• মঙ্গলবার   ১৩ এপ্রিল ২০২১ ||

  • চৈত্র ৩০ ১৪২৭

  • || ০২ রমজান ১৪৪২

আজকের টাঙ্গাইল

বাংলাদেশে নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা আইন হচ্ছে

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ২ মার্চ ২০২১  

দেশে নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আইন হচ্ছে। এই আইনের অধীনে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহীতাদের সুরক্ষা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা হবে। রোগীর প্রতি পালনীয় পেশাগত নৈতিকতা ও দায়িত্ব এই আইনের অধীনে তৈরি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হবে। চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো ধরনের অপরাধ হলে তার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচার হবে। বিচারে অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত হলো বিভিন্ন ক্ষেত্রে এক লাখ টাকা থেকে শুরু করে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি তিন মাস থেকে একেবারে তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান থাকছে। আজ এই আইনের খসড়া নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আহ্বান করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। খসড়া আইনে অবহেলা থেকে শুরু করে কর্মস্থলে কাজের ধরন, চিকিৎসকের ভূমিকা, চিকিৎসা সহায়তাকারী, ব্যক্তিগত চেম্বার, পেশাগত নৈতিকতা, বেসরকারি চিকিৎসাসেবা, বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স দেওয়া ইত্যাদি বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে রোগীর ক্ষতি সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো রোগী শারীরিক-মানসিক ও আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার কী সমাধান হবে তা জরিমানার ভিত্তিতে নিরূপণ করা হবে। জানা গেছে, বর্তমানে দেশে অসংখ্য বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে। এসব হাসপাতালের সেবা
 নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যে কারণে বেসরকারি হাসপাতাল স্থাপনের ব্যাপারে সরকার যে লাইসেন্স দেয় তা মূলত মানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। বেসরকারি হাসপাতালের জন্য যারা আবেদন করবেন তাদের আবেদন পাওয়ার কমপক্ষে ১২০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে। তবে যেসব শর্ত রয়েছে তা অবশ্যই পূরণ করতে হবে। যেসব শর্ত পূরণ করতে হবে এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছেÑ হাসপাতালে অবস্থান উপযোগী রোগীর স্বাস্থ্যকর পরিবেশ। এর পাশাপাশি প্রতি রোগীর জন্য কমপক্ষে ৮০ বর্গফুট জায়গা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অস্ত্রোপচার কক্ষ, প্রয়োজনীয় মেডিকেল যন্ত্রপাতি, পর্যাপ্ত জীবন রক্ষাকারী ওষুধপত্র, নির্দিষ্ট সংখ্যক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ব্যক্তি ও রোগীর চিকিৎসা ও তদারকি জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক শল্য চিকিৎসক থাকতে হবে।

প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, সরকারের নিযুক্ত কোনো কর্মকর্তা যেকোনো হাসপাতালে যেকোনো সময়ে প্রবেশ করতে পারবেন। একই সঙ্গে পরিদর্শন করতে পারবেন। পরিদর্শনের সময় রেজিস্টার ও চিকিৎসাসেবা সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি বা কাগজ দেখতে পারবেন। কোনো কিছু ব্যত্যয় দেখা গেলে কাগজপত্র কিংবা অন্য কিছু জব্দ করতে পারবেন। তবে রোগীর কোনো ধরনের রোগ সংক্রান্ত কিছু থাকলে তা সংশ্লিষ্ট রোগীর অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া সংগ্রহ করা যাবে না।
খসড়া আইনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকার লাইসেন্স বাতিল করার আগে লাইসেন্স গ্রহণকারীর আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ১৫ দিন সময় দেবেন। লাইসেন্স বাতিল হয়ে গেলে চিকিৎসাধীন রোগীদের অন্য কোনো বেসরকারি হাসপাতালে নিজ দায়িত্বে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে। বেসরকারি হাসপাতালে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, নির্ধারিত অফিস সময়ে বা পালাক্রমে দাফতরিক দায়িত্ব পালনের সময়ে কোনো বেসরকারি হাসপাতালে বা ব্যক্তিগত চেম্বারে সেবা দিতে পারবেন না। ছুটির দিনে যদি কর্মস্থলের বাইরে যান আর চিকিৎসা দেন তা হলে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।
হাসপাতালে সেবা চার্জ বা ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে খসড়া আইনে বলা হয়েছে, সরকার সময় সময় গেজেট জারি করে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সেবা ও রোগ পরীক্ষা-নিরীক্ষার চার্জ বা ফি নির্ধারণ করবে। আর তা সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে বা চেম্বারের সামনে দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। বেসরকারি হাসপাতালগুলো দরিদ্র রোগীদের জন্য শতকরা ৩ ভাগ শয্যা সংরক্ষণ রাখবে। একই সঙ্গে কম মূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফি নেবে।

প্রত্যেক হাসপাতালে রোগীর সেবা সংক্রান্ত রেজিস্টার সংরক্ষণ করতে হবে। প্রয়োজন হলে তা আদালতকে সরবরাহ করতে হবে। সন্দেহজনক মৃত্যু কিংবা আত্মহত্যা, বিষপ্রয়োগ, বেআইনি গর্ভপাত, অগ্নিদগ্ধ, দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতি হলে তা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী নিকটস্থ থানায় অবহিত করবেন।
বিদেশি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী নিয়োগ করা যাবে। তবে এর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। এমনকি বিদেশি অর্থায়নে হাসপাতাল স্থাপন করা যাবে। তার জন্য অনুমতির প্রয়োজন হবে।
খসড়া আইনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, এই আইনের বিধান লঙ্ঘন হলেই তা অপরাধের আওতায় আসবে। চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ আদালতে এলে এর জন্য তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াও চিকিৎসক থাকবেন। অপরাধগুলো জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা মেট্রোপলিটন অথবা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে বিচার হবে। নির্ধারিত পেশাগত দায়িত্ব পালনে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ব্যক্তি বা হাসাপাতাল কর্তৃক অবহেলা প্রদর্শন অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধ আপসযোগ্য ও জামিনযোগ্য।

কোনো বেসরকারি হাসপাতাল যদি বিধি লঙ্ঘন করে তার জন্য পাঁচ লাখ টাকা ও তিন বছর কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হচ্ছে প্রস্তাবিত এই আইনে। কোনো সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক যদি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয় তার জন্য সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হচ্ছে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রত্যেক হাসপাতালে জরুরি সেবা না থাকলে তার জন্য কমপক্ষে পাঁচ লাখ টাকার জরিমানার বিধান রাখা হচ্ছে। আর কোনো হাসপাতাল বা চেম্বারে সেবাগ্রহণকারীর জন্য কোনো ধরনের বসার স্থান না রাখে তার জন্য ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান থাকছে। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার চার্জ নেয় তা হলে এর জন্য দুই লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হচ্ছে। চার্জ ফির জন্য রশিদ দেওয়া বাধ্যবাধকতা করা হচ্ছে। যদি কেউ দিতে না পারে তা হলে তার জন্য এক লাখ টাকা জরিমানা কিংবা ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আদালত যা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করবে তা দিতে বাধ্য হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। যদি সময় মতো না দেয় তা হলে সরকারি আদায় আইনের প্রয়োগ করা হবে।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল