সড়হধং যুফৎড়ঢ়যরষধ) নামক ব্যাকটেরিয়াজনিত ক্ষত, আলসার, পাখনা ও লেজ পচা রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর। জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, চিলিসহ বিশে^র বিভিন্ন দেশে ১৮ প্রজাতির মাছে ২৮ ধরনের ভ্যাকসিন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্যবহার হলেও বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এই ভ্যাকসিন মৎস্য চাষে নবদিগন্তের সূচনা করবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।
মূলত স্বাদুপানির বিভিন্ন মাছসহ পাঙ্গাশ মাছের ব্যাকটেরিয়াজনিত মড়করোধে এই বায়োফিল্ম ভ্যাকসিনটি উদ্ভাবন হয়েছে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, ভ্যাকসিন খাওয়ানোর পর মাছের প্রত্যাশিত মড়ক রোধ করা সম্ভব। বায়োফিল্ম একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত ভ্যাকসিন যা, প্ল্যাকটোনিক ব্যাকটেরিয়াকে ল্যাবরেটরিতে বায়োফিল্ম পর্যায়ে নেওয়ার মাধ্যমে অণুজীবের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধে বিশেষ বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
গবেষক ড. মামুন জানান, পাঙ্গাশ মাছের ওপর গবেষণা করে ভ্যাকসিনটি উদ্ভাবন করা হলেও ভ্যাকসিনটি স্বাদুপানিতে চাষযোগ্য ইন্ডিয়ান মেজর কার্প যেমনÑ রুই, কাতলা, কই, শিং প্রভৃতি মাছের ক্ষেত্রে খুবই কার্যকর। প্রথমে গবেষণাগারে তৈরিকৃত বায়োফিল্ম ভ্যাকসিন নির্দিষ্ট মাত্রায় মাছের খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে খাওয়াতে হবে। পাঙ্গাশ মাছের ক্ষেত্রে ভ্যাকসিনটি শতকরা ৮৪ ভাগ কার্যকর বলে গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে। অচিরেই ভ্যাকসিনটি নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন করা হলে দেশীয় বাজারে স্বল্পমূল্যে ভ্যাকসিন পাওয়া সম্ভব হবে।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল