• মঙ্গলবার   ১৩ এপ্রিল ২০২১ ||

  • চৈত্র ৩০ ১৪২৭

  • || ০২ রমজান ১৪৪২

আজকের টাঙ্গাইল

মধুপুরে নার্সারী করে ওমরের সফলতা অর্জন

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ৫ এপ্রিল ২০২১  

টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ে নার্সারী করে সফলতা অর্জন করেছে ওমর শরীফ। ৩২ বিঘা জমির উপর গড়ে তুলা তার এ বিশাল নার্সারীতে বর্তমানে ৩’শ প্রজাতির গাছের চারা রয়েছে। মধুপুর শহর থেকে ৫ কি.মি. দূরে অরণখোলা ইউনিয়নের কাকরাইদ গ্রামে গিয়ে কথা হয় নার্সাারীর (আক্সিজেন কারখানা) মালিক ওমর শরীফের সাথে।

তিনি জানায়, নার্সারীর সাফল্যের কাহিনী। এক সময় ওমর শরীফ হতদরিদ্র ছিল। পুঁজি ছিল না। সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হতো। সংসার ছিল অভাব অনটনে জর্জরিত। ছিল না কোন কর্মসংস্থান। কি করবেন? ভাবতে ভাবতে দিন কাটে। ১৯৮৮ সালের কথা। এমন সময় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রশিকা স্থানীয় জলছত্র, কাকরাইদসহ বিভিন্ন এলাকার ৪৬ জনকে নার্সারীর উপর প্রশিক্ষণ দিবে শুনে সে এগিয়ে যায়। বনায়ন বা নার্সারীর উপর প্রশিক্ষ করেন। শিখেন কিভাবে নার্সারী করে চারা উৎপাদন করা যায়। ৩দিন প্রশিক্ষণ করে ১শ’৭০ টাকা ভাতা পান। ১’শ ৭০ টাকা দিয়ে শুরু করেন নার্সারী। পরে প্রশিকা থেকে ৫০ হাজার টাকা লোন নেন। বাড়ির চারপাশে করেন নার্সারী। চারা বিক্রি করে লাভ আসে ৯০ হাজার টাকা। পরের বছর ২৫ মাইল নামক স্থানে আরো জমি বাড়িয়ে বড় করে গড়ে তোলেন নার্সারী।

পরে ওমর শরীফ তার মেয়ের নামে নার্সারীর নাম দেন সুমি নার্সারী। নার্সরীতে বিভিন্ন প্রাজতির ফুল, ফল, শোভা বর্ধন চারা উৎপাদন শুরু করেন। হাটে বাজারে নিয়ে যান চারা। বাড়ে পরিচিতি। বিভিন্ন কৃষি মেলায় স্টল নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে চারা বিতরণ করে ও দুর্লভ দুষ্প্রাপ্য গাছের চারা উৎপাদনের জন্য প্রশাসন থেকে পুরো জেলায় সুনাম খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। এখন সব মিলিয়ে ৩২ বিঘা জমির উপর বিশাল নার্সারী। তার নার্সারীতে ২৫ জন শ্রমিক দৈনিক কাজ করে। তিনি জানান, নার্সারী করতে অনেক টাকার প্রয়োজন তাই তিনি ব্যাংক থেকে ১০ লক্ষ টাকার লোন করেছেন। মৌসুম শেষে টাকা পরিশোধ করেন এবং আবার কাজের সময় লোন করেন।

তার নার্সারীতে দেশি বিদেশী আম বারি-৪, কিউজাই, দামভোল, মাই, বেনানা আম, ফোরকেজি, আলফানসো, হানিকিউ, ছোয়ানছো, থালান, সূর্যডিম, তোতাপুরি, থাইকোষমিঠা, চুকানান, থাইজাম্বুরা আম, গেড়িমতি, থাইল্যান্ড, আমেরিকাপালমাল, আমেরিকাসুন্দরী, আমরুপালিসহ প্রায় ৫০ জাতের দেশি বিদেশী আম চারা সমাহার সাজিয়েছেন।

এছাড়া আম, জাম, কাঠাল, পেয়ারা, থাইলিচু, রামভুটান, এবেকাডো, আলুবোলেরা, জামালফল, সাতকরা, তৈকর, থাইসেভেন পেয়ারা, লটকন, বহেরা, আমলকি, কদবেল, সেকলেছলেবু, জামরুল, থাইমিষ্ঠি তেতুল, বেদেনা, ডালিম, পাকিস্তানী মালটা, আপেল, সাদা আপেল, কমলা, নাসপাতিসহ প্রায় শতাধিক প্রজাতির ফলের চারা রয়েছে।

অপরদিকে শোভাবর্ধন গোলাপ, রঙ্গন, বেলি, ৪ ধরনের জবা, জুই, থালতি, টগর, গন্ধরাজ, হাসনাহেনা, বাগানবিলাস, সাদা জিনিয়া, কসমস, সূর্য্যমূখী, চায়না টগর, পাতাবাহারসহ প্রায় ১’শ প্রজাতির শোভাবর্ধন ফুলের চারা উৎপাদন করেন।

এখন আর ওমর শরীফের পিছনে তাকাতে হয় না। তিনি মধুপুর শহরের জমি কিনে গড়ে তোলেন পাকাবাড়ি। এখন এলাকা থেকে শুরু করে কয়েক জেলার মানুষ সুমি নার্সারীর ওমর শরীফকে চিনেন। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের সাথে তিনি জড়িত। তার সংসারে ১ ছেলে ও ১ মেয়ে।
ওমর শরীফ আরো জানান, তিনি পরিবেশের জন্য কাজ করতে চান। দেশি প্রজাতির চারা লাগানোর পরামর্শ তার। দেশি প্রজাতির ফলের গাছ লাগালে এক দিকে পুষ্টি পাবে অন্য দিকে অর্থ ও কাঠ দুই আসবে।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল