• শুক্রবার   ১৪ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২৯ ১৪২৭

  • || ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

আজকের টাঙ্গাইল
সর্বশেষ:
৮৯

নারীর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে অগ্রাধিকারের ফল সংকটে মিলছে: সায়মা

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২০  

বিগত কয়েক বছরে শেখ হাসিনার সরকার স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর যে সুযোগ তৈরি করেছে, তার ফল প্রাণঘাতি নভেল করোনাভাইরাস  (কোভিড-১৯) মহামারীকালে দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অটিজম বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি সায়মা ওয়াজেদ হোসেন।

 

মঙ্গলবার একটি ভার্চুয়াল সেমিনারে যোগ দিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালকের এই উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক উদ্যোগের ক্ষেত্রে নারীকে কেন্দ্রে রেখে ভালো ফল পেয়েছে, কারণ আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী।

 

“এসব উদ্যোগের মাধ্যমে একটি প্রক্রিয়া গত দুই দশক ধরে বলবৎ আছে। মেয়েদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে যে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল, এই সংকটের সময়ে ব্যাপক ব্যবহারের মাধ্যমে তার ফল আমরা দেখেছি।”

 

নারী ও মেয়েদের ওপর করোনাভাইরাসের অভিঘাত নিয়ে বার্তা সংস্থা ইন্টার প্রেস সার্ভিস আয়োজিত ভার্চুয়াল সেমিনারে বক্তব্য দেন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন।

 

তিনি বলেন, “আমরা বাংলাদেশে এই কারণে সৌভাগ্যবান, আমাদের ইতোমধ্যে নারীদের জন্য কিছু সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী রয়েছে। আমাদের কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রাখা হয়েছে। সংকটের সময়ে খোলা থাকা স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে প্রসূতি নারীরা অগ্রাধিকার পাচ্ছেন।”

 

প্রযুক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের মতো দেশে প্রযুক্তির বিকাশ ঘটলেও অনেক সময় নারীদের সেখানে অভিগম্যতা থাকে না, তারা সেটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারছে না।”

 

তিনি বলেন, “নারী নেতৃত্ব থাকার কারণে নারী ও শিশুদের জন্য খাদ্য নিরাপত্তার বিষয় অগ্রাধিকার পেয়েছে। অনুদানের টাকা সরাসরি নারীদের কাছে যাওয়া নিশ্চিত করা এবং এটা তাদের জন্য সহজলভ্য করার ব্যবস্থা হয়েছে।

 

“আমাদের যে মোবাইলে আর্থিক সেবা আছে সেটাকে কাজে লাগানো হয়েছে। সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য একটা প্রক্রিয়া আমাদের আগে থেকেই ছিল।”

 

পড়াশোনা চালু রাখার বিষয়ে উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের যে সংসদ টেলিভিশন আছে সেটাকে বিনামূল্যে পড়াশোনার জন্য কাজে লাগানো হয়েছে। এটা বলা মানে এই না যে, সবার জন্য এটা কার্যকরী হয়েছে, তবুও এমন সুবিধা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে সিস্টেমগুলো নারীদের অভিগম্যতার বিষয় মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। এমনিতে আমার মনে হয়, নারীরা বেশি সহনশীল, পরিবারে সমস্যার সমাধানকারী।”

 

পরিবারিক সহিংসতা ও নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিক বিবেচনায় নিয়ে করোনাভাইরাস সংকট মোকাবেলার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “তারা যে অর্থনৈতিক কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সেটাকে মূল্যায়ন করতে হবে।”

 

নারীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে সায়মা ওয়াজেদ বলেন, “পারিবারিক পরিমণ্ডল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকার কারণে অন্য সদস্যদের খাবারের নিশ্চয়তা, অন্যদের দেখভালের বিষয়টি সংকটের সময় তাদের করতে হচ্ছে।”

 

নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য সব সময় উদ্বেগের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “গত কয়েক বছরে আমরা এটাকে প্রাধান্য দিয়েছি। এ কারণে তারা এখানে ভালো ফল বয়ে আনছে।

 

“বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে দেখেছি, সেখানে ভয় কিছুটা কম, সেন্স অব কমিউনিটি বেশি এবং একে অন্যের প্রতি সহযোগী মনোভাবাপন্ন। তাদের বাড়িঘরের গঠনও ভিন্ন রকম। শহরে আমরা কিছুটা কনক্রিটের আড়ালে পড়ে থাকি।”

 

জাতিসংঘের সাবেক সহকারী মহাসচিব হোজেফিনা স্টাবস বলেন, “অর্থনীতি পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারের কার্যক্রমে নারীদের নিয়ে আসতে হবে। তবে তারা শিক্ষা, প্রযুক্তি অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। সে দিকটিতে অগ্রাধিকার দেওয়া দরকার।”

 

খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবারের ক্ষেত্রে তাদের অবদানকে পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

 

নারীদের ওপর করোনাভাইরাসের অভিঘাত তুল ধরে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সাবেক নির্বাহী পরিচালক ক্যাথেরিন বার্টিনি বলেন, “নারীদের ওপর অসমানুপাতিক যে প্রভাব সমাজে রয়েছে, সেটিকে আরও তীব্র করেছে এই মহামারী। সেটা তার চাকরি থেকে শুরু করে পরিবার ব্যবস্থাপনা সব ক্ষেত্রে।

কোভিড-১৯ এর মতো সময়ে স্কুল ফিডিং ও ফুড ব্যাংকের ধারণার কার্যকারিতা প্রকাশ পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

এডুকেশন ক্যান নট ওয়েট (ইসিডব্লিউ) সংস্থার পরিচালক ইয়াসমিন শেরিফ সেমিনারে বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংঘাত ও সংকটের মধ্যে যেসব নারী বসবাস করছে, তারা অন্যদের তুলনায় বেশি কষ্টের মধ্যে রয়েছে।

 

“নারীদের মধ্যে পারিবারিক ব্যবস্থাপনাসহ কিছু বিষয়ে অতিরিক্ত যোগ্যতা রয়েছে, সেটাকে জাগিয়ে তোলার জন্য তাদের জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।”

 

বিশ্বব্যাপী নারীদের নেতৃত্বাধীন দেশ করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ভালো করার উদহারণ টেনে উইমেন ডেলিভারের পলিসি ও অ্যাডভোকেসি বিষয়ক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুজান প্যাপ বলেন, “কারণ নারীরা সার্বিক দিক বিবেচনায় নেন।”

 

তিনি বলেন, “একদিকে ভালো নেতৃত্ব দেখতে পাচ্ছি, অন্যদিকে আন্তঃলৈঙ্গিক সামাজিক-সাংস্কৃতিক বৈষম্যও তীব্র হতে দেখা যাচ্ছে।”

 

এক প্রশ্নের জবাবে সুজান বলেন, “ছোট কথায় বললে, কোভিড-১৯ মোকাবেলায় পরিকল্পনার ক্ষেত্রে নারীদেরকে আমরা সেভাবে দেখছি না। তবে বড় পরিসরে হলে আমরা নারীদের অংশগ্রহণ দেখতে পাই। সাড়া দান ও উদ্ধার লাভের ক্ষেত্রে।”

 

গুয়ারিনি ইনস্টিটিউট অব পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের উপদেষ্টা দোয়া আবদেল-মোতালের সঞ্চালনায় সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন ইন্টার প্রেস সার্ভিসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারহানা হক রহমান।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল