• বৃহস্পতিবার   ১৩ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২৮ ১৪২৭

  • || ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

আজকের টাঙ্গাইল
৫৫

চুয়েটের তৈরী নকশা অনুযায়ী পশুর হাটে সংক্রমণ ঝুঁকি কমবে ৯০ ভাগ

আজকের টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২০  

আর মাত্র কয়েকটা দিন, এর পরেই কোরবানির ঈদ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এবার স্বাস্থ্যবিধি না মেনে গতানুগতিকভাবে কোরবানির পশুর হাট বসালে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাবে।

 

এ অবস্থায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) একটি দল নগরীর সাগরিকা হাটকে কেন্দ্র করে কোরবানির হাটের একটি নকশা করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, এই নকশা অনুযায়ী পশুর হাট বসানো গেলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি অন্তত ৯০ শতাংশ কমিয়ে আনা যাবে।

 

গতকাল সোমবার কোরবানির পশুর হাটে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণ নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সম্মেলনকক্ষে এক মতবিনিময় সভায় নকশাটি উপস্থাপন করা হয়। সভায় করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট হাট ইজারাদারেরা উপস্থিত ছিলেন।

 

এই পশুর হাটের পরিকল্পনা করেছেন চুয়েট ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী সৈয়দ ইমাম বাকের এবং বাজারটির নকশা সম্পন্ন করেছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফারহান আরিফ। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকাট্রনিকস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হুমায়ূন কবির। তাঁরা জানান, সাগরিকা হাটকে ঘিরে নকশা করা হলেও স্বাস্থ্যবিধি এবং নির্দেশিকা মেনে দেশের যেকোনো প্রান্তে এই ধরনের হাট স্থাপন করা যাবে।

 

কেমন হবে এই পশুর বাজার

সনাতন হাটের মতো শুধু একটি প্রবেশপথ না রেখে এখানে একাধিক প্রবেশপথ রাখা হয়েছে। সব কটি প্রবেশপথ মিলিত হবে একটি ‘ডিজ ইনফেকশন চেম্বারে’। প্রতিটি প্রবেশপথে পৃথক সারি থাকবে এবং মানুষজন সারিবদ্ধভাবে ওই চেম্বারে প্রবেশ করবেন। এই সারিতে জনসাধারণের দাঁড়ানোর জায়গা নির্দিষ্ট করা থাকবে, যার মধ্য দিয়ে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত হবে।

 

এ ছাড়া প্রবেশপথের দুই পাশে দুটি বুথ থাকবে। একটি বুথ থেকে হাটের সার্বিক নিরাপত্তা পরিচালনা করা হবে। অন্যটি ঘোষণা মঞ্চ হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

 

চুয়েটের একটি দল কোরবানির পশুর হাটের নকশা করেছেন, তাঁদের ভাষ্য, এ রকম হাট বসালে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি ৯০ শতাংশ কমে যাবে। এই হাটব্যবস্থায় পশুগুলোকে সারিবদ্ধভাবে রাখার পরিবর্তে অনেকগুলো ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। প্রত্যেক মানুষের জন্য ১১ বর্গফুট ও প্রতিটি পশুর জন্য ১০ বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ রেখে এই ব্লকগুলো নির্মিত হবে এবং ব্লকে জায়গার পরিমাণের অনুপাতে পশুর সংখ্যা নির্ধারিত হবে। এই হিসাবে ২ লাখ ৭৪ হাজার বর্গফুটের সাগরিকা হাটে একসঙ্গে ১০ হাজার মানুষ ও ৪ হাজার গবাদিপশু অবস্থান করতে পারবে। তা ছাড়া ব্লকগুলোর কেন্দ্রে বিক্রেতাদের অবস্থান এবং গবাদিপশুর খাবার সংরক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা থাকবে।

 

এ ছাড়া প্রতিটি ব্লক এমনভাবে নির্ধারিত হবে, যেন এর চতুর্দিকে সমান প্রস্থের একটি হাঁটার রাস্তা থাকে। রাস্তাটিতে দুই সারিতে লোকজন চলাচল করবে। ব্লকগুলোর আয়তন এবং লোকসংখ্যা ও তাদের মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব নিশ্চিত করে রাস্তাটির প্রস্থ নির্ধারিত হবে। এই রাস্তায় যেন জটলা না হয়, সে জন্য দুটি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এক. ক্রেতারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে পশু নির্বাচন করতে পারবেন না। পশু নির্বাচনের জন্য ব্লকের সামনে একটি নির্দিষ্ট জায়গা রাখা হয়েছে এবং এর প্রবেশপথে একটি হ্যান্ড স্যানিটাইজার জোন রাখা হয়েছে। দুই. পশুর হাটের আয়তন বিবেচনায় একটি নির্দিষ্টসংখ্যক লোককে একবারে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে।

 

এই রাস্তা যেন কর্দমাক্ত না হয়ে যায়, সে জন্য প্রতিটি ব্লকের জন্য আলাদা পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া ক্রেতারা পশু কেনার পর বের হওয়ার জন্য রয়েছে আলাদা একটি বহির্নির্গমন পথ। হাটের স্বেচ্ছাসেবীরা তাঁদের এই পথের নির্দেশনা দেবেন।

 

কোরবানির হাটের এই নকশা সম্পর্কে জেনেছেন চুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের প্রধান জি এম সাদিকুল ইসলাম। এর প্রশংসা করে তিনি বলেন, এটিকে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। শিক্ষার্থীরাও সৃজনশীল কাজে উৎসাহ পাবেন।

আজকের টাঙ্গাইল
আজকের টাঙ্গাইল
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর