• শুক্রবার   ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ||

  • ফাল্গুন ১৫ ১৪২৬

  • || ০৪ রজব ১৪৪১

আজকের টাঙ্গাইল
৭৪

ধর্ষকের ক্রসফায়ারে রাজশহর...

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারি ২০২০  

চা এসে গেছে। সোলায়মান বন্ধুকে চা নিতে ইশারা করে নিজেও চায়ের কাপে চুমুক দিল। তারপর সামনের দিকে একটু ঝুকে এসে নিচু গলায় বলল, ‘শোন, তুই ভাবুক মানুষ। এসব নিয়ে ভাবিস বেশি। এতো বেশি ভাবাভাবির কিছু নেই। আইন আদালত করে ফাঁসি দিতে সময় লাগে। ক্রসফায়ারে ফাঁসি দিতে সময় লাগে না। পুলিশের আন্ডারে থাকা এসব আসামীরা এক একজন ফাঁসির আসামী। তুই কি জানিস, যাকে ক্রসফায়ারে দেয়া হয়, তার সাথে ফাঁসির আসামীর মতোই আচরণ করা হয়? এমনকি অনেক সময় আসামীকে ফাঁসির ডেটের মতো ডেটও জানিয়ে দেয়া হয়। আর যেদিন রাতে ক্রসফায়ার করা হয়, সেদিন আসামীকে জানিয়ে দেওয়া হয় তাকে আজ রাতে ক্রসফায়ারে দেওয়া হবে। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার কি জানিস, চোখে কালো কাপড় বেঁধে অজ্ঞাতস্থানে রাখা আসামীর মানসিক অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌছে যায় যে, বেশিরভাগ সময়েই আসামী নিজেই বলে, স্যার, আমাকে ক্রসফায়ারে দিয়ে দেন, স্যার। আমি এত অপরাধ করেছি, আমার আর বেঁচে থাকার কোন অধিকার নেই স্যার।’

 

‘আসামী নিজেই বলে?’ ইমতিয়াজ মাহবুব চায়ে চুমুক দিতে ভুলে গেল।

সোলায়মান বিজ্ঞের মতো মাথা নাড়ল। একটা দীর্ঘশ্বাসও বেরিয়ে পড়ল তার মধ্য থেকে। চায়ের কাপ সরিয়ে গলাটা আরও নিচু করে বলল, ‘হু। অনেক ভেতরের খবর আছে বন্ধু। এসব শুনে তোর কাজ নেই। কখনও ফ্লাশ হয়ে গেলে আর আমি ফ্লাশ করছি জানলে আমার চাকরি নিয়ে টানাটানি পড়ে যাবে।’

‘ফ্লাশ হবে না। তুই বল। আমার উপর ভরসা রাখতে পারিস।’

‘বেশিরভাগ আসামীই অনুতপ্ত থাকে। তাছাড়া পুলিশ একেবারে পাতি আসামীকে কখনও ক্রসফায়ারে দেয় না। যাদেরকে ক্রসফায়ারে দেয়া হয় তাদের অপরাধের বোঝা এতো ভারী যে তারা নিজেরাও মনে করে তারা ক্রসফায়ারেই উপযুক্ত। চোখে কালো কাপড় বেঁধে গাড়িতে ওঠানো হলেই আসামী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। তখন সেও চায় এই অবস্থার অবসান হোক। তাড়াতাড়ি ক্রসফায়ার হোক। ক্রসফায়ারের জন্য ফাঁসির মঞ্চের মতো মঞ্চের আবহ তৈরি করতে হয়। আসামীকে শেষ খাওয়া খাওয়ানো হয়। অধিকাংশ সময় প্যাকেট বিরিয়ানী। মৃত্যুর মুখে বসে আসামী ঠিকমতো খেতে পারে না। নষ্ট করে। নির্জন জঙ্গলে, নদীর চরে, পরিত্যক্ত এলাকায় একবারে মধ্যরাতেই নিয়ে যাওয়া হয় আসামীকে। এবং ঠিক ক্রসফায়ারের আগে আগে আসামীকে বলা হয়, সে কারোর কাছে ফোন করতে চায় কিনা। জীবনের শেষ ফোন। এবং একটা মাত্রই ফোন করতে পারবে সে। অবশ্যই আসামী ফোন করতে চায়। এবং সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার, প্রায় সব আসামীই একজনের কাছেই ফোন করতে চায়। আন্দাজ করতো সে কে হতে পারে?’

ইমতিয়াজ দুকাঁধ ঝাকিয়ে আন্দাজের অপারগতা জানাল।

‘মা!’

ইমতিয়াজ চমকে উঠল।

‘ক্রসফায়ারের অধিকাংশ আসামীকেই দেখা যায়, স্ত্রী পুত্র কন্যা নয়, প্রেমিকা নয়, জীবনের শেষ ফোনকলটি মায়ের কাছেই করতে চায়। আমার জীবদ্দ্শায় আমি যে কজনকে ক্রসফায়ারে দিয়েছি সবাই মায়ের সাথেই কথা বলতে চেয়েছে। মায়ের নাম্বারে ফোন দিয়ে তারা যে কথাটি বলে তার সারমর্ম এরকম, ‘মা, আমি ভাল আছি। তোমরা কোন চিন্তা করো না। ওদেরকে একটু দেখেশুনে রেখো। তুমি আমার জন্য দোয়া করো মা!’

ইমতিয়াজ মাহবুবের বুকের ভেতর থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে।

সন্ত্রাসী হোক, ধর্ষক হোক, খুনি হোক, সবার ভেতরেই মায়ের জন্য আকুতি থাকে। সবার আপনজন থাকে মা!

 

(এই উপন্যাসের প্রতিটি চরিত্র, ঘটনা, স্থান, ঘটনা সংঘটনের সময় কাল্পনিক। বাস্তব কোন চরিত্র, কিংবা ঘটনার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। কাকতালীয়ভাবে কোন কিছুর সাথে মিলে গেলে সেটা নিতান্তই কাকতালীয়...)

 

প্রিন্স আশরাফ

প্রিন্স আশরাফ

 

 

রাজশহরের পরী

উপন্যাস

প্রিন্স আশরাফ

বায়ান্ন প্রকাশনী

স্টল ৩৬৩

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল
সাহিত্য বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর