• বুধবার   ১২ মে ২০২১ ||

  • বৈশাখ ২৯ ১৪২৮

  • || ৩০ রমজান ১৪৪২

আজকের টাঙ্গাইল
সর্বশেষ:
ধুনটে নমুনা শস্য কর্তনের উদ্বোধন বকশীগঞ্জের নিলাক্ষিয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনের ড্রেজার মেশিন ধ্বংস প্রধানমন্ত্রীর উপহার কর্মহীনদের মাঝে তুলে দিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী সখীপুরে এমপি’র উন্নোয়নমূলক কাজের প্রশংসা করে গেইট ও বিলবোর্ড বকশীগঞ্জে ৪৪ জন মহিলার মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ সখীপুরে আর্ত-সন্ধ্যাণ ব্লাড ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ বকশীগঞ্জ মাস জুড়ে ইফতার বিতরণ করছে থানা পুলিশ দেওয়ানগঞ্জে দরিদ্র পরিবারদের মাঝে ঈদবস্ত্র ও নগদ অর্থ বিতরণ ঘাটাইল উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দকে জেলার সতর্কবার্তা গরীবের সাহায্য আত্মসাৎকারী ভিক্ষুকের চেয়ে খারাপ : মির্জা আজম

ভূঞাপুরে ফার্নিচার মিস্ত্রির লেখা ২০০ গান, চান প্রতিভার সুযোগ

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০২১  

একজন ফার্নিচার মিস্ত্রি। তার নিজের প্রতিভায় ২০০ গান লিখেছেন। সুরও দেন নিজেই। কোনো শিল্পী বা কারো গান কপিও করেননি। শ্রোতাদের এই ২০০ গান শুনানোর আশায় বুক বেঁধেছেন তিনি। দরিদ্র থাকায় নিজের গান নিয়ে পিছিয়ে পড়েছেন অনেকটা। কাজের সময় বা কাজের ফাঁকে বাদ্যযন্ত্র ছাড়াই পাগলের মতো গান গেয়ে থাকেন। আবার কাজ শেষে অবসর সময়ে গ্রামের আঁকা-বাঁকা মেঠোপথেও নিজের লেখা গানগুলো গেয়ে থাকেন তিনি।
 
বলছিলাম অন্যরকম গান ও গানের প্রতিভাবান এক গান লেখক বা গান প্রেমির গল্প। তিনি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের খড়ক মধ্য পাড়ার বাসিন্দা হতদরিদ্র মুহাম্মদ ফরমান। তিনি বলেন- ‘বাল্যকালেই বাবা-মাকে হারিয়েছি। সে থেকে নিজে নিজে গান লেখার চেস্টা করি। এখনো করে আসছি।’

ফার্নিচার মিস্ত্রি বলেন- ‘অভাব-অনটনের সংসারে বেশি দূর লেখাপড়া করাও সম্ভব হয়নি। সমাপনী পাস করে পড়াশোনা জীবনের সমাপ্তি ঘটে। কিন্তু গান লেখা ও গাওয়া সমাপ্তি না করে নিজের মতো করে চলতে থাকি। তখন ছোট থাকায় কেউ সহযোগিতা করেনি। কামলা দিয়ে সংসার হাল ধরেছি আর গান করেছি।’ আমার লেখা ২০০ গানের মধ্যে ৫০টি গান বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা। যা আমি প্রধানমন্ত্রীকেও শুনাতে চাই।

প্রতিভাবান ফার্নিচার মিস্ত্রী মুহাম্মদ ফরমান

গান প্রেমি ফরমান বলেন- ‘দরিদ্রতার কারণে কোথাও গানের সুযোগ হয়নি। এনিয়ে অনেকেই অবহেলা ও কটুকথা শুনিয়েছেন। এতেও আমি কখনো দুঃখবোধ করেনি। বরং খুশি হই। তবে এখন আশা কোন মিডিয়া বা স্টুডিওতে গান করার। কিন্তু কে করে দিবে আমার এই মনের আশা পূরণ।’
 
এসব বিষয় নিয়ে কথা হয় তার স্ত্রীর সাথেও। তিনি বলেন- ‘দাম্পত্য জীবনের আগে থেকেই সে গানের ভক্ত ছিল। তার গান অন্য আট দশজনের মত না। নিজের লেখা গান করেন। আমাদের সংসারের অভাব থাকায় কোথাও গানের সুযোগ পাননি তিনি।’
 
তার স্ত্রী আরও বলেন- ‘এলাকায় বা আশ-পাশে কোথাও গানের প্রোগাম থাকলে কাজকর্ম ফেলে রেখে সেই অনুষ্ঠানে ছুঁটে যায় গান করার জন্য। কিন্তু গান গাওয়ার সুযোগ না পাওয়ায় হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। এতেও দুঃখ করেননা। কেননা আশায় থাকেন হয়তো সুযোগ হবে কোনদিন।’

স্থানীয়রা জানান- ‘ফরমান খুবই দরিদ্র। পেশায় ফার্নিচার মিস্ত্রি। কাজের ফাঁকে ফাঁকে গান লেখেন ও গাঁয়। ওর মতো গান প্রেমি চোখে পড়েনি। ছোট থেকেই গান করে আসছে। কিন্তু অভাব থাকায় অন্য কোথায় গান করার সুযোগ পায়নি। সংসার জীবনে ফরমান খুব কষ্ট করে জীবিকা নির্বাহ করেন। আমরা ওর গান যখন শুনি ভাল লাগে। তাই আমরা চাই এই প্রতিভাবান লোকটি কোথাও গানের সুযোগ পাক।’

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল